Monday, May 31, 2021

আমাদের সমাজে 'আজরাইল' নামটি কিভাবে প্রচলিত হল?

 May be an image of text

 

প্রশ্ন: আমাদের সমাজে 'আজরাইল' নামটি কিভাবে প্রচলিত হল?
উত্তর:
আজরাইল (عزرائيل/Azrael) শব্দটি আরবি বরং ইবরানি (হিব্রু/Hebrew) ভাষা থেকে এসেছে। জান কবজের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাকে ইবরানি (হিব্রু) ভাষায় 'আজরাইল/Azrael' বলা হয়। বিভিন্ন ইসরাইলি বর্ণনায় এ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়।
ইসলামি লেখকদের মধ্যে ফখরুদ্দিন রাযী, ইমাম বাগাভী প্রমুখ কতিপয় তাফসির কারক তাদের তাফসির গ্রন্থে এ নামটি ব্যবহার করেছেন। এ কারণে এ নামটি আমাদের সমাজে বিভিন্ন বক্তা, ইসলামি লেখক এবং সর্ব সাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে।
কিন্তু কুরআন-হাদিসে এই নামটির অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। কুরআনে তাকে বলা হয়েছে মালাকুল মউত (মৃত্যু দূত)। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ
"বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত 'মালাকুল মওত' তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।" [সূরা সজদা: ১১]
উল্লেখ্য যে, মালাকুল মউত বা মৃত্যু দূত একটি বৈশিষ্টগত নাম কিন্তু প্রকৃত নাম আল্লাহ ভালো জানেন।
- ইবনে কাসির রহ. বলেন,
وأما ملك الموت فليس بمصرح باسمه في القرآن، ولا في الأحاديث الصحاح، وقد جاء تسميته في بعض الآثار بعزرائيل
"মৃত্যু ফেরেশতার নাম কুরআন এবং সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে নাই। তবে কতিপয় আসার (পূর্বসূরিদের বক্তব্যে) তার 'আজরাইল' নামটি এসেছে।"
- শাইখ আলবানি বলেন,
"وأما تسميته بـ"عزرائيل" كما هو الشائع بين الناس فلا أصل له، وإنما هو من الإسرائيليات
"আর তার নাম 'আজরাইল'-যেমনটি লোকসমাজে প্রচলিত-এর কোনও ভিত্তি নাই। বরং এটি ইসরাইলি বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।"
আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

 

 

 

 

অমুসলিমদের তৈরি করা বিভিন্ন পণ্য ও আবিষ্কার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

 May be an image of text that says 'অমুমলিমদের তৈরি করা বিভিন্ন পণ্য ও আবিস্কার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?'

 

অমুসলিমদের তৈরি করা বিভিন্ন পণ্য ও আবিষ্কার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
▬▬▬▬◈◍◈▬▬▬▬
প্রশ্ন: ইহুদি-খৃষ্টানদের তৈরি করা বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার এবং তাদের বিভিন্ন আবিষ্কার, জ্ঞান-গরিমা ও অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিমদের ধর্মীয় রীতি-নীতি ও কৃষ্টি-কালচার অনুসরণ করা হারাম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
"যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।" [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছেদ হা/৪০৩১-হাসান সহিহ]
কিন্তু দুনিয়াবি বিষয়ে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে যে কারও অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান-গবেষণা, অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, কৌশল ইত্যাদি থেকে লাভবান হওয়া মোটেও দোষণীয় নয়। তবে তা হালাল কাজ ও উপকারী ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে। কেউ যদি তাদের আবিষ্কৃত কোনও কোন কিছুকে আল্লাহর নাফরমানি, পাপাচার ও শরিয়া বিরোধী কাজে ব্যবহার করে তাহলে তা নি:সন্দেহে হারাম।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহু ক্ষেত্রে দুনিয়াবি বিষয়ে অমুসলিমদের থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সাহাবিদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন। সুতরাং ইহুদি-খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ইত্যাদি যে কারও থেকে দুনিয়াবি বিষয়ে উপকৃত হওয়া জায়েজ আছে।
◈◈ অমুসলিমদের থেকে দুনিয়াবি বিষয়ে উপকৃত হওয়া সংক্রান্ত কিছু হাদিস:
◍ ১. সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে আযল করে থাকি। তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি এ কাজ কেন কর?
লোকটি বলল, আমি তার সন্তানের ক্ষতির আশংকা করি।
তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
‏"‏ لَوْ كَانَ ذَلِكَ ضَارًّا ضَرَّ فَارِسَ وَالرُّومَ ‏"‏
"যদি এ কাজ ক্ষতিকর হত তাহলে তা পারস্য ও রোমবাসীদেরকেও ক্ষতিসাধন করত।"
রাবি যুহায়র তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, এ কাজ (আযল) যদি এ উদ্দেশ্যেই হয় তাহলে তা করা সঠিক নয়। কেননা তা পারস্য ও রোমবাসীদের কোন প্রকার ক্ষতি করে নি।
[সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ১৭/ বিবাহ, পরিচ্ছেদ: ২৪. 'গীলা' অর্থাৎ স্তন্যদায়িনি স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের বৈধতা এবং আযল মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গ]
আযল অর্থ: স্ত্রীকে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে স্ত্রী মিলনের সময় বাইরে বীর্যপাত করা।
◍ ২. হাদিস বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ তৎকালীন শাম (সিরিয়া) ও ইয়েমেনের অমুসলিমদের তৈরি করা কাপড় পরিধান করতেন।
عن الْمُغِيرَة بْن شُعْبَةَ رضي الله عنه- قَالَ انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَلَقِيتُهُ بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَأْمِيَّةٌ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ، فَذَهَبَ يُخْرِجُ يَدَيْهِ مِنْ كُمَّيْهِ، فَكَانَا ضَيِّقَيْنِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتُ فَغَسَلَهُمَا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَعَلَى خُفَّيْهِ
صحيح البخاري، كِتَاب الْجِهَادِ وَالسِّيَر، باب الْجُبَّةِ فِي السَّفَرِ وَالْحَرْب، (561) رقم(2918). وكتاب اللباس، باب مَنْ لَبِسَ جُبَّةً ضَيِّقَةَ الْكُمَّيْنِ فِي السَّفَر، (1134) رقم(5798) باللفظ السابق. وصحيح مسلم، كتاب الطهارة، باب المسح على الخفين، (132) رقم (77-274)
وعند الترمذي والنسائي: جبة رُومِيّة.
وفي سنن أبي داود وعليه جبة من صوف من جباب الروم.
◍ ৩. তারা রোম ও পারস্য এবং ইসলাম পূর্ব জাহেলি যুগ থেকে প্রচলিত স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরি দিনার-দিরহাম ব্যবহার করতেন। ইসলাম আসার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বাতিল করে 'ইসলামি মুদ্রা' ব্যবস্থা চালু করেন নি।
◍ ৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পারস্য দেশ থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারেসি রা. এর পরামর্শ ক্রমে পারস্য দেশে খন্দক বা শহরের চারা পাশে গর্ত খনন করে শত্রু থেকে আত্মরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগান এবং মদিনাকে শহরকে রক্ষা করেন। যা 'খন্দক যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
مشورة سلمان الفارسي رضي الله عنه، حيث قال: إنا كنا بفارس إذا حوصرنا خندقنا علينا فأمر النبي -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- بحفر الخندق حول المدينة وعمل فيه بنفسه ترغيباً للمسلمين فسارعوا إلى عمله حتى فرغوا منه وجاء المشركون فحاصروهم".
وفي عون المعبود[54]: "سميت الغزوة بالخندق لأجل الخندق الذي حفر حول المدينة بأمره عليه الصلاة والسلام لما أشار به سلمان الفارسي فإنه من مكائد الفرس دون العرب".
এ বিষয়ে আরও বহু প্রমাণ রয়েছে।
◍ ৫. আমর ইবনে শারদ রা. তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَأَنْشَدْتُهُ مِائَةَ قَافِيَةٍ مِنْ قَوْلِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ الثَّقَفِيِّ ، كُلَّمَا أَنْشَدْتُهُ بَيْتًا ، قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " هِيهْ " حَتَّى أَنْشَدْتُهُ مِائَةً يَعْنِي بَيْتًا ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنْ كَادَ لَيُسْلِمُ " .
"আমি একবার বাহনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে বসা ছিলাম। তারপর আমি তাঁকে উমাইয়া ইবনে আবু-সালত বিরচিত একশ চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালাম। যখনই একটি পঙক্তি আবৃতি করতাম তিনি বলতেন, আরও শোনাও। এভাবে একশটি পঙক্তি আবৃতি করলাম।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "সে ইসলাম গ্রহণের কাছাকাছি এসে গেছে।" [সহীহ শামায়েলে তিরমিযী ৩৭. কাব্যিক ছন্দে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুসলিম কবির কবিতাও শ্রবণ করতেন, সহীহ মুসলিম, হা/৬০২২]
এ আলোচনা থেকে আদর্শিক, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে ইসলামের স্বতন্ত্রতা এবং দুনিয়াবি বিষয়ে ইসলামে উদারতা প্রমাণিত হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মহান জীবনাদর্শের আলোকে আমাদের জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◈◍◈▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

 

 

 

 

 

 

 

ইসলাম গ্রহণের পর নাম পরিবর্তন এবং অমুসলিম পিতামাতার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা ও পানাহারের বিধান

 May be an image of text that says 'ইসলাম প্রহণের পর নাম পরিবর্তন এবং অমুসলিম পিতামাতার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা বিধান 9 পানাহারের'

 

ইসলাম গ্রহণের পর নাম পরিবর্তন এবং অমুসলিম পিতামাতার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা ও পানাহারের বিধান
▬▬▬▬◈◍◈▬▬▬▬
প্রশ্ন: কোনও অমুসলিম যদি ইসলাম গ্রহণ করার পরও পূর্বের নাম পরিবর্তন না করে এবং তার অমুসলিম বাবা-মা ও আত্মীয়দের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তাদের সাথে খানাপিনা করে তবে কি তাকে মুসলিম বলা যাবে? কুরআন-হাদিসের আলোকে এই নাম পরিবর্তন এবং অমুসলিমদের সাথে সম্পর্ক রাখার বিধান কি?
উত্তর:
নিম্নে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হল:
◆ ১. মুসলিম কাকে বলে?
যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, "আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নাই এবং মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ রাসূল" সে ব্যক্তি মুসলিম। ইসলাম গ্রহণের পর তার উপর অপরিহার্য হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান তথা সালাত, সিয়াম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি এবং পাক-নাপাক, হালাল-হারাম ইত্যাদি মেনে চলা। তৎসঙ্গে শিরক ও মুশরিকদের থেকে আন্তরিক সম্পর্কচ্ছেদ করা।
 
◆ ২. নাম পরিবর্তন:
নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে কথা হল, ইসলামপূর্ব নামটি যদি শিরক, কুফর বা খারাপ অর্থবোধক না হয় তাহলে তা পরিবর্তন করা জরুরি নয়। যেমন: অধিকাংশ সাহাবি ইসলাম গ্রহণের পর পূর্বের নাম পরিবর্তন করেন নি। আবু বকর, উমর, উসমান, আলি, তালহা, আবু সুফিয়ান, খাদিজা, মাইমুনা, যয়নব ইত্যাদি নামগুলো ইসলাম গ্রহণের পূর্বের নাম। ইসলামে আসার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম সেগুলো পরিবর্তন করার নির্দেশ দেন নি।
তবে যদি শিরক-কুফরি ও খারাপ অর্থবোধক নাম হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা অপরিহার্য। যেমন: আবু হুরায়রা রা. এর প্রকৃত নাম ছিল, আব্দুশ শামস (কিরণ দাস)। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আব্দুর রাহমান (পরম করুনাময় আল্লাহর দাস)।
 
◆ ৩. অমুসলিম পিতামাতা ও অন্যান্য আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা:
ইসলাম গ্রহণের পর অমুসলিম পিতামাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং তাদের সাথে সদাচরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর উদ্দেশ্য হবে, তাদেরকেও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে মুক্তি ও কল্যাণের পথে দাওয়াত দেয়া। অথবা বিশেষ কোনও জরুরি প্রয়োজনে থাকলেও তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা জায়েজ। কিন্তু শিরক, কুফরি এবং আল্লাহর নাফরমানি এর ক্ষেত্রে পিতামাতার আনুগত্য করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন,
 
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ
 
"পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহবস্থান করবে।" (সূরা লোকমান: ১৫)
অর্থাৎ পিতামাতা যদি সন্তানকে ইসলাম ত্যাগ করতে বলে বা মূর্তিপূজায় অংশ গ্রহণ বা
শরীরে ক্রুশ ঝুলানোর নির্দেশ দেয় তাহলে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। কিন্তু তারপরও তাদের সাথে সদাচরণ অব্যাহত রাখতে হবে। কোনও অবস্থায় তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। পাশাপাশি যথাসাধ্য তাদের সেবা-শুশ্রুষা, আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, বিপদে সাহায্য করা ইত্যাদি অব্যাহত রাখবে। এর মাধ্যমে পিতামাতার সাথে সদাচরণ (ইহসান) সংক্রান্ত কুরআনের নির্দেশ বাস্তবায়িত হবে।
তবে মনে রাখতে হবে যে, কোনও মুসলিমের জন্য বিধর্মীদের ধর্ম, তাদের রীতিনীতি, আচার-বিশ্বাস, শিরক, কুফরি এবং ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কোনও কিছুর প্রতি ভালবাসা পোষণ করা বা এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করা জায়েজ নাই। কেউ যদি ইসলাম গ্রহণের পরও তার পূর্বের ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে বা ভালবাসে তাহলে সে প্রকৃত মুসলিম হতে পারে নি। তার জন্য অবশ্য কর্তব্য হল, পুনরায় নতুনভাবে ইসলাম গ্রহণ করা।
আরও মনে রাখা জরুরি যে, কাফের আত্মীয়-স্বজনের সাথে কুফরি পরিবেশে বসবাসের কারণে যদি ইসলাম পালন করতে বাধাগ্রস্ত হতে হয় অথবা আল্লাহ, রাসূল ও ইসলাম সম্পর্কে মনে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অথবা আবার কুফরিতে ফিরে যাওয়ার ভয় থাকে অথবা নানা হারাম ও শরিয়া বিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে ঈমান ও চরিত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে কিংবা জুলুম নির্যাতনের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে তাদের সাথে অবস্থান, বসবাস ও সম্পর্ক রাখা বিরাট হুমকির বিষয়।
এ ক্ষেত্রে তার করণীয় হল, নিজের দীন, ঈমান ও আখলাক হেফাজতের স্বার্থে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং দূরে থেকে ফোনে বা লেখালেখির মাধ্যমে অথবা বিভিন্ন উপলক্ষে মাঝেমধ্যে দেখা করতে এসে তাদেরকে কুফরির অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথের সন্ধান দেয়ার চেষ্টা করা।
 
◆ ৪. অমুসলিম পিতামাতার সাথে খাবার গ্রহণ:
ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিমদের সাথে পানাহার করা নাজায়েজ নয়। কেননা হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদির দাওয়াত কবুল করেছেন এবং তাদের খাবার খেয়েছেন।
তবে শর্ত হল, এমন কোনও কিছু পানাহার করা যাবে না যা ইসলামে হারাম। যেমন: কুকুর-শুকরের গোস্ত, মদ, মৃত প্রাণী ইত্যাদি। অনুরূপভাবে অমুসলিমদের হাতের জবাই করা প্রাণীর গোস্ত ভক্ষণ করাও হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমা লঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। এ ছাড়া সাধারণ ভাত, রুটি, মুড়ি, চিড়া, মিষ্টান্ন দ্রব্য, সবজি, ফল, মূল, মাছ, ডিম ইত্যাদি খেতে কোনও আপত্তি নাই ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◈◍◈▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

 

 

 

 

নবদম্পতি যদি সূর্য উদিত হওয়ার পর ফরজ গোসল করে ফজর সালাত আদায় করে তাহলে তার হুকুম

 May be an image of text that says 'নবদস্পতি যদি সূর্য উদিত হওয়ার পর ফরজ গোসল করে ফজর সালাত আদায় করে তাহলে তার বিধান'

 

নবদম্পতি যদি সূর্য উদিত হওয়ার পর ফরজ গোসল করে ফজর সালাত আদায় করে তাহলে তার হুকুম
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: নতুন বিয়ে হয়েছে। এখন ফরজ গোসল করে নামাজ পড়তে পড়তে যদি সকাল ৭/৮ টা বাজে তাহলে কি নামাজ হবে?
উত্তর:
আল্লাহ তাআলা ইমানদারদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করাকে ফরজ করেছেন।
তিনি বলেন,
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ‎
"নিশ্চয় সালাত ফরজ করা হয়েছে মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে।" [সূরা নিসা: ১০৩]
সুতরাং শরিয়ত সম্মত ওজর (যেমন: সফর, বৃষ্টি, ভুলে যাওয়া, ঘুম ইত্যাদি) ব্যতিরেকে তা সময় অতিক্রম করে আদায় করা জায়েজ নাই।
সুতরাং নব দম্পতীর জন্য ফরজ হল, রাতে সহবাস করলে ফজর সালাতের জন্য ফরজ গোসল করে যথাসময়ে সালাত আদায় করা। তারা যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে সূর্য উদিত হওয়ার পর গোসল করে সালাত কাজা করে তাহলে ইসলামের ২য় বৃহত্তম ইবাদতে অবহেলা প্রদর্শনের কারণে নিশ্চিতভাবে গুনাহগার হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি কুফরি পর্যায়ের গুনাহ।
অনেক আলেমের মতে, এভাবে ইচ্ছাকৃত ভাবে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সালাত আদায় করলেও তা মহান আল্লাহ কবুল করবেন না। কারণ সে শরিয়ত সম্মত ওজর ছাড়া সালাত কাজা করেছে। (আল্লাহ ক্ষমা করুন।)
যাহোক, কেউ অজ্ঞতা বা অলসতা বশত: এমন টি করে থাকলে তার জন্য অপরিহার্য হল, অনতিবিলম্বে মহান আল্লাহর কাছে লজ্জিত অন্তরে খাঁটি ভাবে তওবা করত: ভবিষ্যতে জেনে-বুঝে আর কখনো এমনটি না করার জন্য আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করা। তাহলে দয়াময় আল্লাহ ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায় ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহু আলাম।
 
▬▬▬▬◯◍◯▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

 

 

 

 

দোকান, ক্যাশ কাউন্টার ও ব্যবসা সংক্রান্ত কতিপয় কুসংস্কার ও হিন্দুয়ানী ভ্রান্ত বিশ্বাস

 May be an image of text

 

দোকান, ক্যাশ কাউন্টার ও ব্যবসা সংক্রান্ত কতিপয় কুসংস্কার ও হিন্দুয়ানী ভ্রান্ত বিশ্বাস
▬▬▬▬◐◑▬▬▬▬
ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও শরিয়ত সম্মত পন্থায় ব্যবসা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন, সততা, সত্যবাদিতা, সুন্দর আচরণ এবং ব্যবসায়িক কলাকৌশল প্রয়োগ। এ ক্ষেত্রে দোকানদার কোন দিকে মুখ করে বসবে, ক্যাশ বাক্স বা ক্যাশ কাউন্টারের মুখ কোন দিকে থাকবে, ক্রেতা দোকানে কোন দিক দিয়ে প্রবেশ করবে, প্রবেশ করার পর কোন দিকে মুখ করে বসবে...এসব বিষয় দোকানদার তার দোকানের অবস্থা ও নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী সাজিয়ে নিবে।
ইসলাম উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ইত্যাদি বিশেষ কোনও দিক শুভ-অশুভ হওয়ার ধারণাকে স্বীকার করে না।
ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর ইচ্ছা, রহমত ও বরকত অনুযায়ী বান্দার বেচা-কেনা, ব্যবসায়, চাকুরী, কৃষিকাজ ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আয়-উন্নতি ও জীবনে কল্যাণ-অকল্যাণ নির্ধারিত হয়। এর সাথে কানও 'দিক' এর প্রভাব নাই।
আমাদের সমাজে এ জাতীয় কিছু ভিত্তিহীন বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত আছে যেগুলো মূলত: হিন্দু ধর্মের তথাকথিত 'বাস্তু শাস্ত্র' থেকে এসেছে।
✪ নিম্নে এ সংক্রান্ত প্রচলিত কতিপয় হিন্দুয়ানী কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস তুলে ধরা হল:
◈ ১. দোকানে মালামাল রাখার জন্য আলমারি, শো কেশ, রেক ইত্যাদি দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে রাখা। এতে ব্যবসায় সফলতা আসে!
◈ ২. দোকানের প্রবেশ পথ যদি দক্ষিণ পশ্চিম কোনে হয় সেই সমস্ত দোকান ১৫ থেকে ২০ বছর চলার পর হঠাৎ থমকে যাবে!
◈ ৩. দোকানের মেইন সুইচ ও সুইচ বোর্ড অগ্নিকোণে অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখলে শুভ!
◈ ৪. দোকানে যেসব মালপত্রের বিক্রি বেশি সেই সব মালপত্র বায়ুকোণ (উত্তর-পশ্চিম কোন) রাখলে শুভ। সুনিশ্চিত লাভ হয়!
◈ ৫. দোকানে উত্তর ও পূর্ব দিকে প্রবেশ দ্বার থাকলে শুভ!
◈ ৬. দোকানের আসবাবপত্রের জন্য যে সব ফার্নিচার করবেন তা কাঠের তৈরি হলেই খুব ভাল!
◈ ৭. ক্যাশ কাউন্টারের মুখ সবসময় উত্তর বা পশ্চিমদিকে হওয়া উচিত!
◈ ৮. ক্যাশ কাউন্টার দক্ষিণ দিকে বসবে যেন তার মুখটা উত্তরদিকে খুললে ভাল! নতুবা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে খোলে অর্থাৎ দক্ষিণদিকে কদাচিৎ নয়!
◈ ৯. দোকানের মালিক যেন সব সময় উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে। কখনোই যেন দক্ষিণ বা পশ্চিমে মুখ করে না বসেন। কারণ এতে ক্ষতি হয়!
◈ ১০. দোকানের মালিক বসবেন পূর্ব বা উত্তরমুখী হয়ে এবং খরিদ্দার বসবেন পশ্চিম ও দক্ষিণামুখী হয়ে। এটা ব্যবসার জন্য শুভ।
◈ ১১. ক্যাশ বাক্স কখনো যেন খালি না হয়, অন্তত পক্ষে এক টাকা যেন ক্যাশ বাক্সে সবসময় থাকে!
◈ ১২. "ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ বাক্সের দিকে পেছন ঘুরিয়ে বসতে নিষেধ। কারণ এতে অকল্যাণ হয়।"
[উৎস: আনন্দ বাজার পত্রিকা এবং অন্যান্য ওয়েব সাইট]
❑ শুভ-অশুভ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান:
◍ আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
‘‘অতঃপর যখন তাদের ভালো অবস্থা ফিরে আসতো, তখন তারা বলতো এটা তো আমাদের প্রাপ্য। আর যদি তাদের নিকট অকল্যাণ এসে উপস্থিত হতো, তখন তা মুসা এবং তার সঙ্গীদের অশুভ কারণরূপে মনে করতো। শুনে রাখো! তাদের অকল্যাণ তো আল্লাহ্‌র কাছেই। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ’’। [সূরা আরাফ: ১৩১]
◍ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ، وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ قَالَ: كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ
"(রোগের মধ্যে) কোন সংক্ৰমণ নেই এবং শুভ-অশুভ নেই আর আমার নিকট ‘ফাল’ পছন্দনীয়। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘ফাল’ কী? তিনি বললেন, উত্তম কথা।"
[সহীহুল বুখারি, পর্ব ৭৬; চিকিৎসা, অধ্যায় ৫৪, হাঃ ৫৭৭৬; মুসলিম, পর্ব ৩৯: সালাম, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ২২২৪]
◍ আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে,
لاَ طِيَرَةَ، وَخَيْرُهَا الْفأْلُ قَالُوا: وَمَا الْفأْلُ قَالَ: الْكَلِمَةُ الصَّالِحَةِ يَسْمَعُهَا أَحَدُكُمْ
"অশুভ বলতে কিছু নেই বরং শুভ আলামত গ্রহণ করা ভাল। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, "শুভ আলামত কী? তিনি বললেন, ভাল বাক্য, যা আমাদের কেউ শুনে থাকে।"
[সহীহুল বুখারি, পৰ্ব ৭৬ : চিকিৎসা, অধ্যায় ৪৩, হাঃ ৫৭৫৪; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ২২২৩]
◍ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، ثَلَاثًا، وَمَا مِنَّا إِلَّا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ
"কোনও বস্তুকে কুলক্ষণ মনে করা শিরক, কোনও বস্তু কুলক্ষণ ভাবা শিরক। একথা তিনি তিনবার বললেন। আমাদের কারো মনে কিছু জাগা স্বাভাবিক, কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করলে তিনি তা দূর করে দিবেন।" [সুনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়: ২৩/ চিকিৎসা (كتاب الطب), পরিচ্ছেদ: ২৪. অশুভ লক্ষণ]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরণের কুসংস্কার, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কার্যক্রম থেকে হেফাজত করুন, সব ধরণের অনিষ্ট ও অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের জীবনকে সিক্ত করুন তাঁর অবারিত রহমত, বরকত ও কল্যাণের বারি বর্ষণে। আল্লাহুম্মা আমিন।
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব