Wednesday, May 12, 2021

বদনজর বিষয়ক সব একসাথে

 

বদনজর বিষয়ক সব একসাথে

বদনজর আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন

কিভাবে বুঝবেন আপনার নজর লেগেছে কিনা? নিচের লক্ষনগুলো এখনি মিলিয়ে দেখুন। সবগুলো মিলতে হবে এমন কোন কথা নেই। ২-১ টা মিললেও বলা যায় অল্প-স্বল্প নজরের সমস্যা আছে।
মুম্বাইয়ের একজন অভিজ্ঞ আলেম মুফতি জুনাইদ সাহেব নজর লাগার অনেকগুলো আলামত বর্ণনা করেছিলেন। যেমনঃ
.
১। শরীরে জ্বর থাকা, কিন্তু থার্মোমিটারে না উঠা।
২। কোনো কারণ ছাড়াই কান্না আসা..
৩। প্রায়সময় কাজে মন না বসা, নামায যিকর ক্লাসে মন না বসা।
৪। প্রায়শই শরীর দুর্বল থাকা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব লাগা।
৫। চেহারা ধুসর/হলুদ হয়ে যাওয়া।
৬। বুক ধড়পড় করা, দমবন্ধ অস্বস্তি লাগা।
৭। অহেতুক মেজাজ বিগড়ে থাকা।
৮। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সাথে দেখা হলেই ভালো না লাগা।
৯। অতিরিক্ত চুল পড়া। শ্যাম্পুতে কাজ না করা।
১০। পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া।
১১। বিভিন্ন সব অসুখ লেগে থাকা যা দীর্ঘদিন চিকিৎসাতেও ভালো হয় না। (সর্দিকাশি, মাথাব্যথা ইত্যাদি)
১২। হাত-পায়ে মাঝেমধ্যেই ব্যাথা করা, পুরো শরীরে ব্যাথা দৌড়ে বেড়ানো।
১৩। ব্যবসায় ঝামেলা লেগে থাকা।
১৪। আপনি যে কাজে অভিজ্ঞ সেটা করতে গেলেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া।
.
[আব্দুল্লাহ আলমাহমুদ]
 
 

বদনজরের রুকইয়া। রুকইয়ার গোসল।

 
[বদনজরের জন্য রুকইয়াহ - ১]
---------
[ক]
যদি জানা যায় কার নজর লেগেছে তাহলে সাহল ইবনে হুনাইফ রা. এর হাদিসটা অনুসরণ করলেই হবে।
অর্থাৎ যার নজর লেগেছে তাকে অযু করতে বলবে, অযুর পানিগুলো একটা পাত্রে জমা করবে, এরপর সেটা আক্রান্ত ব্যাক্তির গায়ে ঢেলে দিবে। তাহলেই নজর কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ। যেমন, যদি মনে করেন আপনার বাবুর উপর মেহমানের নজর লেগেছে (যদিও ইচ্ছা করে বদনজর দেয়নি) তাহলে মেহমানকে অযুর করতে বলবেন বা উনার অযুর পানি নিয়ে আপনার বাবুর গায়ে ঢেলে দিবেন। ইন শা আল্লাহ সে সুস্থ হয়ে যাবে।
এই পদ্ধতিতে সাধারণ একবারেই বদনজরের প্রভাব দূর হয়ে যায়। তবেঁ, প্রয়োজনে ২-৩দিন করা লাগতে পারে। আর হ্যাঁ! অনেকের ক্ষেত্রে এই ওযু করার পানি ঢালার পর, প্রচণ্ড পায়খানা বা প্রসাবের বেগ আসে, সেটা হয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ হয়ে যায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, কুলির পানিও কি জমা করবে?
উত্তরঃ যদিওবা এক হাদিসে আছে কুলির কথা, তবে না নিলেও সমস্যা নেই। এমনকি অধিকাংশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজনের হাতমুখ ধোয়া পানি নিয়ে অপরজন হাতমুখ ধৌত করলেই বদনজর নষ্ট হয়ে যায়।
উহ্য প্রশ্ন-২: যদি নিজের নজর নিজেকেই লাগে?
উত্তরঃ তাহলে ওযু করবে, এবং পানিগুলো জমা করবে, এরপর সেটা নিজের গায়ে ঢালবে।
[খ]
আর যদি আপনি না জানেন আপনার উপর কার নজর লেগেছে, যদি অনেক দিনের সমস্যা হয়, কিংবা যদি অনেকজনের নজর লাগে, তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। বদনজরের সেলফ রুকইয়া হিসেবে এই পদ্ধতি সাজেসটেড।
১. রুকইয়ার আয়াতগুলো প্রতিদিন তিলাওয়াত করবেন অথবা শুনবেন, সরাসরি শোনা সম্ভব না হলে অডিও রেকর্ড শুনবেন।
রুকইয়াহর আয়াত নিজেই তেলাওয়াত করা সর্বোত্তম। কাজেই আপনার তেলাওয়াত শুদ্ধ হলে সম্ভব হলে রুকইয়াহ আয়াত তেলাওয়াত করবেন। তা না হলে অডিও শুনবেন। বদনজরের রুকইয়াহর পিডিএফ নিচের লিংকে পাবেন।
পিডিএফ পড়তে সমস্যা হলে বা অডিও শুনলে যদি ঘুম আসে তাহলে কুরআন থেকে দেখে দেখে তেলাওয়াত করতে পারেন। আয়াতের লিস্টঃ
 
বদনজরের রুকইয়াহর আয়াতের তালিকা
বদনজরের রুকইয়াহ যারা করেন তাদের একটি কমন সমস্যা হল অডিও শোনার সময় ঘুম পাওয়া। এই সমস্যার সমাধান হল তেলাওয়াত করা। তেলাওয়াতের পিডিএফ পাবেন https://ruqyahbd.org/ayat
যারা কুরআনুল কারীম থেকে বদনজরের আয়াত তেলাওয়াত করতে চান তাদের জন্য এই পোস্ট। নিজে নিজে তেলাওয়াত সর্বোত্তম রুকইয়াহ। প্রতিটি আয়াত এক বা একাধিকবার তেলাওয়াত করতে পারেন। বদনজরের লক্ষন এবং বদনজরের রুকইয়াহ করার বিস্তারিত পদ্ধতি কমেন্টে দেয়া হল।
আয়াতের তালিকাঃ
১। সুরা ফাতিহা
২। সুরা বাকারা। আয়াত নং- ৫, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৫০, ৫৫, ৬০, ৬৯, ৭৬, ১০৫, ১০৯, ২৪৭, ২৫৫, ২৬৯, ২৮৫, ২৮৬।
৩। সুরা আলে ইমরান। আয়াত নং- ১৩, ১৪, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ১১৮, ১১৯, ১২০, ১৬৯, ১৭০, ১৭১, ১৭২, ১৭৩, ১৭৪, ১৮৬।
৪। সুরা আন-নিসা। আয়াত নং- ২৭, ৩২, ৫৩, ৫৪, ৭৩, ১০৮, ১১৩, ১৪১।
৫। সূরা মায়েদা। আয়াত নং- ৪৫, ৭৩।
৬। সুরা আনআম। আয়াত নং- ৩৩, ৫৩, ৯৩, ১০৩, ১১০, ১৩৯, ১৬৫।
৭। সুরা আরাফ। আয়াত নং- ৪৩, ১০৮, ১১৬, ১৭৯, ১৯৫, ১৯৮।
৮। সুরা আনফাল। আয়াত নং- ৬, ৪৪, ৫৩।
৯। সুরা তওবা। আয়াত নং- ৮, ৫০, ৫১, ৫৫, ৯২, ৯৮, ১২৭, ১২৮, ১২৯।
১০। সুরা ইউনুস। আয়াত নং- ৪৩, ১০১, ১০৭।
১১। সুরা হুদ। আয়াত নং- ৫, ৩১।
১২। সুরা ইউসুফ। আয়াত নং- ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১৮, ২১, ৩১, ৩৮, ৪৬, ৬৮, ৬৯, ৭৭, ৮৪, ৮৯, ৯০, ৯১, ৯২, ৯৩, ৯৯, ১০০।
১৩। সুরা রা'দ। আয়াত নং- ৫।
১৪। সুরা হিজর। আয়াত নং- ১৬, ১৭, ৫১, ৫২, ৮৮।
১৫। সুরা নাহল। আয়াত নং- ৬, ১৮, ৫৩, ৭১।
১৬। সুরা আল ইসরা (বনী ইসরাঈল)। আয়াত নং- ২০, ২১, ৭৬।
১৭। সুরা কাহাফ। আয়াত নং- ৫, ১৯, ২৮, ৩৫, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৬, ৮২, ৮৬।
১৮। সুরা ত্বহা। আয়াত নং- ৫৯, ১৩১।
১৯। সুরা আম্বিয়া। আয়াত নং- ১৮, ৬১, ৯৬, ১১২।
২০। সুরা হজ্জ্ব। আয়াত নং- ১৫, ৭২।
২১। সুরা মু'মিনুন। আয়াত নং- ৯১, ৯৬।
২২। সুরা নুর। আয়াত নং- ৩০, ৩১, ৩৮।
২৩। সুরা ফুরকান। আয়াত নং- ৪১, ৭৪।
২৪। সুরা শু'আরা। আয়াত নং- ২১৮।
২৫। সুরা নামল। আয়াত নং- ১০, ১৫, ১৬, ১৯, ২৩, ২৭, ২৮, ৩৩, ৩৫, ৪০, ৪৪।
২৬। সুরা কাসাস। আয়াত নং- ১৩, ৬০, ৭৬, ৭৯, ৮০, ৮১, ৮২, ৮৩।
২৭। সুরা আহযাব। আয়াত নং- ১৯, ৫১, ৫২।
২৮। সুরা ইয়াসিন। আয়াত নং- ৯, ৬৬।
২৯। সুরা সফফাত। আয়াত নং- ১৯, ৪৬, ৫৭, ৮৮, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০।
৩০। সুরা যুমার। আয়াত নং- ৬৮।
৩১। সুরা মু'মিন। আয়াত নং- ১৯, ২৫।
৩২। সুরা শু'রা। আয়াত নং- ১২, ২৭, ৪৫।
৩৩। সুরা আয-যুখরুফ। আয়াত নং- ৩১, ৩২, ৭১, ৮০।
৩৪। সুরা মুহাম্মাদ। আয়াত নং- ২০, ২৯, ৩০।
৩৫। সুরা ফাতাহ। আয়াত নং- ১৫।
৩৬। সুরা হুজুরাত। আয়াত নং- ১১, ১২।
৩৭। সুরা ক্বফ। আয়াত নং- ৬।
৩৮। সুরা আযযারিয়াত। আয়াত নং- ৪৪।
৩৯। সুরা তুর। আয়াত নং- ৪৮।
৪০। সুরা ক্বামার। আয়াত নং- ৮, ১২, ৩৫, ৩৭।
৪১। সুরা আর রাহমান। আয়াত নং- ৩৭, ৫০, ৭০।
৪২। সুরা ওয়াক্বিয়াহ। আয়াত নং- ৮৩, ৮৪।
৪৩। সুরা হাদিদ। আয়াত নং- ২০, ২৯।
৪৪। সুরা হাশর। আয়াত নং- ৯, ১০, ১৮।
৪৫। সুরা মুমতাহিনা। আয়াত নং- ২।
৪৬। সুরা মুনাফিকুন। আয়াত নং- ৪।
৪৭। সুরা মুলক। আয়াত নং- ৩, ৪, ২৮।
৪৮। সুরা ক্বলম। আয়াত নং- ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২।
৪৯। সুরা মুদ্দাস্‌সির। আয়াত নং- ২১, ২২।
৫০। সুরা ক্বিয়ামাহ। আয়াত নং- ২২ ২৩, ২৪, ২৫।
৫১। সুরা দাহর (ইনসান)। আয়াত নং- ১৯।
৫২। সুরা নাবা। আয়াত নং- ৪০।
৫৩। সুরা নাযিয়াত। আয়াত নং- ৪৬।
৫৪। সুরা আবাসা। আয়াত নং- ২৩।
৫৫। সুরা আল ইনশিকাক। আয়াত নং- ৯, ১৩।
৫৬। সুরা গাশিয়া। আয়াত নং- ১২।
৫৭। সুরা আল ফাজর। আয়াত নং- ১৫, ১৬।
৫৮। সুরা বালাদ। আয়াত নং- ৮, ৯।
৫৯। সুরা আশ শামস। আয়াত নং- ৮, ৯, ১০।
৬০। সুরা আদ্‌-দুহা।
৬১। সুরা হুমাযাহ।
৬২। সুরা আল কাওসার।
৬৩। সুরা নাসর।
৬৪। সুরা লাহাব।
৬৫। সুরা ইখলাস।
৬৬। সুরা ফালাক।
৬৭। সুরা নাস

 
২. আর প্রতিদিন রুকইয়ার গোসল করবেন।
রুকইয়াহ অডিওর ডাউনলোড পেজের লিংক: http://ruqyahbd.org/download (সেখান থেকে "বদনজর Evil Eye অথবা Eye Hasad যেকোনোটি শুনতে পারেন। এছাড়া সা'দ আল গামিদীর আধাঘণ্টার রুকয়াটাও শুনতে পারেন। যেটাই শুনবেন, শোনার সময় নিয়ত রাখবেন, আমি বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করছি।
যদি আপনার কোনো সমস্যা থাকে তাহলে আপনি ফিজিক্যালি এর প্রভাব টের পাবেন। যেমনঃ প্রচণ্ড ঘুম আসবে, মাথাব্যথা করতে পারে, হাত-পা কামড়াতে পারে, হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে, শরীর ঘামতে পারে, বেশি বেশি প্রসাব হতে পারে- ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে এরপরেও শুনতে থাকবেন, ঘুম আসলে জেগে থাকতে চেষ্টা করবেন। আর একান্তই না পেরে ঘুমিয়ে গেলেও দুশ্চিন্তার কিছু নাই। আর সমস্যা সমাধান হলেই ভালো ফিল করতে লাগবেন ইনশাআল্লাহ! দুশ্চিন্তার কারণ নাই।
.
আর আপনি কয়েকবার মনোযোগ দিয়ে শোনার পরেও যদি কোনোই ইফেক্ট না বুঝতে পারেন, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ্‌ আপনার কোনো সমস্যা নাই। আপনার যদি প্রবলেম থাকে তাহলে রুকইয়াহ শুনলে অবশ্যই প্রভাব টের পাবেন।
.
[গ]
রুকইয়ার গোসলের পদ্ধতি হচ্ছে-
একটা বালতিতে পানি নিবেন, তারপর ওই পানিতে দুইহাত ডুবিয়ে পড়বেন -
"দরুদ শরিফ, ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, চারকুল (কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক্ব, নাস) প্রত্যেকটা ৭ বার। শেষে আবার দরুদ শরিফ ৭ বার পড়বেন।
লক্ষণীয়ঃ
১. পড়ার পর হাত উঠাবেন এবং পানি দিয়ে গোসল করবেন। এগুলা পড়ে পানিতে ফু দিবেন না, এমনিই গোসল করবেন।
২. যদি টয়লেট আর গোসলখানা একসাথে হয় তখন এসব অবশ্যই বাহিরে এনে পড়তে হবে।
৩. কোনদিন হাতে সময় কম থাকলে এসবের মধ্যে সুরা কাফিরুন বাদ দিতে পারেন আর দরুদ শরিফ ৩বার করে পড়তে পারেন।
৪. প্রথমে এই পানি দিয়ে গোসল করলেন পরে অন্য পানি দিয়ে ভালোমতো করলেন অসুবিধে নেই।
৫. যার সমস্যা সে যদি পড়তে না পারে, তাহলে অন্যজন পানিতে হাত রেখে পড়ে দিবে, এরপর গোসল করবেন।
৬. উত্তম হচ্ছে, প্রথমে রুকইয়াহ শুনে এরপর গোসল করতে যাবেন। গোসলের আগে শুনতে না পারলে সমস্যা নাই, দিনের যেকোন সময় শুনলেই হবে ইনশাআল্লাহ।
৭. রুকইয়ার গোসল বাদ দিয়ে, খালি অডিও শোনা থেকে নিরুৎসাহিত করছি। এতে কষ্ট বেশি কিন্তু উপকার কম হওয়ার আশংকা রয়েছে।
.
[ঘ]
মোটকথা, প্রতিদিন রুকইয়া শুনবেন এবং উপরের নিয়ম অনুযায়ী রুকইয়ার গোসল করবেন। সমস্যা অনুযায়ী ৩-৭ থেকে দিন লাগতে পারে। সমস্যা বেশি মনে হলে ২১দিন করতে পারেন।
সমস্যা কম হলে কখনো একদিনেও ভালো হয়ে যায়। তবে ভালো হওয়ার পরেও ২-৩দিন করা উচিত।
[লেখাঃ আব্দুল্লাহ আলমাহমুদ]
----------
 

বাচ্চাকাচ্চা, বাড়িঘর বা সম্পদে নজর লাগলে।

 
[বদনজরের জন্য রুকইয়াহ - ২]
-------------------
বাচ্চাদের নজর লাগলে কি করবেন? কিংবা যদি নজর লাগে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে? আপনার দোকানে, খামারে? ঘর-বাড়িতে? গাছে? বা অন্য কোথাও?
নিচে একে একে পদ্ধতিগুলো লেখা হল।
[১ম পদ্ধতি]
যদি জানা যায় কার নজর লেগেছে তাহলে সাহল ইবনে হুনাইফ রা. এর হাদিসটা অনুসরণ করলেই হবে।
অর্থাৎ যার নজর লেগেছে তাকে অযু করতে বলবে, অযুর পানিগুলো একটা পাত্রে জমা করবে, এরপর সেটা আক্রান্ত ব্যাক্তির গায়ে ঢেলে দিবে। তাহলেই নজর কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এই পদ্ধতিতে সাধারণ একবারেই বদনজরের প্রভাব দূর হয়ে যায়। তবেঁ, প্রয়োজনে ২-৩দিন করা লাগতে পারে। আর হ্যাঁ! অনেকের ক্ষেত্রে এই ওযু করার পানি ঢালার পর, প্রচণ্ড পায়খানা বা প্রসাবের বেগ আসে, সেটা হয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ হয়ে যায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, কুলির পানিও কি জমা করবে?
উত্তরঃ যদিওবা এক হাদিসে আছে কুলির কথা, তবে না নিলেও সমস্যা নেই। এমনকি অধিকাংশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজনের হাতমুখ ধোয়া পানি নিয়ে অপরজন হাতমুখ ধৌত করলেই বদনজর নষ্ট হয়ে যায়।
উহ্য প্রশ্ন-২: যদি নিজের নজর নিজেকেই লাগে?
উত্তরঃ তাহলে ওযু করবে, এবং পানিগুলো জমা করবে, এরপর সেটা নিজের গায়ে ঢালবে।
[নোটঃ এই পদ্ধতি বাচ্চা-বয়স্ক, ছেলে-মেয়ে সবার জন্য। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যদি জানা না যায় কার নজর লেগেছে তাহলে নিচের দ্বিতীয় পদ্ধতি ফলো করতে হবে। ]
[২য় পদ্ধতি]
রোগীর মাথায় হাত রেখে এই দুয়াগুলো পড়বেন। এবং মাঝেমাঝে রোগীর গায়ে ফুঁ দিবেন, এভাবে কয়েকবার করবেন। নিজের সমস্যা থাকলে নিজের মাথায় বা বুকে হাত রেখেই পড়তে পারেন। অথবা পড়ার পর হাতে ফুঁ দিয়ে পুরা শরীরে হাত বুলিয়ে নিতে পারেন।
১.
أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উ"ঈযুকুম বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ। মিং কুল্লি শাইত্বা-নিও- ওয়াহা-ম্মাহ। ওয়ামিং কুল্লি "আঈনিল্লা-ম্মাহ।
২.
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
বিসমিল্লা-হি আরকীক। মিং কুল্লি শাইয়িই ইউ'যীক। মিং শাররি কুল্লি নাফসিন আও "আইনি হাসিদ। আল্লা-হু ইয়াশফীক। বিসমিল্লা-হি আরকীক।
৩.
بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
বিসমিল্লা-হি ইউবরীক। ওয়ামিং কুল্লি দা-ঈই ইয়াশফীক। ওয়ামিং শাররি হাসিদিন ইযা- হাসাদ। ওয়া শাররি কুল্লি যী "আঈন ।
৪.
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স। আযহিবিল বা'স । ইশফি ওয়াআংতাশ শা-ফী। লা-শিফাআ ইল্লা-শিফাউক। শিফাআল লা-ইউগা-দিরু সাক্বামা-।
এরপর সুরা ফাতিহা এবং আয়াতুল কুরসি ১বার। এবং সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার পড়বেন এরপর রুগীকে/নিজেকে ফুঁ দিবেন। চাইলে সুরা ফালাক নাস অনেকবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, সবধরনের রুকইয়ায় এগুলো বিশেষভাবে উপকারী।
সমস্যা বেশি হলে উল্লেখিত পদ্ধতিতে রুকইয়া করা শেষে, আরেকবার এগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন খাবেন এবং গোসল করবেন। সমস্যা ভালো হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন করবেন এই দুটো কাজ। এছাড়া কোন অঙ্গে ব্যাথা থাকলে এসব দোয়া-কালাম পড়ে তেলে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন মালিশ করতে পারেন।
বদনজর আক্রান্ত কারো কারো ওপর রুকইয়া করতে চাইলে এই পদ্ধতিটা অনুসরণ করা উচিত। অনুরূপভাবে ছোট বাচ্চাদের বিবিধ সমস্যা / রোগবালাইয়ের জন্য রুকইয়া করতে চাইলেও এটা অনুসরণ করা যায়।
আর হ্যাঁ! উল্লেখিত সবগুলো দোয়া রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হাদিস থেকে নেয়া।
[৩য় পদ্ধতি]
যদি কোনো গাছ, খামার, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথবা বাড়িতে নজর লাগে তাহলে প্রথমে এগুলোর মালিক নিজের জন্য বদনজরের রুকইয়াহ করবেন। আর এসব সম্পত্তির জন্য উপরের দু'আ এবং কোরআনের আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিবেন, এরপর ওই পানিটা গাছে, ঘরে অথবা দোকানে ছিটিয়ে দিবেন। গৃহপালিত পশুপাখির ওপর নজর লাগলে তাদের মাথায় হাত রেখে এসব পড়তে পারেন, কিংবা কোন খাদ্যের ওপর এসব পড়ে ফুঁ দিয়ে খাইয়ে দিতে পারেন।
তাহলে ইনশাআল্লাহ বদনজর নষ্ট হয়ে যাবে। প্রয়োজনে এভাবে পরপর কয়েকদিন রুকইয়া করুন।
 
 
 

 বদনজর থেকে বাচার উপায়

 

বদনজর থেকে বাচার উপায়, কিছু ঘটনা : বদনজর ৩

 

গত পর্বে আমরা বদনজর বিষয়ে সালাফের মতামত এবং বদনজর লাগার কিছু লক্ষণ জেনেছি। আজ বদনজর থেকে বাঁচার উপায় এবং এসম্পর্কিত কিছু সত্য ঘটনা জানবো।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিজের প্রয়োজন পূরণ হওয়া পর্যন্ত সেটা গোপন রাখার মাধ্যমে সাহায্য লাভ করো! কেননা, প্রতিটা নিয়ামত লাভকারীর সাথেই হিংসুক থাকে!” (তাবারানী)

এটা নজর এবং হিংসা থেকে বাচার একটা টিপস। নিয়ামত গোপন রাখার মানে হচ্ছে অন্য কারো সামনে অহেতুক নিজের, নিজের সম্পদের, প্রশংসা না করা, সন্তানের প্রশংসা না করা, মেয়েরা নিজ স্বামীর প্রশংসা অন্যদের সামনে না করা, ছেলেরা নিজ স্ত্রীর প্রশংসা অন্যদের সামনে না করা। নিজের প্রজেক্টের প্রপার্টির ব্যাবসার গোপন আলোচনা অন্যদের সামনে প্রকাশ না করা। অনেকে অহেতুক অন্যদের সামনে গল্প করেন, অমুক প্রজেক্টে এতো লাভ হলো, অমুক চালানে এতো টাকার বিক্রি হলো।

মোটকথা: অহেতুক অন্যের সামনে নিজের কোনো নিয়ামতের আলোচনা না করাই উত্তম। প্রসঙ্গক্রমে করলেও কথার মাঝে যিকর করা। যেমনঃ ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, এবছর ব্যাবসায় কোনো লস যায়নি।’ “আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে বেশ ভালো রেজাল্ট করেছে!” “মা-শা-আল্লাহ ভাবি! আপনি তো কাপড়ে অনেক ভালো ফুল তুলতে পারেন!!” ইত্যাদি ইত্যাদি.

শুধু খারাপ মানুষের নজর লাগে এমন কিন্তু না। ভালো মানুষের নজরও লাগতে পারে। বদনজর লাগার আসল কারণ হচ্ছে, আমরা যখন কোনো বস্তুর বা ব্যাক্তির প্রশংসা করি তখন এর মাঝে আল্লাহকে স্মরণ করি না। মা-শা-আল্লাহ, বারাকাল্লাহ বলি না। কোন কিছু দেখলে আমরা ওয়াও, অসাম! বাপরে! কি দেখাইলো মাইরি! হেব্বি হইছে! এক্কেরে ফাডালাইছে-এসব বলি। অথচ আমাদের উচিত ছিলো মা-শা-আল্লাহ, বারাকাল্লাহ, বলা।

সূরা কাহাফে এক ঘটনায় আল্লাহ্‌ বলেন: “যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন ‘মা-শা-আল্লাহ; লা-কুও্ওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ (সব আল্লাহর ইচ্ছাতে হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কারো ক্ষমতা নেই) কেন বললে না?” (১৮:৩৯)

এখন অন্য কেউ যদি আপনার কিছুর প্রশংসা করে, তাহলে উনি যিকর না করলে আপনার উচিত হবে যিকর করা। উদাহরণ স্বরুপ কেউ বললো- ভাবি আপনার ছেলেটা তো অনেক কিউট! আপনি বলুন- আলহামদুলিল্লাহ্‌… মনে মনে বলুন- আল্লাহর কাছে বদনজর থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আপনি অন্যের প্রশংসা করতে গিয়ে কথার মাঝে যিকর করুক। “মাশা-আল্লাহ! আপনার রান্না অনেক সুন্দর।”
আর অধিক পরিমাণে সালামের প্রচলন করুন, ইনশাআল্লাহ হিংসা দূর হয়ে যাবে।

সর্বোপরি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা বদনজর থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও, কেননা বদনজর সত্য!”

নজর থেকে বাচার একটা দুয়া, রাসুল সা. এটা পড়ে হাসান এবং হুসাইন রা.কে ফুঁ দিয়ে দিতেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই একই দু’আ আমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম আ.-ও ইসমাইল আ. এবং ইসহাক আ. এর জন্য পড়তেন। দুয়াটি হচ্ছে-

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
.
উচ্চারণঃ আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাহ। মিং-কুল্লি শাইত্বনিও ওয়াহা-ম্মাহ। ওয়ামিং-কুল্লি ‘আইনিল্লা-ম্মাহ।
অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি।

এই হাদিসটি আছে- বুখারি, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, মুসতাদরাকে হাকেম, তাবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে বাযযার, মুসান্নাফ, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাকে..

এই দু’আ সকাল-সন্ধ্যায় কয়েকবার পড়ে বাচ্চাদের ফুঁ দিয়ে দিবেন, নিজের জন্যও পড়বেন। ইনশাআল্লাহ তাবিজ-কবচ টোটকা ইত্যাদির কোনো দরকার হবেনা। আল্লাহই হিফাজত করবে।

বদনজর বিষয়ে অনেকগুলো ঘটনা আগেরবার (প্রথম সিরিজে) বলা হয়েছে, সেসব আর উল্লেখ না করি.. আমি আগের পোস্টগুলোর লিংক কমেন্টে দিয়ে দিচ্ছি। তবে সাহল ইবনে হুনাইফ রা. এর ঘটনা; যা মুয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাযাহ এবং নাসাঈ শরিফে আছে! সেটা এটা এখানে না বললেই নয়.

সাহল ইবনে হুনাইফ রাযি. কোথাও গোসলের জন্য জামা খুলেছিলেন। উনি বেশ সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। বদরী সাহাবী আমির ইবনে রবী’আ রাযি. তাঁকে দেখতে পেয়ে বললেন, এতো সুন্দর মানুষ আমি জীবনে দেখিনি। এমনকি এত সুন্দর কোন যুবতীকেও দেখিনি। আমির রাযি. কথাটা বলার পরপরই সাহাল রাযি. সেখানে বেহুশ হয় পড়ে গেলেন। তাঁর গায়ে জ্বর চলে আসলো। মারাত্মক জ্বরে ছটফট করতে লাগলেন হযরত সাহাল রাযি.।
অন্য সাহাবিরা রাসূল সা. কে জানালেন, সংবাদ পেয়ে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবস্থা দেখতে আসলেন। সাহল রাযি. কে হঠাৎ করে এমনটা হবার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি ঘটনাটা খুলে বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: “তোমরা কেন তোমাদের ভাইকে নজর দিয়ে হত্যা করছো?” আমির ইবনে রবী’আকে ডেকে বললেন: “তুমি যখন তাকে দেখলে, তখন আরো বরকতের দু’আ কেন করলেনা? বারাকাল্লাহ কেন বললে না?” (অর্থাৎ দুয়া করলে নজর লাগতো না)
এরপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন আমির রাযি. কে বললেন: অজু কর! আমির রাযি. অজু করলেন। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর নির্দেশে অযুর পানি সাহল এর গায়ে ঢেলে দিলেন। আল্লাহর রহমতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।”
এটা বিশুদ্ধ সনদে নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহতে বর্ণিত প্রসিদ্ধ একটি ঘটনা, যা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমরা বুঝতে পারি, ভালো মানুষের নজরও লাগতে পারেরে, এখানে আমির ইবনে রবিয়া রা. তো বদরি সাহাবি, বদরী সাহাবিদের আগের পরের সব গুনাহ মাফ!! এরকম মানুষের নজর লেগেছে, সেখানে অন্যরা কোন ছার..

আরেকটা হাদিস, উম্মুল মুমিনিন হাফসা রা. কোনো সাহাবির বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন, ফিরে এসে রাসুল সা.কে ওদের হালহাকিকত শোনালেন। বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ওই সাহাবির সন্তানরা প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে থাকে.. রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আসলে বদনজর তাদের দিকে খুব দ্রুত কাজ করে!”
আসমা রা. এর ব্যাপারেও এরকম ঘটনা পাওয়া যায়.. (হাদিসগুলো মুসলিম শরিফে আছে)

আমার বাড়ির একটা গল্প বলি, এবার ছুটিতে গিয়ে আম্মুকে আমার বদনজর নিয়ে লেখা আগের প্রবন্ধগুলো দেখালাম। সেখানে “বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত আর উটকে রান্নার পাতিল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়!” হাদিসটা দেখিয়ে আমি হাসতে হাসতে বললাম ‘হাদিসটা মজাদার না’?!!
আম্মু দেখি মন খারাপ করে বলছে- কয়েকদিন আগে আমার একটা মুরগী মরে গেছে..
জিগাইলাম কিভাবে?
আম্মু বলছে- “সন্ধ্যায় সব মুরগিকে খাওয়ার দিয়ে আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, তখন ওই মুরগিটার দিকে তাকায়া বললাম ইশ! এরকম আর একটা মুরগিও হলোনা.. একটা মুরগিও এরকম বড়সড় না, আর এর মতো একটাও ডিম দেয় না… তারপর সব মুরগি কুটিরে উঠেছে, ওই বড়সড় মুরগিটাও উঠেছে। পরদিন সকালে দেখি ওই মুরগিটা আর বের হয়না! পরে কুটিরের ভিতরে তাকায়া দেখি মুরগিটা এক কোণায় মরে পড়ে আছে… একদম ভালো মুরগি, কোনো অসুখ ছিল না, আমার ওই কথাগুলা বলার সময় কি নজর লাগছিল?”
– আমি বললাম.. “হ্যা….”

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 

বদনজর আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন

 

 বদনজর আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন

কিভাবে বুঝবেন আপনার নজর লেগেছে কিনা? নিচের লক্ষনগুলো এখনি মিলিয়ে দেখুন। সবগুলো মিলতে হবে এমন কোন কথা নেই। ২-১ টা মিললেও বলা যায় অল্প-স্বল্প নজরের সমস্যা আছে।
মুম্বাইয়ের একজন অভিজ্ঞ আলেম মুফতি জুনাইদ সাহেব নজর লাগার অনেকগুলো আলামত বর্ণনা করেছিলেন। যেমনঃ
.
১। শরীরে জ্বর থাকা, কিন্তু থার্মোমিটারে না উঠা।
২। কোনো কারণ ছাড়াই কান্না আসা..
৩। প্রায়সময় কাজে মন না বসা, নামায যিকর ক্লাসে মন না বসা।
৪। প্রায়শই শরীর দুর্বল থাকা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব লাগা।
৫। চেহারা ধুসর/হলুদ হয়ে যাওয়া।
৬। বুক ধড়পড় করা, দমবন্ধ অস্বস্তি লাগা।
৭। অহেতুক মেজাজ বিগড়ে থাকা।
৮। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সাথে দেখা হলেই ভালো না লাগা।
৯। অতিরিক্ত চুল পড়া। শ্যাম্পুতে কাজ না করা।
১০। পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া।
১১। বিভিন্ন সব অসুখ লেগে থাকা যা দীর্ঘদিন চিকিৎসাতেও ভালো হয় না। (সর্দিকাশি, মাথাব্যথা ইত্যাদি)
১২। হাত-পায়ে মাঝেমধ্যেই ব্যাথা করা, পুরো শরীরে ব্যাথা দৌড়ে বেড়ানো।
১৩। ব্যবসায় ঝামেলা লেগে থাকা।
১৪। আপনি যে কাজে অভিজ্ঞ সেটা করতে গেলেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া।
.
[আব্দুল্লাহ আলমাহমুদ]

 

রুকইয়াহ নিয়ে যত কথা - ৪ কমন সাজেশন

 May be an image of text that says 'রুকইয়াহ নিয়ে যত কথা -8 কমন সাজেশন MடOO rugyahbd.org'

রুকইয়াহ নিয়ে যত কথা - ৪
কমন সাজেশন
 
 

_______________
যারা রুকইয়াহ করছেন বা করতে চাচ্ছেন বা রুকইয়াহ গ্রুপে পোস্ট করেছেন এখনো এপ্রুভ হয়নি। সবার জন্যই পোস্টটি উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।।
[ক]
প্রাথমিক নির্দেশিকা...
_____
👉 রুকইয়াহ শুরুর পুর্বে রুকইয়াহ বিষয়ে ধারনা নিন।। এ সম্পর্কে আক্বীদা ঠিক করে নিন। আবারো মনে করিয়ে দেই, রুকইয়াহ কোন যাদুর চেরাগ না। এইটা একটা চিকিৎসা পদ্ধতি। সুন্নাহ থেকে উৎসারিত। যা দ্বারা আপনার আত্মিক ও শারীরিক সমস্যার শিফা মিলবে ইনশাআল্লাহ।
যদি সেটা না পান, তাহলে বুঝবেন সমস্যা আপনার ইয়াক্বীনে অথবা মেহনতে। রুকইয়াতে কাজ হচ্ছে না— এমন বিশ্বাস রাখা দূরের কথা চিন্তাতেও আনবেন না, সবকিছু ঠিক থাকলে ফায়দা হবেই।
👉 ওযু - গোসল, সালাত, পর্দাসহ সকল ফরজ হুকুম আহকাম জেনে নিবেন। আর সুন্নাহ পালনে সিরিয়াস ও যত্নবান হবেন। এছাড়া হায়েজ - নিফাস, সাদা স্রাবসহ সকল বিষয়ে মাস'আলা-মাসায়েল জেনে নিন।
👉 রুকইয়াহ শুরুর আগে ফরজ গোসল সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। অনেকেই এই ব্যাপারে জানেন না বা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আগে না করে থাকেন তাহলে আজই করে নিন। সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করে তওবা করে নিন।।
👉 যারা গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন এখনো পোস্ট এপ্রুভ হয়নি। তারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। আর পোস্ট এপ্রুভ না হওয়া পর্যন্ত বদনজরের রুকইয়াহ করুন। সিহর বা জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যা থাকলেও সম্ভব হলে আগে বদনজরের রুকইয়াহ করুন। এতে অন্যান্য রুকইয়াহ ভালো ফায়দা দিবে ইনশাআল্লাহ। বদনজরের রুকইয়াহ ঠিকঠাকমত করতে পারলে আল্লাহর রহমতে ৫০ থেকে ৮০/৯০% সমস্যা চলে যায়। তাই আগে বদনজরের রুকইয়াহ করুন। আর আপডেটগুলা নোট করুন।
[খ]
কমন রুকইয়াহ....
___
এক. ⁦পিরিয়ড বা মেয়েলী সমস্যায় ডিটক্স করুন। ফায়দা পাবেন ইনশাআল্লাহ। সাথে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও দেখিয়ে নিবেন। পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতা আর খাবার-দাবারের প্রতি যত্নশীল হবেন। আর হ্যা এই সময়টার আপডেট অবশ্যই নোট করবেন। আর পরবর্তীতে সাজেশন নেয়ার জন্য এইগুলো যোগ করুন।
দুই. সিহরের রুকইয়াহর ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন পুরো পরিবারের উপর রুকইয়াহ করার। পরিবার রাজি না থাকলে পানি বা খাবারে রুকইয়াহর আয়াত পড়ে দম করে খাওয়াবেন।
তিন. বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভারি রুকইয়াহ না করাই উত্তম।
বাচ্চাদের জন্য সুরা ফাতিহা, তিন কুল এবং আয়াতে শিফাই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ। আর মাসনুন আমলের প্রতি গুরুত্ব দিবেন।
চার. চেষ্টা করুন হাতের কাছে রুকইয়াহ ওয়াটার, তেল, মধু এইসব রাখতে। যেন প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়া রুকইয়াহ ইফেক্ট সামলানোর জন্য পানি রেডি রাখা। এক্ষেত্রে সুরাতুল ফাতিহা সাতবার, আয়াতে শিফা ৩/৭ বার, তিন কুল ৩/৭ বার, দরুদ শরীফ ৩/৭ বার পড়ে দম করুন। সাথে খেজুরও রাখতে পারেন। ভালো ফায়দা দিবে ইনশাআল্লাহ।
পাঁচ. ব্যথা, ঠান্ডা/এলার্জি, বদনজর এইগুলোর আপনার প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে রুকইয়াহ কিন্তু খুবই ফায়দাময় আলহামদুলিল্লাহ।
এই ধরনের সমস্যায় তাৎক্ষণিক রুকইয়াহ করতে পারেন। ফল পাবেন ইনশাআল্লাহ।
ছয়. 'রাতে জ্বিনের সমস্যা'য় যারা ভুগছেন তারা শুধু ঘুমানোর সময় না, সবসময় অযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন।। বেশি থেকে বেশি ইস্তিগফার করুন। দরুদ শরীফ পাঠ করুন। সাথে আট সুরা ও সুরা যিনার রুকইয়াহ শুনুন।। আর এই সমস্যার জন্য ডিটক্সও করে ফেলতে পারেন। ফায়দা হবে ইনশাআল্লাহ।
সাত. ডিটক্সের ক্ষেত্রে সাতদিনই সুরা বাকারার তিলাওয়াত করার চেষ্টা করুন। তা সম্ভব না হলে অন্তত প্রতিদিন ২/৩ দিনে সম্পূর্ণ বাকারা তিলাওয়াত করুন। আর সাথে প্রতিদিন তিলাওয়াতের অডিও শুনুন।
আট. সাধারণ অসুস্থতার ক্ষেত্রে সকালে আয়াতে শিফা ও সুরা ফাতিহা ৭ বার পড়ে পানি খাবেন।।
সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। আর চেষ্টা করুন কুর'আন, হাদীসে উল্লেখিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ এবং উপাদান ব্যবহার করতে। যেমন: মধু-কালোজিরা, যাইতুনের তেল, খেজুর ইত্যাদি।।
নয়. সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৭ টা আজওয়া খেজুর খান। আজওয়া না হলেও অন্য যে কোন খেজুর খেতে পারেন। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা ঘুমানোর আগে মধুর শরবত বা দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, উপকার পাবেন ইনশাআল্লাহ।
দশ. পড়াশুনা ও ইবাদাতে অমনোযোগীতার জন্য অন্ততপক্ষে ২ সপ্তাহ বদনজরের রুকইয়াহ করুন।
ইনশাআল্লাহ ফায়দা পাবেন।
এক্ষেত্রে (১৬ মিনিটের অই রুকইয়াহ) শুনতে পারেন। আর প্রত্যেক নামাজ শেষে তাসবীহে ফাতেমি পড়ুন। এরপর -
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
অর্থ: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
 
তাসবীহে ফাতেমীঃ
তাসবীহে ফাতেমী হলো আল্লাহ-আক-আকবার (তাকবীর) ৩৪ বার, আলহামদুলিল্লাহ (তাহমিদ) এবং ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ (তাসবীহ) ৩৩ বার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
 
এগারো. ব্যথার জন্য ব্যথার রুকইয়ার আয়াত পড়ে অলিভওয়েল/যাইতুনের তেল রেখে দিতে পারেন। যেকোন ধরনের ব্যথায় এইটা খুবই উপকারী আলহামদুলিল্লাহ।।
[গ]
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা...
🌿 রুকইয়াকে সকল সমস্যার সমাধানের মাধ্যম হিসেবে নিবেন না। সকল সমস্যা ও প্রয়োজন রবকে বলুন। সলাতের মাধ্যমে সাহায্য চান। বেশি বেশি দু'আ করুন। সাথে অল্প হলেও সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত দান-সাদাকা করুন।
🌿 নিজের জবানকে যিকরে ব্যস্ত রাখুন। বেশি বেশি করে ইস্তেগফার আর দরুদ শরীফ পাঠ করুন। একটু একটু ফুরসত পেলেই যিকর করতে থাকুন...। জীবনে আমূল পরিবর্তন চলে আসবে।
⁦⁦⁦🌿 সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমের সময়ের মাসনুন আমলগুলো গুরুত্বের সাথে করুন।। খারাপ কিছুর আশংকা করলে বা কুকুরের ডাক শুনলে শয়তানের থেকে পানাহ চান। তা'আউয পড়ুন। এছাড়া প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর পূর্বে বলা "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু.. দোয়াটা ১০ বার করে পড়ুন।"
🌿 মনে রাখবেন রুকইয়াহ করা মানে শুধু রুকইয়াহ শুনা না। রুকইয়াহর জন্য উত্তম হলো তিলাওয়াত করা। যদি আপনি একান্তই অপারগ তখন অডিও শুনুন। নাহলে তিলাওয়াত করুন। এতে বেশি ফায়দা হবে। আর যারা কুর'আন পড়তে পারেন না, তারা দ্রুত শিখে নিন। পারিনা বলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবেন না প্লিজ। আর যারা বলেন পড়া শুদ্ধ না, দ্রুত পড়তে পারিনা তাদের বলছি। ভয় বা অজুহাত না দিয়ে চেষ্টা করুন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার। আপনার তিলাওয়াত আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আপনি যদি নাই ই চেষ্টা করেন তাহলে ঠিক হবে কীভাবে!!
🌿 অনেকের ধারনা নিজে নিজে রুকইয়াহ করলে ফায়দা হবে না। কিংবা কম হবে। অমুকের কাছেই যেতে হবে। এইটা-ওইটা করতে হবে। নাহলে ঠিক হবে না। এইসব ধারনা থেকে বেঁচে থাকুন। যে কেউই রুকইয়াহ করতে পারেন। নিজেই নিজের রুকইয়াহ করুন। এইটাই অধিক উত্তম।।
তবে প্রফেশনালদের একটা ব্যাপার হচ্ছে, তারা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ তাই সমস্যা আইডেন্টিফাই করে সে মোতাবেক চিকিৎসা দিতে পারে। আর রুগীর অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। বাকি কোন বিশেষ ব্যক্তির প্রতি না। আল্লাহ তা'আলার কালামের উপর বিশ্বাস রাখুন।।

[সেলফ রুকইয়াহ গাইড-৪] সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর চিকিৎসার রুকইয়াহ

 

[সেলফ রুকইয়াহ গাইড-৪]
সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর চিকিৎসার রুকইয়াহ
------------------
[ক]
পৃথিবীতে প্রচলিত যাদুগুলর মধ্যে এই যাদুটি অনেক পুরাতন। এমনকি আল-কুরআনে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার যুগে লোকেরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে এই যাদু শিক্ষা করত বলে বর্ণিত আছে। [সুরা বাকারা-১০২]
যদিও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট করতে এই যাদু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়, তবে অন্যান্য সম্পর্ক নষ্ট করার জন্যও এই যাদু করা হতে পারে। আলোচনার সুবিধার্থে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা বলা হল।
এই যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষনঃ
১. স্বামী বাহিরে থাকলে দু'জন ভালো থাকে, বাড়িতে আসলেই দু'জন বা একজনের মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
২. দু'জনের কেউ খুব বেশি সন্দেহপ্রবন হয়ে যায়।
৩. ছোট ছোট বিষয়ে ছাড় দিতে চায়না, ঝগড়া বেধে যায়।
৪. স্ত্রী দেখতে যেমনই হোক, স্বামীর কাছে খারাপ লাগে, ভালো আচরণ করলেও ভালো লাগেনা।
৫. স্বামী কোন জায়গায় বসেছে বা একটা জিনিশ ব্যবহার করেছে -এটাও স্ত্রী অপছন্দ করে।
৬. অন্যদের সাথে আচরণ স্বাভাবিক কিন্তু স্বামী-স্ত্রী কথা বার্তা বলতে গেলেই ঝগড়া শুরু হয়ে যায়।
এখন কথা হল, এসব যদি কদাচিৎ ঘটে থাকে তাহলে চিন্তার কিছু নেই ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি প্রায়ই এমন হয় তাহলে খতিয়ে দেখা উচিত সমস্যা যাদুর জন্য হচ্ছে কিনা। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সব লক্ষণ মিলবে তেমন না! তবে সমস্যা থাকলে অন্তত ২-৩টা মিলে যাওয়ার কথা।
বিশেষভাবে লক্ষনীয়ঃ
এই যাদু অনেক সময়েই জিনের সাহায্য নিয়ে করে, তাই কারও কারও ক্ষেত্রে সরাসরি রুকইয়াহ করানোর প্রয়োজন হতে পারে। যদি জ্বিনের লক্ষনের মধ্যে ৫-৬ টি মিলে যায় অথবা যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে সেলফ রুকইয়াহ করতে করতে যেকোন সময় আপনি সরাসরি রুকইয়াহ কাউকে দিয়ে করাতে পারবেন। সরাসরি রুকইয়াহ মানে হল কেউ একজন আপনার উপর কুরআন তেলাওয়াত করবেন। যদি জ্বিন হাজির হয় তাহলে বুঝিয়ে শুনিয়ে জ্বিন বিদায় করবেন। এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা জিন সিরিজে বা রুকইয়াহ বইয়ের জিনের স্পর্শ অধ্যায়ে পাবেন (বিশেষ করে জিনের আসর বিষয় সিরিজের ৪ থেকে ৮ পর্ব) জিন সিরিজের লিংক:
তবে আপনি সেই অপেক্ষায় বসে না থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেলফ রুকইয়াহ শুরু করে দিলেই সবচেয়ে ভালো হবে।
[খ]
বিচ্ছেদের যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়া:
১। তাবিজ বা কোন কবিরাজি জিনিস থাকলে সবার আগে নিচের নিয়মে নষ্ট করে নিবেন। তাবিজ ব্যবহার করার জন্য তওবা করবেন।
২। ভালোভাবে পাক-পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা থেকে 'পরিত্রাণের' জন্য এবং সুস্থতার জন্য দু'আ করে ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ পড়ে রুকইয়াহ শুরু করুন। হাতের কাছে এক বোতল পানি নিয়ে বসুন। প্রথমে সিহরের রুকইয়া (ruqyahbd.org/download এখানে ৩ নাম্বারেরটা) অথবা শাইখ সুদাইসের বা অন্য কোনো ক্বারির সাধারণ রুকইয়া (ruqyahbd.org/download লিংকের ১১ থেকে ২০ মধ্যে যেকোনটা) শুনুন। আপনার যদি রুকইয়াহ সংক্রান্ত কোন সমস্যা থেকে থাকলে তাহলে কিছু ইফেক্ট হতে পারে। যেমন: অনেক ঘুম ধরবে, মাথাব্যথা করতে পারে। কিছু খাইয়ে যাদু করলে পেটব্যথা করবে, বমি বমি লাগতে পারে, হাত-পা ব্যথা করতে পারে, খুব ক্লান্ত লাগতে পারে। এরকম কিছু হলে বুঝে নিবেন সমস্যা আছে। আর উপরে তো লক্ষণ বলেছিই, যদি ২-৩টা মিলে যায়, তবে নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন।
[গ]
প্রেসক্রিপশন:
১. একটা বোতলে পানি নিয়ে "সুরা বাক্বারা ১০২, আ'রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯" আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। এখনি কিছুটা খেতে হবে, বাকিটা রেখে দিবে। আর এরপর এই পানি দুইবেলা কমপক্ষে আধগ্লাস করে খেতে হবে। আর প্রতিদিন গোসলের পানিতে আধ গ্লাস পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে।
২. সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জ্বিন, যিলযাল, ইখলাস, ফালাক, নাস - তেলাওয়াত করতে পারেন। উচ্চারন শুদ্ধ না হলে আট সুরার রুকইয়াহ শুনবেন প্রতিদিন তিনবার (ruqyahbd.org/download থেকে ৮ নং) কোনো দিন খুব ব্যস্ত থাকলে অন্তত একবার হলেও শুনবেন। চাইলে প্রতিদিন শোনার ক্ষেত্রে অন্য কারো হেল্প নিতে পারেন অর্থাৎ অন্য কেউ যদি আপনার সমস্যার নিয়াতে রুকইয়াহ শোনে তবুও আপনি উপকার পাবেন।
৩. তবে যদি যাদুর সাথে জ্বিনের সমস্যাও থাকে তাহলে প্রতিদিন এই আট সুরার রুকইয়াহ একবার শুনবেন এবং আয়াতুল কুরসি শুনবেন ১ থেকে দেড় ঘণ্টা।
৪. প্রতিদিন ১০০বার ইস্তিগফার এবং “লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ” পড়বেন। বেশি পড়লে আরো ভালো।
৫. রুকইয়া ভালোভাবে কাজ করার জন্য গানবাজনা শোনা যাবেনা। নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের পর্দা করাও ফরজ)
৬. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়বেন। আর ৩ ক্বুল তিনবার পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিবেন। ফজর এবং মাগরিবের পর ৩কুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)তিনবার করে পড়বেন।
৭. প্রতিদিন সুরা তাগাবুন তেলাওয়াত করবেন।
.৮. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, বিশেষত ৩ ক্বুল এর আমল ঠিকঠাক করবেন।
মাসনুন আমল সম্পর্কে জানতেঃ 
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
১। এই বিচ্ছেদের যাদু একদম ভালো হতে হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাসখানেক, কারও ক্ষেত্রে কয়েক মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। তখন ধৈর্যহারা হওয়া যাবেনা। সবরের সাথে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনার শত্রু আপনার ক্ষতি করলেই সফল হয়ে যায়না। সে তখনই সফল হয়, যখন আপনি সমাধানের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেন। শয়তান আপনাকে দিয়ে গুনাহ করালেই সফল হয়না। বরং শয়তান তখনই সফল হয়, যখন আপনি নিরাশ হয়ে তাওবা করা ছেড়ে দেন। এজন্য একবার যদি বুঝতে পারেন সমস্যা আছে, তবে এর শেষ না দেখে ছাড়বেন না, চালিয়ে যাবেন। আর সম্ভব হলে কাউকে বিষয়টা জানিয়ে রাখবেন যেন আপনি হত্যোদম হয়ে গেলে তিনি আপনাকে উৎসাহ দিতে পারেন।
২। রুকইয়া শুনতে থাকলে, সাথে পানি খেতে এবং গোসল করতে থাকলেও প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন সমস্যা বাড়তে পারে, এরপর আস্তে আস্তে কমতে কমতে মাসের শেষের দিকে একদম ভালো হয়ে যায়। সবার ক্ষেত্রেই এমন হয় যে তা বলছি না। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই হয়, কাজেই সমস্যা বাড়লে রুকইয়া করা বাদ দেয়া যাবে না। প্রথম প্রথম সমস্যা বাড়তে পারে, পরে আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
৩। পিরিয়ড থাকলেও রুকইয়াহ করা যায়। গোসল ও খাবার পানি আগে থেকেই বেশি করে তৈরি করে রাখবেন যেন পিরিয়ড চলাকালীন পানি শেষ হয়ে না যায়। আর শেষ হয়ে গেলেও অসুবিধা নেই, অন্য কেউ তৈরি করে দিলে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
৪। সেলফ রুকইয়াহ করার সময় আপনি চাইলে যেকোন একদিন বা একাধিক দিন কাউকে দিয়ে সরাসরি রুকইয়াহ করাতে পারেন। কোন অসুবিধা নেই।
অন্য কাউকে রুকইয়াহ করতে যখন বলবেন তখনও বিশেষভাবে এই কথাগুলো বলে দিবেন।
[ঙ]
সফলতাঃ
আল্লাহর রহমতে যদি আপনি থেকে মুক্তি পান তাহলে উপরোক্ত লক্ষনগুলো আপনার মধ্যে আর দেখা যাবে না। স্বামী কাছে আসতে চাইলে রাগ উঠবে না, স্ত্রীকে অসুন্দর মনে হবে না। বরং স্বাভাবিক ভালবাসা জন্ম নিবে। তখন আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন যে, আল্লাহ আপনাকে মুক্তি দিয়েছেন। তবে সতর্কতাস্বরুপ, সুস্থ হবার পরে আরও ৭ দিন রুকইয়াহ করবেন। এরপর আবার যেন কেউ যাদু করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখবেন। কাপড়-চোপড় সাবধানে রাখবেন, যাদেরকে সন্দেহ হয় তারা কোণ খাবার দিলে খাবেন না। মাসনুন আমল প্রতিদিন করবেন। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড থাকলেও করতে থাকবেন মাসনুন আমল।
আল্লাহ আপনাকে এমন আরোগ্য দান করুন যাতে আর কোন রোগ বাকি না থাকে। আমীন।

সম্পর্ক নষ্টের যাদুর জন্য প্রাথমিক সাজেশন

 May be an image of text that says 'সম্পর্ক নষ্টের যাদুর সংক্ষিপ্ত সাজেশন'

 

সম্পর্ক নষ্টের যাদুর জন্য প্রাথমিক সাজেশন

কারো সম্পর্ক নষ্টের জন্য যাদু/তাবিয করা হয়েছে মনে করলে প্রাথমিক ভাবে যেভাবে রুকইয়াহ করবেন। রুকইয়াহ ১/২ সপ্তাহ করে ভাল হয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ। ভাল না হলে আর অভিজ্ঞ এডমিনদের পরামর্শ দরকার মনে করলে আপনার সমস্যা সংক্ষেপে লিখে অবস্থা জানিয়ে পোস্ট করবেন।
রুকইয়াহ শোনা বা পড়া
১। সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জ্বিন, যিলযাল, ইখলাস, ফালাক, নাস এগুলো প্রতিদিন ২/৩ বার করে পড়া। পড়তে না পারলে ৮ সুরার রুকইয়াহ শোনা ২/৩ বার। আরো বেশি শুনতে পারলে ভাল, কম শুনলেও হবে ইনশা আল্লাহ্‌।
২। আয়াতুল কুরসির রুকইয়াহ শোনা দিনে ২/৩ বার অথবা ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আয়াতুল কুরসি পড়া।
৩। ১০০বার করে ইস্তেগফার আর লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়া। বেশি পড়তে পারলে আরো ভ।
পানি খাওয়া
৭/১০ দিনের জন্য খাওয়ার পানি একবারে তৈরি করে নিতে পারেন। দিনে ২ গ্লাস করে যত পানি দরকার অতটুকু পানি নিয়ে তাতে সুরা ফাতিহা, সুরা বাক্বারা ১০২, আয়াতুল কুরসি, আ'রফা ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯, ফালাক, নাস ১/৩/৭ যতবার পারেন পড়ে পানিতে ফুঁ দিবেন। এই পানি থেকে প্রতিদিন সকাল/বিকাল ১ গ্লাস করে খাবেন।
রুকইয়াহ গোসল
খাওয়ার পানি তৈরি করার মত করে গোসলের পানিতে আয়াতগুলো পড়ে ফু দিবেন। এরপরে ঐ পানি দিয়ে গোসল করবেন। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় পড়তে না পারলে বা এমনিতে সময় কম থাকলে খাওয়ার ঐ পানি থেকেই ১ গ্লাসের মত পানি মিশিয়ে গোসল করবেন।
এছাড়াও এই গোসলের বদলে বরই পাতার গোসলটা করতে পারেন যদি সুযোগ পান। নিয়ম bit.ly/boroibath
অন্যান্য আমল
  • সুরক্ষার আমলগুলি করবেন সকাল/সন্ধ্যা ও ঘুমের আগে (মাসনুন আমল)
  • গুনাহ থেকে দূরে থাকবেন যথাসম্ভব।
  • ফরজ, ওয়াজিবগুলো ভালভাবে আদায় করবেন। পর্দা করাও ফরজ। সুন্নাহর উপর থাকতে চেষ্টা করবেন
  • বেশি বেশি দুয়া করবেন আল্লাহর কাছে যেন শিফা দান করেন।
  • যাকে যাদু করা হয়েছে তিনি যদি রুকইয়াহ না করতে চান তবে সুযোগ হলে তাকে পানি পড়া খাওয়াবেন উপরের নিয়মে পানি তৈরি করে এবং গোসল করাবেন। এটাও না পারলে তার নিয়তে অন্য কেউ রুকইয়াহ করবেন।
  • যত ধরনের তাবিয গায়ে/ঘরে আছে নষ্ট করে নিবেন আগে bit.ly/tabij
রুকইয়াহ সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে আগে এই পোস্টে উত্তর খুঁজবেন bit.ly/ruqyahfaq ওখানে উত্তর না পেলে প্রশ্ন করবেন।

 

এই যাদুর লক্ষণসহ আরো কিছু বিস্তারিত জানতে ভিজিট করে এই লেখাটি পড়ুন 
 
[সেলফ রুকইয়াহ গাইড-৪]
সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর চিকিৎসার রুকইয়াহ
------------------
[ক]
পৃথিবীতে প্রচলিত যাদুগুলর মধ্যে এই যাদুটি অনেক পুরাতন। এমনকি আল-কুরআনে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার যুগে লোকেরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে এই যাদু শিক্ষা করত বলে বর্ণিত আছে। [সুরা বাকারা-১০২]
যদিও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট করতে এই যাদু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়, তবে অন্যান্য সম্পর্ক নষ্ট করার জন্যও এই যাদু করা হতে পারে। আলোচনার সুবিধার্থে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা বলা হল।
এই যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষনঃ
১. স্বামী বাহিরে থাকলে দু'জন ভালো থাকে, বাড়িতে আসলেই দু'জন বা একজনের মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
২. দু'জনের কেউ খুব বেশি সন্দেহপ্রবন হয়ে যায়।
৩. ছোট ছোট বিষয়ে ছাড় দিতে চায়না, ঝগড়া বেধে যায়।
৪. স্ত্রী দেখতে যেমনই হোক, স্বামীর কাছে খারাপ লাগে, ভালো আচরণ করলেও ভালো লাগেনা।
৫. স্বামী কোন জায়গায় বসেছে বা একটা জিনিশ ব্যবহার করেছে -এটাও স্ত্রী অপছন্দ করে।
৬. অন্যদের সাথে আচরণ স্বাভাবিক কিন্তু স্বামী-স্ত্রী কথা বার্তা বলতে গেলেই ঝগড়া শুরু হয়ে যায়।
এখন কথা হল, এসব যদি কদাচিৎ ঘটে থাকে তাহলে চিন্তার কিছু নেই ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি প্রায়ই এমন হয় তাহলে খতিয়ে দেখা উচিত সমস্যা যাদুর জন্য হচ্ছে কিনা। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সব লক্ষণ মিলবে তেমন না! তবে সমস্যা থাকলে অন্তত ২-৩টা মিলে যাওয়ার কথা।
বিশেষভাবে লক্ষনীয়ঃ
এই যাদু অনেক সময়েই জিনের সাহায্য নিয়ে করে, তাই কারও কারও ক্ষেত্রে সরাসরি রুকইয়াহ করানোর প্রয়োজন হতে পারে। যদি জ্বিনের লক্ষনের মধ্যে ৫-৬ টি মিলে যায় অথবা যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে সেলফ রুকইয়াহ করতে করতে যেকোন সময় আপনি সরাসরি রুকইয়াহ কাউকে দিয়ে করাতে পারবেন। সরাসরি রুকইয়াহ মানে হল কেউ একজন আপনার উপর কুরআন তেলাওয়াত করবেন। যদি জ্বিন হাজির হয় তাহলে বুঝিয়ে শুনিয়ে জ্বিন বিদায় করবেন। এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা জিন সিরিজে বা রুকইয়াহ বইয়ের জিনের স্পর্শ অধ্যায়ে পাবেন (বিশেষ করে জিনের আসর বিষয় সিরিজের ৪ থেকে ৮ পর্ব) জিন সিরিজের লিংক:
তবে আপনি সেই অপেক্ষায় বসে না থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেলফ রুকইয়াহ শুরু করে দিলেই সবচেয়ে ভালো হবে।
[খ]
বিচ্ছেদের যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়া:
১। তাবিজ বা কোন কবিরাজি জিনিস থাকলে সবার আগে নিচের নিয়মে নষ্ট করে নিবেন। তাবিজ ব্যবহার করার জন্য তওবা করবেন।
২। ভালোভাবে পাক-পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা থেকে 'পরিত্রাণের' জন্য এবং সুস্থতার জন্য দু'আ করে ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ পড়ে রুকইয়াহ শুরু করুন। হাতের কাছে এক বোতল পানি নিয়ে বসুন। প্রথমে সিহরের রুকইয়া (ruqyahbd.org/download এখানে ৩ নাম্বারেরটা) অথবা শাইখ সুদাইসের বা অন্য কোনো ক্বারির সাধারণ রুকইয়া (ruqyahbd.org/download লিংকের ১১ থেকে ২০ মধ্যে যেকোনটা) শুনুন। আপনার যদি রুকইয়াহ সংক্রান্ত কোন সমস্যা থেকে থাকলে তাহলে কিছু ইফেক্ট হতে পারে। যেমন: অনেক ঘুম ধরবে, মাথাব্যথা করতে পারে। কিছু খাইয়ে যাদু করলে পেটব্যথা করবে, বমি বমি লাগতে পারে, হাত-পা ব্যথা করতে পারে, খুব ক্লান্ত লাগতে পারে। এরকম কিছু হলে বুঝে নিবেন সমস্যা আছে। আর উপরে তো লক্ষণ বলেছিই, যদি ২-৩টা মিলে যায়, তবে নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন।
[গ]
প্রেসক্রিপশন:
১. একটা বোতলে পানি নিয়ে "সুরা বাক্বারা ১০২, আ'রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯" আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। এখনি কিছুটা খেতে হবে, বাকিটা রেখে দিবে। আর এরপর এই পানি দুইবেলা কমপক্ষে আধগ্লাস করে খেতে হবে। আর প্রতিদিন গোসলের পানিতে আধ গ্লাস পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে।
২. সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জ্বিন, যিলযাল, ইখলাস, ফালাক, নাস - তেলাওয়াত করতে পারেন। উচ্চারন শুদ্ধ না হলে আট সুরার রুকইয়াহ শুনবেন প্রতিদিন তিনবার (ruqyahbd.org/download থেকে ৮ নং) কোনো দিন খুব ব্যস্ত থাকলে অন্তত একবার হলেও শুনবেন। চাইলে প্রতিদিন শোনার ক্ষেত্রে অন্য কারো হেল্প নিতে পারেন অর্থাৎ অন্য কেউ যদি আপনার সমস্যার নিয়াতে রুকইয়াহ শোনে তবুও আপনি উপকার পাবেন।
৩. তবে যদি যাদুর সাথে জ্বিনের সমস্যাও থাকে তাহলে প্রতিদিন এই আট সুরার রুকইয়াহ একবার শুনবেন এবং আয়াতুল কুরসি শুনবেন ১ থেকে দেড় ঘণ্টা।
৪. প্রতিদিন ১০০বার ইস্তিগফার এবং “লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ” পড়বেন। বেশি পড়লে আরো ভালো।
৫. রুকইয়া ভালোভাবে কাজ করার জন্য গানবাজনা শোনা যাবেনা। নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের পর্দা করাও ফরজ)
৬. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়বেন। আর ৩ ক্বুল তিনবার পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিবেন। ফজর এবং মাগরিবের পর ৩কুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)তিনবার করে পড়বেন।
৭. প্রতিদিন সুরা তাগাবুন তেলাওয়াত করবেন।
.৮. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, বিশেষত ৩ ক্বুল এর আমল ঠিকঠাক করবেন।
মাসনুন আমল সম্পর্কে জানতেঃ 
 মাসনুন আমল
https://allzinone.blogspot.com/2021/05/blog-post_21.html
 
[ঘ]
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
১। এই বিচ্ছেদের যাদু একদম ভালো হতে হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাসখানেক, কারও ক্ষেত্রে কয়েক মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। তখন ধৈর্যহারা হওয়া যাবেনা। সবরের সাথে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনার শত্রু আপনার ক্ষতি করলেই সফল হয়ে যায়না। সে তখনই সফল হয়, যখন আপনি সমাধানের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেন। শয়তান আপনাকে দিয়ে গুনাহ করালেই সফল হয়না। বরং শয়তান তখনই সফল হয়, যখন আপনি নিরাশ হয়ে তাওবা করা ছেড়ে দেন। এজন্য একবার যদি বুঝতে পারেন সমস্যা আছে, তবে এর শেষ না দেখে ছাড়বেন না, চালিয়ে যাবেন। আর সম্ভব হলে কাউকে বিষয়টা জানিয়ে রাখবেন যেন আপনি হত্যোদম হয়ে গেলে তিনি আপনাকে উৎসাহ দিতে পারেন।
২। রুকইয়া শুনতে থাকলে, সাথে পানি খেতে এবং গোসল করতে থাকলেও প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন সমস্যা বাড়তে পারে, এরপর আস্তে আস্তে কমতে কমতে মাসের শেষের দিকে একদম ভালো হয়ে যায়। সবার ক্ষেত্রেই এমন হয় যে তা বলছি না। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই হয়, কাজেই সমস্যা বাড়লে রুকইয়া করা বাদ দেয়া যাবে না। প্রথম প্রথম সমস্যা বাড়তে পারে, পরে আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
৩। পিরিয়ড থাকলেও রুকইয়াহ করা যায়। গোসল ও খাবার পানি আগে থেকেই বেশি করে তৈরি করে রাখবেন যেন পিরিয়ড চলাকালীন পানি শেষ হয়ে না যায়। আর শেষ হয়ে গেলেও অসুবিধা নেই, অন্য কেউ তৈরি করে দিলে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
৪। সেলফ রুকইয়াহ করার সময় আপনি চাইলে যেকোন একদিন বা একাধিক দিন কাউকে দিয়ে সরাসরি রুকইয়াহ করাতে পারেন। কোন অসুবিধা নেই।
অন্য কাউকে রুকইয়াহ করতে যখন বলবেন তখনও বিশেষভাবে এই কথাগুলো বলে দিবেন।
[ঙ]
সফলতাঃ
আল্লাহর রহমতে যদি আপনি থেকে মুক্তি পান তাহলে উপরোক্ত লক্ষনগুলো আপনার মধ্যে আর দেখা যাবে না। স্বামী কাছে আসতে চাইলে রাগ উঠবে না, স্ত্রীকে অসুন্দর মনে হবে না। বরং স্বাভাবিক ভালবাসা জন্ম নিবে। তখন আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন যে, আল্লাহ আপনাকে মুক্তি দিয়েছেন। তবে সতর্কতাস্বরুপ, সুস্থ হবার পরে আরও ৭ দিন রুকইয়াহ করবেন। এরপর আবার যেন কেউ যাদু করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখবেন। কাপড়-চোপড় সাবধানে রাখবেন, যাদেরকে সন্দেহ হয় তারা কোণ খাবার দিলে খাবেন না। মাসনুন আমল প্রতিদিন করবেন। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড থাকলেও করতে থাকবেন মাসনুন আমল।
আল্লাহ আপনাকে এমন আরোগ্য দান করুন যাতে আর কোন রোগ বাকি না থাকে। আমীন।