Monday, July 5, 2021

বৈধ ওসিলা ও অবৈধ ওসিলা

 May be an image of text

 

বৈধ ওসিলা ও অবৈধ ওসিলা
প্রশ্ন: কবর বা কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তিকে ওসিলা (মাধ্যম) মনে করা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? করব যিয়াতকে ওসিলা ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া যাবে কি?
 
উত্তর:
◾ কবর বা কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তিকে ওসিলা (মাধ্যম) মনে করা শিরক। এটি মুশরিকদের কাজ।
আরবের মুশরিকরা তাদের শিরকের পক্ষে এই ওসিলা বা মাধ্যম ধরার যুক্তি পেশ করেছিল। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّـهِ زُلْفَىٰ
“যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে তারা বলে যে, আমরা তাদের এবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।” [সূরা যুমার: ৩] অর্থাৎ তারা মূর্তিপূর্জা কেবল এ জন্যই যে, এরা আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ওসিলা বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
 
হিন্দুদের মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে একই যুক্তি যে, এ সব মূর্তির মাধ্যমে তারা তাদের ভগবান/উপরওয়ালাকে সন্তুষ্ট করতে চায়!
বর্তমানে করবপূজারী মুশরিকদেরও একই যুক্তি যে , তারা এ সকল কবরবাসী ওলি-আওলিয়ার ওসিলায় আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চায় বা বিপদাপদ থেকে মুক্তি পেতে চায়!
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
আমাদের জানা দরকার যে, ইসলামে তিনটি মাত্র বৈধ ওসিলা বা মাধ্যম রয়েছে। মুসলিমদের কতর্ব্য, সে সকল ওসিলা গ্রহণ করা এবং সকল প্রকার শিরকি ওসিলা বর্জন করা।
 
বৈধ ওসিলা তিনটি। যথা:
🔵 ১) আল্লাহ নাম ও গুণাবলীর ওসিলায় আল্লাহর নিকট দুয়া করা। যেমন এভাবে বলা যে, হে আল্লাহ, আপনার রহমান (পরম দয়ালু) নামের গুণে আমার উপর দয়া করুন, আপনার গাফফার (পরম ক্ষমাশীল) নামের ওসিলায় আমাকে ক্ষমা করুন.. ইত্যাদি।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا
“আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম আছে, সেই নামের ওসিলায় (মাধ্যমে) তোমরা তাঁকে ডাক। [সূরা আরাফঃ ১৮০]
 
🔵 ২) নিজের কোনো ভাল কর্মের ওসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা। এভাবে বলা, হে আল্লাহ, তুমি আমার সালাত, সিয়াম, পিতা-মাতার সাথে সদাচারণ, আল্লাহর প্রতি ঈমান, নবীর প্রতি ভালবাসা (ইত্যাদি যে কোন নেক কাজ) এর ওসিলায় আমার দুআ কবুল কর।
 
এ ক্ষেত্রে সহীহ বুখারির হাদিসে আছে, তিন যুবক এক গুহায় আটকা পড়লে তারা প্রত্যেকে নিজের নেক আমলের ওসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করেছিলো এবং এর মাধ্যমে তারা বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলো।
 
🔵 ৩) কোন জীবিত সৎ লোকের দুআর ওসিলা দিয়ে দুআ করা:
 
কারো দুআর ওসিলা দেওয়ার অর্থ এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ, অমুক আমার জন্য দুআ করেছেন, আপনি আমার বিষয়ে তাঁর দুআ কবুল করে আমার হাজত পূরণ করে দিন। নেককার মুত্তাকি মুমিনদের নিকট দুআ চাওয়া সুন্নাত সম্মত রীতি এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
হাদিসে আনাস ইবনে মালিক (রা) বলেন,
 
إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ  كَانَ إِذَا قَحَطُوا اسْتَسْقَى بِالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنك  فَتَسْقِينَا وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا قَالَ فَيُسْقَوْنَ
 
“উমর রা. যখন অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতেন তখন আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিবকে রা. দিয়ে বৃষ্টির দুআ করাতেন, অতঃপর বলতেন: হে আল্লাহ আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওসিলায় আপনার নিকট প্রার্থনা করতাম ফলে আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচার ওসিলায়। অতএব আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। আনাস রা. বলেন, তখন বৃষ্টিপাত হতো।” [বুখারী, আস-সহীহ ১/৩৪২, ৩/১৩৬০]
 
◾ করব জিয়ারত করে তার ওসিলা গ্রহন বৈধ:
যে কোন ইবাদত করে সে ইবাদতকে ওসিলা ধরা যেহেতু বৈধ ওসিলার অন্তর্ভূক্ত সেহেতু কবর জিয়ারত করে তার ওসিলায় আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া জয়েয হবে। কেননা এটি একটি ইবাদত। তবে মনে রাখতে হবে, ওসিলা হবে করব জিয়ারতের; কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তির নয়
আল্লাহ আলাম।
 
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

 

এক মহিলাকে গোসল রত অবস্থায় দেখার কারণে সাহাবি সালাবা রা. এর কান্না এবং পাহাড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা সহিহ নয়

 May be an image of text that says 'এক মহিলাকে গোসল রত অবস্থায় দেখার কারণে সাহাবি সালাবা রা. এর কান্না এবং পাহাড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা সহিহ নয়'

 

এক মহিলাকে গোসল রত অবস্থায় দেখার কারণে সাহাবি সালাবা রা. এর কান্না এবং পাহাড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা সহিহ নয়:
প্রশ্ন: সালাবা নামক এক সাহাবির কথা শুনা যায়, যিনি এক মহিলাকে গোসল রত অবস্থায় দেখেছিলেন। অতঃপর, তিনি গুনাহের ভয়ে কান্না করতে করতে পাহাড়ে চলে গিয়েছিলেন। এই কাহিনীটা কি সত্য?
উত্তর:
সাহাবি সালাবা বিন আব্দুর রহমান আল আনসারি রা. কোনও এক গোসল রত নারীকে দেখে ফেলার কারণে কাঁদতে কাঁদতে পাহাড়ে চলে যাওয়া বিষয়ে একটি ঘটনা ফেসবুকে যথেষ্ট ভাইরাল। ঘটনার আগে-পরে জোড়-তালি লাগিয়ে এবং রং মাখিয়ে একেকজন একেকভাবে পোস্ট করছে।
এ হাদিসটি মূলত: বর্ণিত হয়েছে, হিলয়াতুল আওয়ালিয়া [৯/৩২৯-৩৩১] এবং মারিফাতুস সাহাবা [১/৪৯৮] ইত্যাদি গ্রন্থে।
কিন্তু বাস্তবতা হল, বিজ্ঞ হাদিছ বিশারদগণের দৃষ্টিতে এটি موضوع বা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ঘটনা। কারও মতে জইফ।
ইবনুল জাওযী রাহ. এ কাহিনীটিকে তার বিখ্যাত বানোয়াট হাদিস সংকলন আল মাউযুআত الموضوعات [৩/১২১] এবং সুয়ুতী রাহ. তার "আল লাআলি আল মাসনুয়া" اللآلئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة গ্রন্থে 'বানোয়াট হাদিস' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মুহাদ্দিস ইবনে ইরাক আল কিনানি এটিকে জইফ/দুর্বল বলেছেন। [দ্রষ্টব্য: তানযিহুশ শরিয়াহ ২/২৮৩]
সুতরাং এই জাতীয় অপ্রমাণিত ভিত্তিহীন-বানোয়াট ঘটনা বর্ণনা করা, ফেসবুকে পোস্ট করা বা শেয়ার করা হারাম। তবে এর মূল অবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা।
আল্লাহু আলাম।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

ইসালে সওয়াব করা কি শরিয়ত সম্মত?

 May be an image of text that says 'ইসালে সওয়াব করা কি শরিয়ত সম্মত? আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল'

 

প্রশ্ন: ইসালে সওয়াব করা কি শরিয়ত সম্মত?
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
উত্তর:
ইসালে সওয়াব বলতে বুঝায়, কোনও নেক আমল করার পর এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করা বা তার কবরে সওয়াব পৌঁছানো। এটিকে সওয়াব রেসানিও বলা হয়।
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হল, ইবাদত হল তওফিফিয়া বা কুরআন-সন্নাহর দলিলের উপর নির্ভরশীল। অত:এব একজন ইমানদারের কর্তব্য, দলিলের অনুসরণ করা; নতুন উদ্ভাবন করা নয়।
সুতরাং হাদিসে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের যেসকল করণীয় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে আমরা শুধু সেগুলোই করব। নিজেদের পক্ষ থেকে যা ইচ্ছা তাই করব না। 
 
মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দুআ করা, দান-সদকা করা, তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্জ-উমরা আদায় করা ইত্যাদি দলিল দ্বারা সাব্যস্ত। সুতরাং এগুলো সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। 
 
কিন্তু কুরআন খতম, শবিনাখানি, কুলখানি, ফাতিহাখানি, মিলাদ মাহফিল, সালাত আদায় ইত্যাদি করার পর ইসালে সওয়াব বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব দান করার সমর্থনে যেহেতু কোনও দলিল নাই তাই নির্ভরযোগ্য অভিমত অনুযায়ী সেগুলো করাও শরিয়ত সম্মত নয়।
 
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,
 
لم يكن من عادة السلف إهداء ذلك إلى موتى المسلمين ، بل كانوا يدعون لهم ، فلا ينبغي الخروج عنهم
 
“মৃত মুসলিমদের প্রতি সওয়াব দান করা আমাদের সালাফ তথা পূর্ববর্তী মনিষীদের নিয়ম ছিল না বরং তাঁরা মৃতদের জন্য দুআ করতেন। অতএব, তাদের এ নিয়মের বাইরে যাওয়া আমাদের সমীচীন নয়…।” (মাওয়াহিবিল জালীল শারহু মুখতাসিল খালীল ৩/৫২০)
 
‘মুয়াফাকাত’ কিতাবে আল্লামা আবু ইসহাক রহ. [নাম: ইবরাহীম বিন মুসা আবু ইসহাক আশ শাত্বেবী-গ্রানাডা। জন্ম: ৭২০ হিজরি। তার রচিত অন্যতম গ্রন্থ হল, আল মুয়াফাকাত ফী উসূলিশ শারীয়াহ।] অত্যন্ত সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইসালে সওয়াব তিনটি কারণে জায়েজ নয়। যথা:
 
◉ এক. ইসলামে সম্পদ দান করা বৈধ প্রমাণিত; সওয়াব দান করা প্রমাণিত নয়। সুতরাং সওয়াব দানের ব্যাপারে যেহেতু কোন প্রমাণ নেই তাই তাকে বৈধ বলাও অন্যায়।
 
◉ দুই. যে কোন আমলের পুরস্কার বা শাস্তি ইসলামে নির্ধারণ করা রয়েছে। তাছাড়া প্রতিদান পাওয়া কাজের উপর নির্ভরশীল। মানুষ যেমন কাজ করবে তেমন প্রতিদান লাভ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
 
جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“তাদের কর্ম অনুপাতে তাদের জন্যে রয়েছে প্রতিদান।” [সূরা সাজদাহঃ ১৭]
সুতরাং এ ক্ষেত্রে কারো এখতিয়ার নেই যে, ইচ্ছা করলেই নিজের আমলের প্রতিদান আরেকজনকে দান করে দিবে।
 
◉ তিন. সওয়াব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ। এ ব্যাপারে আমল কারীর হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। অতএব, নিজের আমলের সওয়াব অন্য কাউকে দান করার অধিকারও তার নেই।
 
কিছু মানুষ ইসালে সওয়াবের প্রমাণ হিসেবে বদলী হজ্জ, বদলী রোযা এবং দান-সদকা করার হাদিসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে থাকে অথচ বদলী এবং ইসালে সওয়াব এর মাঝে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। যেমন:
 
বদলীর ক্ষেত্রে একজনের দায়িত্ব আরেকজন পালন করে থাকে। যেমন: বদলী হজ্জ করার সময় বলা হয় “লাব্বাইকা আন ফুলান” (হে আল্লাহ,আমি অমুকের পক্ষ থেকে হাজির) অথবা মনে মনে নিয়ত করা হয়, আমি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ পালন করছি। কিন্তু ইসালে সওয়াব বা সওয়াব দানের ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদন করে সে বলে, হে আল্লাহ,আমার এ হজ্জের সওয়াব অমুক ব্যক্তিকে দিয়ে দাও।
 
প্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ-উমরা আদায় করা, দান-সদকা করা ইত্যাদি কুরআন-হাদিস দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত। কিন্তু দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অর্থাৎ নিজ আমলের সওয়াব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দান করা প্রকৃত বিদআত যেমনটি বলেছেন ইসমাইল শহীদ রহ.।
 
মাওলানা ইসমাইল শহীদ রহ. ‘ঈযাহুল হক’ কিতাবে লিখেছেন, “জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব বখশীয়ে দেয়া প্রকৃত বিদআত। পক্ষান্তরে আর্থিক ইবাদত (হজ্জ, উমরা, দান-সদকা ইত্যাদি) ক্ষেত্রে বদলী নিযুক্ত করা বৈধ।” [ উৎস: কুরআন খানী আওর ঈসালে সওয়াব-মুখতার আহমদ নদভী-অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল]
 
তবে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি জীবিতদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হল:
🔹 ১) তার জন্য দুয়া করা।
🔹 ২) তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা।
🔹 ৩) তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ বা উমরা আদায় করা।
🔹 ৪) তার মানতের রোযা বাকি থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তা পালন করা। আর রমাযানের রোযা বাকি থাকলে প্রত্যেক রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা।
🔹 ৫) সে যদি ঋণ রেখে মারা যায় অথবা কোন সম্পত্তি ওয়াকফ বা ওসিয়ত করে যায় তবে তা প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া।
 
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
উৎস: মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

 

লেখক কর্তৃক প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে বই উৎসর্গ করার বিধান

 May be an image of text that says 'প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে বই উৎসর্গ করার বিধান'

 

লেখক কর্তৃক প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে বই উৎসর্গ করার বিধান
প্রশ্ন: লেখক কর্তৃক প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে বই উৎসর্গ [Dedication] করার বিধান কি?
উত্তর:
অনেক লেখক তাদের বইয়ের শুরুতে লিখে যে, "এই বইটি উৎসর্গ করা হল, অমুকের করকমলে বা অমুকের উদ্দেশ্যে..."। কেউ উৎসর্গ করে পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে, কেউ কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে, কেউ তার স্ত্রী বা প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে আবার কেউ বা তার আদরের সন্তানদের উদ্দেশ্যে। এটাকে আরবিতে বলা হয়, الإهداء (আল ইহদা)। অর্থ: হাদিয়া/উপহার প্রদান।
এ পদ্ধতিটি পূর্বে যুগের মুসলিম লেখকদের মাঝে দেখা না গেলেও আধুনিক যুগের অনেক লেখককেই এমনিট করতে দেখা যায়। চাই সে ইসলামি লেখক হোক অথবা সাধারণ লেখক হোক।
আধুনিক যুগের লেখকগণ একাধিক উদ্দেশ্য এমনটি করে থাকে। কারও উদ্দেশ্য থাকে তার প্রিয়জনকে খুশি করা। কারও উদ্দেশ্য থাকে বিশেষ কোনও ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ বা সুদৃষ্টি লাভ করা। আবার কারও উদ্দেশ্য থাকে, তার মৃত বাবা, মা, শিক্ষক, গুরুজন অথবা অন্য কোনও প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে এর সওয়াব পৌঁছানো (ঈসালে সওয়াব/সওয়াব রেসানি) করা।
এ বিষয়ে নিম্নে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ও এ ইসলামের বিধান আলোচনা করা হল:
যারা তাদের বইকে কারো নামে উৎসর্গ করে তাদের উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে তার বিধান প্রযোজ্য হবে। নিম্নে এর তিনটি রূপ ও সেগুলোর বিধান উল্লেখ করা হল:
◈ ১) যদি দ্বীন বিষয়ক কোন বই কে লেখক তার মৃত মা-বাবা, শিক্ষক অথবা অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে উৎসর্গ করে আর এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য হয় যে, এর সওয়াব যেন সে ব্যক্তি কবরে থেকে লাভ করে তাহলে তার শরিয়ত সম্মত নয়। এটা মূলত বেদাতি ''ইসালে সওয়াব' এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তা নাজায়েজ।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: ইসালে সওয়াব করা কি শরিয়ত সম্মত?
 
ইসালে সওয়াব বলতে বুঝায়, কোনও নেক আমল করার পর এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করা বা তার কবরে সওয়াব পৌঁছানো। এটিকে সওয়াব রেসানিও বলা হয়।
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হল, ইবাদত হল তওফিফিয়া বা কুরআন-সন্নাহর দলিলের উপর নির্ভরশীল। অত:এব একজন ইমানদারের কর্তব্য, দলিলের অনুসরণ করা; নতুন উদ্ভাবন করা নয়।
সুতরাং হাদিসে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের যেসকল করণীয় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে আমরা শুধু সেগুলোই করব। নিজেদের পক্ষ থেকে যা ইচ্ছা তাই করব না।
মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দুআ করা, দান-সদকা করা, তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্জ-উমরা আদায় করা ইত্যাদি দলিল দ্বারা সাব্যস্ত। সুতরাং এগুলো সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। কিন্তু কুরআন খতম, শবিনাখানি, কুলখানি, ফাতিহাখানি, মিলাদ মাহফিল, সালাত আদায় ইত্যাদি করার পর ইসালে সওয়াব বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব দান করার সমর্থনে যেহেতু কোনও দলিল নাই তাই নির্ভরযোগ্য অভিমত অনুযায়ী সেগুলো করাও শরিয়ত সম্মত নয়।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,
لم يكن من عادة السلف إهداء ذلك إلى موتى المسلمين ، بل كانوا يدعون لهم ، فلا ينبغي الخروج عنهم
“মৃত মুসলিমদের প্রতি সওয়াব দান করা আমাদের সালাফ তথা পূর্ববর্তী মনিষীদের নিয়ম ছিল না বরং তাঁরা মৃতদের জন্য দুআ করতেন। অতএব, তাদের এ নিয়মের বাইরে যাওয়া আমাদের সমীচীন নয়…।” (মাওয়াহিবিল জালীল শারহু মুখতাসিল খালীল ৩/৫২০)
‘মুয়াফাকাত’ কিতাবে আল্লামা আবু ইসহাক রহ. [নাম: ইবরাহীম বিন মুসা আবু ইসহাক আশ শাত্বেবী-গ্রানাডা। জন্ম: ৭২০ হিজরি। তার রচিত অন্যতম গ্রন্থ হল, আল মুয়াফাকাত ফী উসূলিশ শারীয়াহ।] অত্যন্ত সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইসালে সওয়াব তিনটি কারণে জায়েজ নয়। যথা:
◉ এক. ইসলামে সম্পদ দান করা বৈধ প্রমাণিত; সওয়াব দান করা প্রমাণিত নয়। সুতরাং সওয়াব দানের ব্যাপারে যেহেতু কোন প্রমাণ নেই তাই তাকে বৈধ বলাও অন্যায়।
◉ দুই. যে কোন আমলের পুরস্কার বা শাস্তি ইসলামে নির্ধারণ করা রয়েছে। তাছাড়া প্রতিদান পাওয়া কাজের উপর নির্ভরশীল। মানুষ যেমন কাজ করবে তেমন প্রতিদান লাভ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“তাদের কর্ম অনুপাতে তাদের জন্যে রয়েছে প্রতিদান।” [সূরা সাজদাহঃ ১৭]
সুতরাং এ ক্ষেত্রে কারো এখতিয়ার নেই যে, ইচ্ছা করলেই নিজের আমলের প্রতিদান আরেকজনকে দান করে দিবে।
◉ তিন. সওয়াব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ। এ ব্যাপারে আমল কারীর হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। অতএব, নিজের আমলের সওয়াব অন্য কাউকে দান করার অধিকারও তার নেই।
কিছু মানুষ ইসালে সওয়াবের প্রমাণ হিসেবে বদলী হজ্জ, বদলী রোযা এবং দান-সদকা করার হাদিসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে থাকে অথচ বদলী এবং ইসালে সওয়াব এর মাঝে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। যেমন:
বদলীর ক্ষেত্রে একজনের দায়িত্ব আরেকজন পালন করে থাকে। যেমন: বদলী হজ্জ করার সময় বলা হয় “লাব্বাইকা আন ফুলান” (হে আল্লাহ,আমি অমুকের পক্ষ থেকে হাজির) অথবা মনে মনে নিয়ত করা হয়, আমি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ পালন করছি। কিন্তু ইসালে সওয়াব বা সওয়াব দানের ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদন করে সে বলে, হে আল্লাহ,আমার এ হজ্জের সওয়াব অমুক ব্যক্তিকে দিয়ে দাও।
প্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ-উমরা আদায় করা, দান-সদকা করা ইত্যাদি কুরআন-হাদিস দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত। কিন্তু দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অর্থাৎ নিজ আমলের সওয়াব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দান করা প্রকৃত বিদআত যেমনটি বলেছেন ইসমাইল শহীদ রহ.।
মাওলানা ইসমাইল শহীদ রহ. ‘ঈযাহুল হক’ কিতাবে লিখেছেন, “জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব বখশীয়ে দেয়া প্রকৃত বিদআত। পক্ষান্তরে আর্থিক ইবাদত (হজ্জ, উমরা, দান-সদকা ইত্যাদি) ক্ষেত্রে বদলী নিযুক্ত করা বৈধ।” [ উৎস: কুরআন খানী আওর ঈসালে সওয়াব-মুখতার আহমদ নদভী-অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল]
তবে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি জীবিতদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হল:
🔹 ১) তার জন্য দুয়া করা।
🔹 ২) তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা।
🔹 ৩) তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ বা উমরা আদায় করা।
🔹 ৪) তার মানতের রোযা বাকি থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তা পালন করা। আর রমাযানের রোযা বাকি থাকলে প্রত্যেক রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা।
🔹 ৫) সে যদি ঋণ রেখে মারা যায় অথবা কোন সম্পত্তি ওয়াকফ বা ওসিয়ত করে যায় তবে তা প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া।
 
 
 
◈ ২. আর যদি কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি, নেতা, মন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধান ইত্যাদি ব্যক্তির নামে উৎসর্গ করা দ্বারা উদ্দেশ্য হয় তার সুদৃষ্টি অর্জন বা কিছু দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল তাহলেও তা অনুচিত। এইভাবে চাটুকারিতার মাধ্যমে টাকা পয়সা বা দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করা কোনো ব্যক্তিত্ববান লেখকে জন্য উচিত নয়। বিশেষ করে কোন দীনী কাজকে এই উপলক্ষ বানানো খুবই গর্হিত অপছন্দনীয় কাজ।
◈ ৩. কিন্তু যদি লেখকের উদ্দেশ্য হয়, তার কোন প্রিয় বা শ্রদ্ধা ভাজন ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ তাহলেও তা অনুচিত। কারণ এই পদ্ধতিটি মূলত অমুসলিমদের থেকে এসেছে। আমাদের সালাফ বা পূর্বসূরিগণ কখনো এমনটি করে নি। সুতরাং এটি অমুসলিমদের সংস্কৃতি অনুসরণের নামান্তর।
❑ সঠিক পদ্ধতি:
কেউ যদি বইয়ের মাধ্যমে বিশেষ কারো প্রতি ভালোবাসা বা সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে চায় তাহলে বইয়ের ভূমিকা বা অন্য কোথাও উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি স্পষ্ট ভাবে তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে পারে বা তার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতে পারে। কিন্তু উৎসর্গ করার এই পদ্ধতিটি কোন ইসলামি সংস্কৃতি নয়। বরং তা এসেছে পাশ্চাত্য বা অমুসলিমদের সংস্কৃতি থেকে। মুসলিমদের জন্য এই পদ্ধতি পরিহার করাই অপরিহার্য।
আর যে সকল বইয়ছ এমন উৎসর্গ করার বিষয়টি আছে পাঠকদের জন্য তা পড়া অবৈধ নয় যদি বইয়ের বিষয়বস্তু কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক বা মানুষের জন্য উপকারী হয়। কারণ পাঠক বইয়ে থাকা উপকারী জ্ঞান অর্জন করবে। আর উৎসর্গ করার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ লেখক এর উপর বর্তাবে; পাঠকের উপরে নয়। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

 

সন্তান লালন পালনের সঠিক পদ্ধতিঃ how to raise children

 

সন্তান লালন পালনের সঠিক পদ্ধতিঃ
 
★স্ত্রী হিসেবে পুণ্যবতী স্ত্রী চয়ন করা।
★আল্লাহর নিকট নেক সন্তানের জন্য দোয়া করা।
★সন্তান লালন-পালনে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া।
★ সন্তানের জন্য দোয়া করা এবং বদ দোয়া করা থেকে বিরত থাকা।
★সুন্দর নাম এবং উপনাম ব্যবহার করা।
★ তাদের অন্তরে ঈমান, সঠিক আক্বীদা এবং উত্তম চরিত্র গেঁথে দেয়া।
★ তাদেরকে মন্দ চরিত্র থেকে দূরে রাখা।
★তাদেরকে শরয়ী আযকার এর মাধ্যমে ( বিশেষ করে ছোটদেরকে) সুরক্ষিত করা।
★ আল্লাহর কুরআন মুখস্থের ব্যপারে তাদেরকে উৎসাহিত করা।
★ তাদের প্রতিভা বিকাশে যেটা তাদের জন্য প্রযোজ্য, সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেয়া।
★ ঘর থেকে চরিত্র বিধ্বংসী সামগ্রী দূর করে তার পরিবর্তে উপকারী কিছু রাখা।
★অতিরিক্ত সাজসজ্জা এবং চলমান চরিত্র বিধ্বংসী বস্তু থেকে বিরত রাখা, সাহসিকতা এবং সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত করা।
★ অযথা কথা বলা, অতিরিক্ত ঘুমান এবং অনর্থক মানুষের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত রাখা।
★ ছোট থেকেই মসজিদে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। বড় হলে তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া।
★ তারবিয়তের ব্যাপারে আদর্শ অনুসরণ করা, কথার বরখেলাফ হওয়া থেকে বিরত থাকা।
★ তাদেরকে কথা বলার শালীনতা শেখাতে হবে। নির্লজ্জতা ও অসামঞ্জস্য কথা বলা থেকে দূরে রাখা।
★ তাদের সাথে পরামর্শ করা, বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে তাদেরকে অভ্যস্ত করা। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া।
★ তাদের মেজাজ বুঝে তাদের সাথে আচরণ করা।
★ তাদের বয়স অনুপাতে তাদের সাথে ব্যবহার করা।
★ তাদের সাথে বসা, তাদের মধ্যে ইনসাফ করা এবং তাদের সহানুভূতি বা আকর্ষণকে মূল্যায়ন করা।
★ উত্তমভাবে তাদের প্রতি খরচ করা।
★ মনযোগ সহকারে তাদের কথা শোনা।
★ নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নেয়া।
★ সন্তানের সৎসংগীদের মর্যাদা দেয়া। সন্তানকে খারাপ সংগ থেকে দূরে রাখা।
★ সন্তানের ভুলগুলো বড় করে না দেখা।
★ ভুল করলে তাদেরকে সংশোধনের সূযোগ দেয়া।
★ প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা।
★তাদের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা। তাদের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা।
★ তাদের মান অনুযায়ী ঘরে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং তাদের উপযুক্ত করে মজলিসের ব্যবস্থা করা।
★ মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া। মাহরাম ব্যতীত একাকী ঘরের বাইরে যাইতে না দেয়া।
★ মেয়েরা ছেলেদের মতো, ছেলেরা মেয়েদের মতো করে চলবে না। সবাইকে কাফিরদের সাদৃশ্য হয়ে চলতে নিষেধ করবে।
★দ্বীনদার, চরিত্রবান বিয়ের প্রস্তাব এলে, মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা। আর ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে যোগ্যতা, সামর্থ্য বিবেচনা করে বিয়ের ব্যবস্থা করা।
★ সন্তানের সংশোধনের ব্যাপারে হতাশ না হওয়া। দ্রুত ফলাফল পাওয়া থেকে বিরত থাকা।
★ ভালো কাজে সন্তানকে সহযোগিতা করা। উৎসাহিত করা ও তাদেরকে পুরস্কৃত করা।
★তারবিয়ত সম্পর্কে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদের সাথে পরামর্শ করা। এ বিষয়ে লিখিত ভালো বই অধ্যয়ন করা।
★ তারবিয়তের ফজিলত জানা এবং তারবিয়ত না থাকলে এর পরিণাম সম্পর্কে ধারণা রাখা।
★মোটকথা একজন পিতা তার সন্তানের দ্বীন এবং দুনিয়ার উপকারে যা করণীয় তাই করবে। আর যা তাদের জন্য ক্ষতিকর তা প্রতিহত করবে।
আল্লাহ তা'য়ালা সবাইকে নেক সন্তান দান করুন। সন্তানদেরকেও নেক সন্তান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
মুহাম্মদ ইউসুফ।

যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর

 

যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর
 
ক/ ইমাম আ'মাশ রহ. কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ইবলিসের বউ'র নাম কী? 
 
জবাবে তিনি বললেন, আমি ইবলিসের বিয়েতে শরীক হইনি, তাই বলবো কি করে? (দ্র. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৪/৪১৪)
 
খ/ ইমাম আবু হানিফা রহ. কে এক লোক প্রশ্ন করল, কাপড় ওপরে রেখে নদীতে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে মুখ কোন মুখী রাখবো? কেবলামুখী না কেবলা থেকে সরিয়ে? 
 
আবু হানিফা রহ. বললেন, উত্তম হল তোমার মুখ কাপড়মুখী করে রাখবে যাতে কাপড়গুলো কেউ নিয়ে না যায়। (দ্র. আলমিরাহু ফিল মিযাহ পৃ. ৪৩)
 
 
গ/ ইমাম শা'বী রহ. কে এক লোক জিজ্ঞেস করল, এহরাম অবস্থায় কেউ কি চুলকাতে পারবে? 
 
জবাবে বললেন, হ্যাঁ পারবে। লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করল, কতটুকু চুলকাতে পারবে? শা'বী রহ. বললেন, যতক্ষণ না ভেতরের হাড্ডি দেখা যাবে ততক্ষণ চুলকাতে পারবে। (দ্র. আলমিরাহু ফিল মিযাহ পৃ. ৩৯)

উত্তম ও পবিত্র জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য আমরা কি করব?

 

উত্তম ও পবিত্র জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য আমরা কি করব?
 
সবাই নিজের জীবনে উত্তম-পবিত্র জীবনসঙ্গী চাই, কিন্তু তা কখনো নিজ ইচ্ছায় চাইলেই পাওয়া যায় না, আল্লাহ যদি চায় তাহলেই পাওয়া যায়। আল্লাহর পক্ষে আপনার ধারণা থেকেও উত্তম কিছু দেওয়া কোন ব্যাপার না। তাই শুধু তাঁরই অভিমুখি হোন। তাঁর কাছেই চাইতে থাকুন। শুধু শুধু অকারণেই চিন্তা করে কোনো লাভ হবে না।
 
মনে রাখবেন, আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া'তায়ালা যদি না চান, তাহলে তা কখনোই ঘটবে না। আবার, আল্লাহ্ তা'আলা যদি চান তাহলে কেউই তা রুখতে পারবে না, যতোই প্রতিকূলতা থাক না কেন।
 
তাই, যিনি দিতে পারবেন, তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করুন, শুধু তাঁর রহমতের জন্য নিজের জীবনকে প্রস্তুত করুন, রবের আদেশ পালনে সর্বদা নিজের নফসকে(আত্মা) নিয়োজিত রাখুন।
 
আর যেহেতু দু'আর মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাই আমাদের উচিত সর্বদা দোয়া করে আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। এই যেমন, নেককার জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া, উত্তম স্বামী পাওয়ার দোয়া, নেককার স্ত্রী পাওয়ার দোয়া ইত্যাদি।
 
১.
অতিদ্রুত হালাল, উত্তম ও সম্মানজনক রুজি এবং উত্তম ও দ্বীনদার স্ত্রী পাওয়ার জন্য বেশি করে মুসা 'আলাইহিস সালাম এর দোয়াটি পড়তে পারেন:
 
َ رَبِّ اِنِّیۡ لِمَاۤ اَنۡزَلۡتَ اِلَیَّ مِنۡ خَیۡرٍ فَقِیۡرٌ
 
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী। (আল-কাসাস ২৮:২৪)
 
২.
উত্তম জীবনসঙ্গী, নেককার সন্তান-সন্ততির জন্য নিচের দোয়টি গুরুত্বপূর্ণ :
 
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا .
 
হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
(আল ফুরকান ২৫:৭৪)
 
৩.
বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করুন। কারণ এটা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম একটি আমল। আর, আপনার জীবনের প্রতিটি নিয়ামত ও প্রশান্তি আপনার রিজিকেরই অন্তর্ভুক্ত।
 
৪.
সবসময় তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর নিকট সাহায্য চান। কারণ এটা দ্রুত বিয়ে ও দ্বীনদার স্বামী/স্ত্রী পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
 
৫.
বিবাহ প্রয়োজন এমন মুসলিম ভাইবোনদের জন্য দোয়া করুন ও তাদের জন্য চেষ্টা করুন। কারণ কোন মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা‌ও আপনার জন্য দোয়া করবেন। আর তাদেরকে সাহায্য করলে, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে সাহায্য করবেন।
 
৬.
দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণের জন্য এবং সমস্ত অকল্যাণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বেশি বেশি নিচের দোয়াটি পড়ুন:
 
‎ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
 
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতে কল্যাণ দাও আর আমাদেরকে দোজখের শাস্তি হতে রক্ষা কর।
(সুরা বাকারা ০২: ২০১)
 
সর্বোপরি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রেখে হালাল পন্থায় ভালো স্বামী/স্ত্রী পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকুন। কারণ এক্ষেত্রে দোয়া, আমল ও আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখাই মূল বিষয়। এছাড়া পবিত্র ও দ্বীনদার স্বামী/স্ত্রী পেতে নিজেকেও পবিত্র রাখতে হবে।
 
অর্থাৎ উওম জীবনসঙ্গী পেতে আল্লাহর নিকট দোয়া করাই ‌সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কারণ আমাদের সকল সমস্যা সমাধানে দোয়া খুবই কার্যকরি।
 
দোয়ার মাধম্যেই আমরা আমাদের জীবনে উওম জীবনসঙ্গী পেতে পারি।
"আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া'তায়ালা আমাদেরকে বেশি বেশি দোয়া করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুক।" আমিন♥
:
সংগৃহীত

গার্লস গ্রুপ ও স্বামী-স্ত্রীর অবস্থা

 May be an image of one or more people and text that says 'স্বামী-স্ত্রীর তোরা মাঝে মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসা ও মিলমিশের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবেন আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত। (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৫) THEPATHOF ighteousness thepathofrighteous thepathofrighteousness e_pathofrighteousness'

 

গার্লস গ্রুপগুলোতে অনেকে ইনভাইট করে। সজ্ঞানে কেটে পড়ার চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত যতগুলো গার্লস গ্রুপে এড হয়েছি বেশির ভাগ স্বামী আর শ্বশুর বাড়ির বদনাম ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে নাই। আমার অনেক দ্বীনি বোনদের দেখি আবার এসব ফিলথি পোস্টে লাইক কমেন্ট করেন। ব্যাপারটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
.
স্বামী খারাপ, স্বামী মাম্মি'স বয়, স্বামী ক্যাবলাকান্ত হাবা গোবা, স্বামী অলস কোন কাজ করে না, স্বামী বাসার কাজে সাহায্য করে না, স্বামী ঘুরতে নিয়ে যায় না, স্বামী বদরাগী, স্বামী এই, স্বামী সেই এন্ড দ্যা লিস্ট গো অন এন্ড অন ...
.
সুব'হানাল্লাহ! দ্বীনের জ্ঞান যখন একদমই ছিলো না তখন স্বামীর প্রতি আচরণের ব্যাপারে নিজের বেশ কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি, যেগুলো কুরআনের এই আয়াতের ব্যাখ্যা জানার পর আল্লাহর অশেষ রহমতে শোধরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি (present continuous tense)। এর মধ্যে যখন দেখি দ্বীনি ঘরানার বোনেরাও এইসব নোংরা পোস্টগুলো সমর্থন করেন তখন আফসোসের পাশাপাশি কিঞ্চিৎ কনফিউশান চলে আসাটা বোধ করি অস্বাভাবিক না।
.
কুরআনে আল্লাহ সুব'হানাহু তা’আলা সূরা বাক্বারায় স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের লিবাস বা পোশাক বলেছেন।
‎هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمۡ وَاَنۡتُمۡ لِبَاسٌ لَّهُنَّؕ
-
"তারা তোমাদের লিবাস (পোশাক) এবং তোমরা তাদের।" [ সূরা আল বাক্বারা : ১৮৭]
.
আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা’আলা কেন স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের লিবাস বলেছেন ? লিবাস বা পোশাকের কাজ কি? এর ব্যাখ্যায় স্কলারগণ যা বলেছেন -
.
১. পোশাক মানুষের ইনকমপ্লিটনেস বা অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করে। যে কোন শারীরিক খুঁত বা ত্রুটি পোশাক ঢেকে দেয়, দৃষ্টির আড়াল করে দেয়। স্বামী স্ত্রী তেমনি একে অপরকে সম্পূর্ণ করবে। একে অপরের কমতিগুলো পূরণ করে নিবে। সকল প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো বাইরের মানুষদের কাছ থেকে ঢেকে রাখবে, আড়াল করে নিবে।
.
২. পোশাক বাইরের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। শীতের সময় শীতের প্রকোপ থেকে, গরমের সময় রোদের উত্তাপ থেকে। তাছাড়া পোশাককে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে এডজাস্ট করে নিতে হয়। গরম কালে সুতির আরামদায়ক কাপড় আবার শীতকালে ভারী কাপড়। স্বামী স্ত্রী অনুরূপ একে অপরকে প্রটেক্ট করবে। যে কোন বাহ্যিক অনিষ্ট থেকে একে অপরকে হিফাযত করবে। একে অপরের সম্মান অটুট রাখবে। আবার ঋতুর পরিবর্তনের মত কখনও স্বামী রাগান্বিত (মানবিক বৈশিষ্ট্য) হবে, স্ত্রী তাকে শীতলতা দান করবে কিংবা স্ত্রী রাগান্বিত হলে স্বামী নরমে তা হ্যান্ডেল করবে।
.
৩. পোশাক মানুষের জন্য স্বস্তি ও প্রশান্তির কারণ। স্বামী স্ত্রী সেরূপ একে অন্যের মাঝে স্বস্তি ও প্রশান্তি খুঁজে নিবে।
.
এছাড়াও আরও অনেক ব্যাখ্যা আছে। আমি কেবল আপাতত তিনটা উল্লেখ করলাম।
.
যা হোক, এখন আমার বোনদের কাছে প্রশ্ন, এই যে মেয়েদের গ্রুপগুলোতে এসে আপনারা সম্পূর্ণ বাইরের মানুষদের কাছে নিজের স্বামীর পুঙ্খানুপুঙ্খ বদনাম করেন (সাথে শ্বশুর বাড়ি ফ্রি), এতে কি স্বামীকে তাদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা ছাড়া আর কি অহেতুক ফায়দা হয় আপনাদের?
.
অনেক বোন পোস্টের শেষে এসে লিখেন, আপুরা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম একটু স্বস্তির বা সমাধানের আশায় কারণ কাউকে একথাগুলো বলতে পারি না!!!
.
স্বস্তি কিংবা সমাধান ... এগুলো কি কোন মানুষের পক্ষে আদৌ দেওয়া সম্ভব? মানুষের কাছে গিয়ে আপনারা সমাধান খুঁজে বেড়ান আপুরা অথচ মানুষের রবের কাছে কতবার নিজেকে ধরণা দিয়েছেন? যদি দিয়েও থাকি তবে রবের জবাবের জন্য বা রব কর্তৃক প্রদত্ত পরীক্ষার বিপরীতে সবর করতে পারছি কি?
.
অস্বীকার করছি না যে খারাপ, যালিম স্বামী একদমই নেই। কিন্তু তার জন্য কি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক স্বামীকে মানুষের কাছে খারাপ করে তুলে ধরার লাইসেন্স আমরা পেয়ে যাচ্ছি? স্বামী আপনার হক্ব আদায় করে না তাই বলে স্বামীর হক্ব আপনি যথাযথ আদায় না করলে রবের পাকড়াও থেকে বেঁচে যাবেন কি আমার বোনেরা??
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একবার এক মহিলা নিজ প্রয়োজনে এলেন। ফিরে যাবার সময় রাসূল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার কি স্বামী আছে?"
তিনি বললেন, "জ্বী আছে।"
নবীজি বললেন, "তার সাথে তোমার আচরণ কেমন?"
মহিলা বললেন, "আমি যথাযথ তার সাথে ভালো আচরণ করার চেষ্টা করি।"
নবীজি বললেন, "তার সাথে (স্বামী) তোমার আচরণের বিষয়ে সজাগ থেকো কারণ সে তোমার জান্নাত বা তোমার জাহান্নাম।"
[ মুসনাদে আহমাদ, মুআত্তা মালিক, মুসতাদরাকে হাকিম ]
.
আমার বোনেরা, উপরের হাদীস থেকে কি আমরা কিছুই শিখতে পারছি না? দুনিয়ার মানুষের কাছে স্বামীর বদনাম করে, স্বামীকে ছোট করে ক্ষতিটা কার হয় আপনার নিজের ছাড়া। আপনার স্বামী আপনার পোশাক যেটা আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে বলেছেন। আপনি তাকে যত্ন করবেন, পোশাক ছিদ্র হলে তা সুঁই সুতা দিয়ে নিজে মেরামত করে নিবেন। অথচ আমরা নিজেরাই আজ নিজের পোশাককে ছিঁড়ে ফেলছি, পোশাককে মানুষের কাছে ত্রুটিযুক্ত করে তুলে ধরছি।
.
সেদিন মেইন স্ট্রিম নিউজ পোর্টালগুলোতে দেখলাম ঢাকায় দিনে ৩৮ টা ডিভোর্স হয়!!! জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ডিভোর্সের আবেদন জমা পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজারের কাছাকাছি! সংবাদে আরও বলা হয়েছে এই ডিভোর্সের আবেদনগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ এসেছে নারীদের পক্ষ থেকে!!!
.
আহা! কোথায় আমাদের উম্মাহর মেয়েদের হিকমাহ? কি করুন দশা আজ তাদের চিন্তা ভাবনার!! অথচ আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে বলেছেন -
"আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাকো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।" [ সুরা আর-রুম, ২১ ]
.
কেন আমাদের মাঝে আজ আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া নেই? কারণ ঐ যে, আমাদের সাথে আমাদের রবের দূরত্ব। যিনি এই রাহমাহ্ ও মাওয়াদ্দাহ (আরবী আয়াতে এভাবে এসেছে) সৃষ্টি করে দেন বলেছেন, আমরা তাঁর কাছে স্বস্তি ও সমাধান খুঁজি কি? যদিও সমাধানের পরিপূর্ণ ওয়াদা এসেছে স্বয়ং আমাদের রবের নিকট থেকেই -
"তারা উভয়ের (স্বামী-স্ত্রী) মাঝে মীমাংসা (reconciliation) চাইলে আল্লাহ‌ তাদের মধ্যে মীমাংসা ও মিলমিশের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।"
[ সূরা আন-নিসা, ৩৫ ]
.
আহা! আমরা আজ কোথায় স্বস্তি খুঁজে বেড়াই, কার কাছে সমাধান খুঁজে বেড়াই?
কার কাছে?
লিখেছেন: নুসরাত জাহান

 

বিয়ে কেনো করবেন, কখন করবেন? - when to marry, whom to marry, why to marry?

 May be an image of text that says 'বিয়ে নিয়ে কিছু কথা [বিয়ে কেন করবেন? কখন করবেন?] বিয়ে: অর্ধেক দ্রীন'

 

বিয়ে কেনো করবেন, কখন করবেন?
.
ইদানিং নানা কারণে আমি পাবলিক থেকে আড়ালে থাকছি। তারপরও মাঝে মধ্যে ভাই বেরাদারদের সাথে দেখা হয়ে যায়। এমনি (নতুন পরিচিত) একজনের সাথে সাক্ষাত হল। অবশ্য আমি নিজেই তাকে হুট করে দাওয়াত দিয়েছিলাম।
খাওয়া দাওয়ার পর বলল, হুজুর, বিয়ের ব্যাপারে একটু পরামর্শ দেন।
- বলেন কী? এখনো বিয়ে করেননি?
- জি না। এখনো করা হয়নি।
- তা এখন কেনো বিয়ে করতে চাচ্ছেন?
- বিয়ে তো করতেই হবে। এই ফিতনার যুগে ঈমান বাঁচাতে বিয়ে না করে উপায় আছে?
- হুমম, এটাও ঠিক। আবার এমনও তো হতে পারে, আপনার ঈমান বাঁচানো বিয়ে ১০ জনের ঈমানকে সংকটে ফেলে দিল!
- এইটা আবার কী বলেন হুজুর, আমার বিয়ে ১০ জনের ঈমান নিয়ে টানাটানির কারণ হবে কেনো?
- দেখা গেলো আপনি বিয়ের পর বিবি, বাচ্চা, মা বাবা সহ অন্যান্যদের হক ঠিকমতো আদায় করলেন না, তখন সংসারে ঝগড়াঝাটি, কান্নাকাটি, পরস্পর দোষারোপ আর আপনার দীনদারী নিয়ে নানা কথা উঠবে। এতে এক সাথে অনেক মানুষের ঈমানের মধ্যে ফাটল দেখা দিতে পারে।
- তাহলে এখন আমি কী করব? বিয়ে করব না?
- কেনো করবেন না? অবশ্যই করবেন। তবে বুঝেশুনে। আবেগে নয়। নিজেকে প্রস্তুত করে। হুট করে নয়
- এই বিষয়েই একটু পরামর্শ দেন। 
 
𝌆 তাহলে শুনেন। বিয়ের আগে কমপক্ষে চারটা জিনিস মাথায় রাখবেন। 
 
১. কেনো বিয়ে করছি? :
 
শুধু শারীরিক চাহিদা বা সাময়িক আবেগ দমনে বিয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে একটু থামুন। 
 
লম্বা দাম্পত্যজীবনে শারিরীক চাহিদার স্থায়িত্ব খুব কম। সময়ের সাথে এই চাহিদা কমতে থাকে। সেক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধ ছাড়া সংসার টিকে না। তাই রাসুল সা. সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করতে বলেছেন। না থাকলে রোজা রাখতে বলেছেন। 
 
তাই সামর্থ্য বিচার করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন। এবং সেটা নূন্যতম হলেও চলবে। সেক্ষেত্রে পাত্রীও তেমন বুঝমান হতে হবে।
 
মনে রাখবেন, পিতার সামর্থ্য আপনার সামর্থ্য নয়।  
 
পিতার দায়িত্ব আপনাকে বিয়ে করানো, আপনার সংসার চালানো নয়। তিনি যদি আপনার সংসার চালানোর সামর্থ্য রাখেন, তবে তার উচিত নিজেই মাসনা করা।
 
 
২. কাকে বিয়ে করবেন? :
 
অনেকে দীন পালন শুরু করেই নিজের অবস্থার চেয়ে উঁচু পরিবারে বিয়ে করতে চায়। অনেকে আবার একেবারে আবেগী হয়ে অবস্থান থেকে অনেক নিচে নেমে যায়। আলেমরা উচ্চবিত্ত জেনারেল পরিবারে বিয়ে করে বসে। আবার অনেক জেনারেল ভাই দরিদ্র দীনদার পরিবারের মেয়ে বিয়ে করে।
 
এখানে বুঝার বিষয় হল, বিয়ে তো দু জনের। কিন্তু সম্পর্কটা দুটি পরিবার বা খান্দানের। তাই ইসলামের দেয়া কুফু তথা সমতা রক্ষা না করে অতি আবগের পরিচয় দিলে পস্তানোর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। 
 
 
৩. বিয়ের আগে পরিবারে দায়িত্বশীল আচরণ করুন :
 
আপনার মা বাবা আপনাকে কেনো বিয়ে করাবে? আপনার মধ্যে কি সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধ আছে? টাকা কামিয়ে পরিবারে দেয়া এক জিনিস আর দায়িত্ব নেয়া আরেক জিনিস।
 
সংসারের দায়িত্ব নিন। বাজার করুন। বিলগুলো দিন। কাকে ডাক্তার দেখাতে হবে, কার ঔষধ লাগবে, কার কী সমস্যা, এগুলোর খোঁজ রাখুন। 
 
আপনার মা বাবা ভালো মানুষ হলে আপনাকে শীঘ্রই বিয়ে করিয়ে দেবে।
 
 
৪. দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করুন :
 
আপনি কি চান, আপনার স্ত্রী পর্দা করুক? আপনার বাসার সবাই তাকে পর্দা করতে সাহায্য করুক? আপনার স্ত্রী গুনাহমুক্ত থাকুক? 
 
তাহলে বিয়ের আগে আপনাকে আপনার পরিবারের মধ্যে এসব চর্চা করতে হবে। 
 
চাচী, মামী, ভাবী, খালাতো, মামাতো, চাচাতো, ফুফাতো বোন, বিয়াইন ইত্যাদি গাইরে মাহরামের সাথে কঠোরভাবে পর্দা করতে হবে। পরিবারে কোনো গুনাহযুক্ত অনুষ্ঠান হলে তা জায়েজ উপায়ে করার জোড় চেষ্টা করতে হবে। না হলে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। এমনকি গুনাহযুক্ত অনুষ্ঠানের পাঠানো খাবারও এড়িয়ে যেতে হবে।
 
যদি তা করতে পারেন, তাহলে আপনার স্ত্রীর ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবে।
 
আর না পারলে আপনি যখন স্ত্রীর পর্দা ইত্যাদির কথা বলবেন, তখন নানা টিপ্পনী শুনতে হবে। 
 
আর হ্যাঁ, একটা বিষয় সব সময় মাথায় রাখবেন। বিয়ের ব্যাপারে মোটেও ফ্যান্টাসিতে ভোগা যাবে না। এ ব্যাপারে পুরোদস্তুর বাস্তববাদী থাকতে হবে। 
 
সবশুনে ভাই আমার বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আর যোগাযোগ নাই। দেখি, সুযোগ বুঝে আমিই খোঁজ নিব।
 
—লেখা : আহমাদ ইউসুফ শরীফ 
 
𝌆 দ্বীনি পাত্র—পাত্রী সহজে খুঁজে পেতে ভিজিট করুন : Al-Yaqeen Marriage Media, https://ordhekdeen.com তে।

 

সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র - The most powerful weapon

 May be an image of text that says '"সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র" সাওদা সিদ্দিকা নূর'

 

 

আমি বিভিন্ন সেমিনারে দ্বীনি বোনদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখেছি। তার মধ্যে আমার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মনে হয়েছে একটু বয়স করে দ্বীনে ফেরা বোনদের প্রশ্নগুলো। সাধারণত ২৬-২৭ বছর বয়সে পড়াশোনা শেষ করে যেসব বোনেরা দ্বীনের বুঝ অর্জন করে, তাদের কমন প্রশ্ন থাকে, এই বয়সে তারা কোনো দ্বীনদার ছেলের জন্য অপেক্ষা করবে কিনা। তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে সেমিনারের সকল স্পিকার একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলেছেন, নাহয় কিছু সময় চুপ থেকে বলেছেন, ‘এই প্রশ্নের তেমন কোনো উত্তর নেই। আপনারা দু’আ করতে থাকুন’। প্রথমত তাদের দ্বীনের বুঝ দেরিতে হয়েছে, তারপর আবার এই বয়সে কোনো দ্বীনদার ছেলের জন্য অপেক্ষা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা ২৬-২৭ বছর বয়সী দ্বীনদার বোনদের জন্য নূন্যতম ২৭-৩৫ বছর বয়সের কোনো দ্বীনি জীবনসঙ্গী প্রয়োজন। যেসব দ্বীনি ভাইদের বয়স ২৭-২৮ বছর, তারা স্বাভাবিক ভাবেই ২২-২৫ বছর বয়সী কাউকে চাইবে। আর যাদের বয়স আরো বেশি, তারা অলরেডি বিয়ে করে ফেলেছে। তাই এমন একটা অবস্থায় এই বোনদের দ্বীনদার কারো জন্য অপেক্ষা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবাই দু’আ করতে বলে।
এবার আসি মূল পয়েন্টে...
আসলে দ্বীনি বোনদের এই প্রশ্নের জবাবে আমিও বলব দু’আ করতে। কারণ দু’আর থেকে শক্তিশালী কোনো অস্ত্র নেই। হয়ত আমার এই পোস্ট শুধুমাত্র তাদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য একটু সাহায্য করবে। আমি চাই আমার বোনেরা যেন কখনো হতাশ না হয়।
একটা উদাহরণ দেয়া যাক। হজরত ইব্রাহীম (আ.) কিন্তু ১০০ বছর বয়সে পিতা হয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সারা (আ.) নিজেকে বন্ধ্যা বলতেন। তাঁরা বার্ধক্যের সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে সন্তান লাভ করেন। শুধু তাই নয়, আল্লাহ তাঁদের কাছে ফেরেশতা পাঠিয়ে তাঁদের অনাগত সন্তানের আগমনের সংবাদ দিয়েছিলেন। আরো বলেছিলেন, সেই সন্তান হবেন নবি। আবার সেই সন্তানের সন্তানও হবেন নবি।
এরপর আমি আমার নিজের জীবন থেকে একটা বাস্তব উদাহরণ দেই। মাত্র তিন-চারদিন আগে আমার হলের এক আপু মেসেজ দিয়ে জানাল আমার এক ক্লাসমেটের বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং সে যেমন জীবনসঙ্গী চেয়েছিল, ঠিক তেমন পেয়েছে। সুবাহানাল্লাহ। সে আমার থেকে পরে দ্বীনে ফিরেছিল। তারও দ্বীন পালনে প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এত সহজে বিয়ে হয়ে গিয়েছে শুনে ভেতরে ভেতরে একটা ধাক্কা খাই আর সেই আপুকে বলি, ‘কিছু মানুষের সমস্যাগুলো আল্লাহ কত সহজে সমাধান করে দেন!’ আমার কথা শুনে আপু বলে, সেই মেয়েটা কখনো তাহাজ্জুদ বাদ দেয়নি। তখনই বুঝতে পারি, এত তাড়াতাড়ি মন মত জীবনসঙ্গী পাওয়ার কারণ।
জীবনের অন্তিম প্রহরে ইব্রাহিম (আ.)-এর সন্তান লাভের উছিলা আর আমার হলের সেই বান্ধবীর এত জলদি বিয়ে হওয়া, তার সকল সমস্যার সমাধান হওয়ার পেছনে একটাই কারণ। তা হচ্ছে, পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র দু’আ, যা সরাসরি আরশে গিয়ে পৌঁছায়। এগুলো কখনো বৃথা যায় না।
আল্লাহর কাছে অসাধ্য বলে কিছু নেই। পার্থিব অপার্থিব কোনো শক্তির সাথে আল্লাহর তুলনা চলে না। তিনি চাইলেই পারেন। তিনি শুধু বলেন ‘হও’। আর সাথে সাথে সেটা হয়ে যায়। শুধু যারা দেরিতে দ্বীনের বুঝ পেয়েছে তাদের জন্য নয়, দু’আ আমাদের জীবনের সকল সমস্যার সমাধান মুহূর্তেই করে দিতে পারে। শুধুমাত্র আমাদের ইখলাসের সহিত দু’আ করতে হবে।
.
.
.
|| সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ||
-সাওদা সিদ্দিকা নূর

 

চারটি জিনিস উত্তম। আর চারটি জিনিস তার চেয়েও উত্তম।

 

চারটি জিনিস উত্তম। আর চারটি জিনিস তার চেয়েও উত্তম।
 
১. লজ্জা : পুরুষের লজ্জা উত্তম। নারীর লজ্জা তার চেয়েও উত্তম।
 
২. তাওবাহ : বৃদ্ধের তাওবাহ উত্তম। যুবকের তাওবাহ তার চেয়েও উত্তম।
 
৩. ন্যায়বিচার : সকল মানুষের ন্যায় বিচার উত্তম। শাসকের ন্যায় বিচার তার চেয়েও উত্তম।
 
৪. দানশীলতা : ধনীদের দানশীলতা উত্তম। গরিবের দানশীলতা তার চেয়েও উত্তম।
 
- ইবনে হাজার আসকালানী (র.)