Friday, May 14, 2021

জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই একটা বড় ভুল করি। সেটা হলো, কারো বাহ্যিক দ্বীনদারি দেখে তার ব্যাপারে প্রচণ্ড মুগ্ধ হয়ে যাওয়া। এ-প্রসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা:

 

জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই একটা বড় ভুল করি। সেটা হলো, কারো বাহ্যিক দ্বীনদারি দেখে তার ব্যাপারে প্রচণ্ড মুগ্ধ হয়ে যাওয়া। -প্রসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা:

.

এক.

 

যাকে বাহ্যিকভাবে দেখে আপনি দুর্বল হয়ে গেছেন, তার অভ্যন্তরীণ দ্বীনদারির অবস্থা তেমন ভালো না-ও হতে পারে। হতে পারে, তিনি সলাতের ব্যাপারে উদাসীন- বিশেষত ফরযের বাইরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদার ব্যাপারে তাঁর মধ্যে তেমন সিরিয়াসনেস নেই। হতে পারে, তিনি কুদৃষ্টির মত জঘন্য কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত। এমনও হতে পারে, তিনি আসলে প্রচণ্ড অহংকারী- স্ত্রীর মতামতকে ভবিষ্যতে তিনি পাত্তাও দিবেন না। এমন অনেক হিডেন প্রবলেম থাকতে পারে, যেগুলো জানতে পারলে তার প্রতি আপনার মুগ্ধতা হাওয়া হয়ে যাবে।

.

দুই.

 

এ-তো গেলো, তার অভ্যন্তরীণ দ্বীনদারির অবস্থা। তার দুনিয়ার জীবনেও হয়তো বড় কোনো দুর্বলতা আছে, যা আপনি বাহ্যিকভাবে বুঝতে পারছেন না। হতে পারে, তার চোখ দুটো দুনিয়াবি কামনা-বাসনায় পরিপূর্ণ, যা তিনি অন্যকে বুঝতে দেন না। তার মধ্যে থাকতে পারে বিরক্তিকর কোন বদ-অভ্যাস, যা তার সাথে গভীরভাবে না মেশা পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারবে না।

.

 

তিন.

 

শুরুর কথাগুলোতে ফিরে যাই। যার বাহ্যিক দ্বীনদারি দেখে আপনি মুগ্ধ, তার হিডেন প্রবলেমগুলো আপনি জানেন না। ফলে আপনার মুগ্ধতা দিনে দিনে এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, আপনি ভাবতেও পারছেন না- আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার চেয়েও দ্বীনদার কাউকে আপনার জন্য মিলিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিবিশেষের প্রতি মুগ্ধতার কারণে আপনি নিজেকে এক পর্যায়ে খুবই সস্তা ভাবতে শুরু করবেন; এমনকি আপনার ভেতর থেকে আত্মমর্যাদাবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণটি অনুপস্থিত হতে থাকবে।

.

 

চার.

 

তাহলে সমাধান কী?

 

ইসলামই সমাধান। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, ব্যক্তিবিশেষের জন্য পাগলপারা হওয়া যাবে না; বরং চক্ষুশীতলকারী (قُرَّةُ أَعْيُنْ) কাউকে জীবনসঙ্গী করার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। চক্ষুশীতলকারী মানে কি? এর মানে, যাকে দেখলে আপনার চোখ শীতল হয়ে যাবে! এটি এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ, যা ব্যক্তির মধ্যে যাবতীয় দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে নয়, আমভাবে এই গুণবিশিষ্ট কাউকে আল্লাহর নিকট চাইতে হবে বেশি করে। মাথা থেকে এই ধারণা সরাতে হবে যে, "অমুকের চেয়ে ভালো কীভাবে পাব? অমুক তো আমার পরীক্ষিত" ইত্যাদি।

.

 

পাঁচ.

 

আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরকে কেউ অতিক্রম করতে পারবে না। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে যতই সম্ভাবনাময় মনে হোক-না কেনো, তাকদিরের ফয়সালা না থাকলে নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, আমরা যখন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি আর সেই স্বপ্নটা ভাগ্যের বাস্তবতায় এসে ভেঙে চৌচির হয়ে যায়, তখন হতাশ হয়ে পড়ি। এজন্য আমাদের কখনই উচিত নয়, নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা বা তার জন্য মালিকের দরবারে দু'আ করা; বরং আমরা আমভাবে "চক্ষুশীতলকারী" কাউকে কামনা করব এবং সেই অদেখা-অচেনা চক্ষুশীতলকারীর জন্য আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানাবো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বান্দাকে হতাশ করবে না। এটুকু বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহর জন্য এটা কোনো ব্যাপারই না, তিনি উত্তম কাউকে মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে দিতে পারেন। অতএব, আল্লাহ্ 'আযযা ওয়া জাল্লার উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন-

 

انا عند ظن عبدي بي، وأنا معه إذا دعاني

 

"আমার ব্যাপারে বান্দা যেমন ধারণা রাখে, আমি তার সাথে তেমনই (আচরণ করি)। আর সে যখন আমার নিকট দু'আ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি।" (সহিহ মুসলিম: ২৬৭৫, তিরমিযি: ২৩৮৮, আহমাদ: ৯৭৪৯)

 

.

 

অতএব, আল্লাহর সক্ষমতার সামনে নিজের মুগ্ধতা, বাস্তবতা - সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করতে হবে এবং তাঁর ব্যাপারে সর্বোত্তম ধারণা রেখে উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য অবিরত দু'আ করে যেতে হবে ও নিজেকেও সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। আল্লাহ্ আমাদের নেক মনোবাসনা পূর্ণ করুন। আমিন।

 

.

 

লিখেছেন: Al Mujahid Arman

বিয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা

 

বিয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা

ছোট করেই লিখি। বিয়ের জন্য কি কি বিষয় দেখা লাগবে সেগুলো মোটামুটি আমাদের আইডিয়া আছে। কারও না থাকলে কোনো আলেমের কাছে গেলেই বলে দিবেন ইন শা আল্লাহ। 

 

আমি যেটা বলতে চাই তা হল, বিয়ের আগেই মেয়ের/ছেলের পরিবার কবিরাজ আসক্ত কিনা ভালমত যাচাই করে নিবেন। কিভাবে যাচাই করা যেতে পারে তার কয়েকটি টিপস দিচ্ছিঃ 

 

১। ঘরে তাবিজ টাইপের কিছু ঝুলানো আছে কিনা। ঘর বন্ধের জন্য নকশা ঝুলায়।

 

২। আপনার মা/বোন যেন মেয়েকে খুটিয়ে দেখে গলায়, বাহুতে, কোমড়ে তাবিজের অস্তিত্ব বোঝা যায় কিনা। 

 

৩। একই ভাবে মেয়ের ফ্যামিলির মেম্বাররা ছেলের ফ্যামিলিতে খোজ নিতে গিয়ে তাদের ঘর ও সদস্যদের উপর সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান করলেই বোঝা যাবে ইন শা আল্লাহ।

 

৪। আশেপাশে কোনো মাজার আছে কিনা। সেই মাজারের কোনো কাহিনি আছে কিনা (ভুয়া গল্প টাইপের)। কৌশলে কথা তুললেই বের হয়ে আসবে ভিতরের খবর ইন শা আল্লাহ।

 

এভাবে নিজেই চিন্তা করে বের করবেন আর কিভাবে জানা যেতে পারে। 

 

যদি খোজ না নেন, আর ওমন কোন ফ্যামিলিতে বিয়ে করেন/হয় তাহলে মেয়ের জামাই যেন মেয়ের কথা শুনে এই টাইপের ঘটনা ঘটতে পারে। ছেলে যেন বউকে দেখতে না পারে এই টাইপের ঘটনা ঘটতে পারে। (আল্লাহ হেফাজত করুন। আমি বলছি না ঘটবেই।) 

 

তাছাড়া কোনো কিছু হলেই তারা কবিরাজের কাছে, বাবার কাছে দৌড় দেয়। আপনি সুস্থ হলেও নানান কিছু বলে এটা সেটা করে আপনার সিভিয়ার অসুস্থ করবে বা অসুস্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি চরম পরিনতির দিকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

 

কি করা? ভালভাবে বোঝানো। বুঝলে তো আলহামদুলিল্লাহ, বিয়ের পাশাপাশি দাওয়াতি কাজ হল। আর না বুঝলে আপনার সিদ্ধান্ত আপনি কি করবেন।