Thursday, April 3, 2025

দুয়া

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সহজ দু'আর বাক্য শব্দে শব্দে অর্থসহ শিখুন—নামাজের সিজদায় পাঠ করার জন্য এগুলো দারুণ হবে ইনশাআল্লাহ্ (৪ নং পর্ব)
.
দু'আ তিনটির মাধ্যমে দুনিয়াতে অবিচ্ছিন্ন নিয়ামত, মানসিক প্রশান্তি এবং আখিরাতে স্বাচ্ছন্দময় জীবন—সবই অন্তর্ভুক্ত আছে, আলহামদুলিল্লাহ!
.
নবীজির প্রিয় সাহাবি আম্মার ইবনু ইয়াসার (রা.) নামাজে এসব বাক্য দিয়ে দু'আ করেছিলেন আর বলেছিলেন, এগুলো তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শিখেছেন। [নাসাঈ, হাদিস: ১৩০৪, সহিহ]
.
দু'আটি ছিলো অনেক অনেক লম্বা। সেখান থেকে আমরা সহজ তিনটি বাক্য তুলে ধরছি, যাতে সবাই শিখতে পারেন।
.
اللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ نَعِيْماً لَا يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضٰى بَعْدَ الْقَضَاءِ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ
.
[মোটামুটি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আসআলুকা না‘ঈমান লা ইয়ানফাদ, ওয়া আসআলুকার রিদ্বা বা‘অদাল ক্বাদ্বা, ওয়া আসআলুকা বারদাল ‘আইশি বা‘অদাল মাওত]
(আরবি ع ‘আইন’সহ বিভিন্ন হরফের উচ্চারণ বাংলায় লেখা যায় না। সুতরাং আমরা অনুরোধ করব—আপনারা আরবির সাথে মিলিয়ে পড়ুন। না হয়, নিশ্চিত ভুল শিখবেন)
.
[অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার কাছে এমন নিয়ামত (অনুগ্রহ) চাই, যা কখনো শেষ হবে না; তোমার কাছে চাই, যেন তোমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে পারি এবং তোমার কাছে মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন চাই]
.
এবার শব্দে শব্দে অর্থ মুখস্থ করুন—
.
اللّٰهُمَّ আল্লাহুম্মা [হে আল্লাহ] 
أَسْأَلُكَ আসআলুকা [আমি তোমার কাছে চাই]
نَعِيْماً না‘ঈমান [নিয়ামত বা অনুগ্রহ]
لَا يَنْفَدُ লা ইয়ানফাদ [শেষ হবে না]
وَأَسْأَلُكَ ওয়া আসআলুকা [তোমার কাছে চাই]
الرِّضٰى আর-রিদ্বা [সন্তুষ্টি/খুশি]
بَعْدَ বা‘অদা [পরে]
الْقَضَاءِ আল-ক্বাদ্বা [সিদ্ধান্ত]
وَأَسْأَلُكَ ওয়া আসআলুকা [তোমার কাছে চাই] 
بَرْدَ বারদা [শীতল (আরাম]
الْعَيْشِ আল-‘আইশ [জীবন]
بَعْدَ বা‘অদা [পরে]
الْمَوْتِ আল-মাওত [মৃত্যু]
.
এবার মুখস্থ করুন এভাবে—
.
اللّٰهُمَّ আল্লাহুম্মা [হে আল্লাহ]
.
أَسْأَلُكَ نَعِيْماً لَا يَنْفَدُ আসআলুকা না‘ঈমান লা ইয়ানফাদ
[তোমার কাছে এমন নিয়ামত (অনুগ্রহ) চাই, যা কখনো শেষ হবে না]
.
وَأَسْأَلُكَ الرِّضٰى بَعْدَ الْقَضَاءِ ওয়া আসআলুকার রিদ্বা বা‘অদাল ক্বাদ্বা
[তোমার কাছে চাই, যেন তোমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে পারি]
.
وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ ওয়া আসআলুকা বারদাল ‘আইশি বা‘অদাল মাওত
[তোমার কাছে মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন চাই]
.
কয়েকটি কথা:
--------------------
[এক.] প্রথম বাক্যটি দিয়ে দুনিয়ার সকল নিয়ামতই সম্পৃক্ত করা যায়। অন্তত দু'আর সময় মাথায় এমনটিই রাখবেন। 
.
[দুই.] আমরা বিভিন্ন খারাপ পরিস্থিতিতে পড়লে হতাশ হয়ে যাই; আল্লাহর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে পারি না। এমনটি করা খুবই খারাপ অভ্যাস। তাই এ থেকে মুক্তি পেতে আমরা দু'আ করব ‘তোমার কাছে চাই, যেন তোমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে পারি'। আর, যে সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকতে পারে, তার চেয়ে সুখী মানুষ পৃথিবীতে নেই।
.
[তিন.] তৃতীয় বাক্যে মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন চাওয়া হচ্ছে। এটা তো জরুরি। কারণ কেউ সর্বাধিক আনন্দে জীবন কাটাক অথবা সর্বাধিক দুঃখী জীবন কাটাক, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যু আছে। আসলে মৃত্যুর পরের জীবনটাই মূল জীবন। তাই, সেই জীবনটা সুন্দর হওয়ার জন্যও এখানে দু'আ করা হচ্ছে। 
.
[চার.] ফেইসবুক লাইটে যের, যবর, পেশ বোঝা যায় না, অথচ আমরা এগুলো দিয়েছি।
.
[পাঁচ.] তাশদিদের উপরের হরকত যবর হয় এবং তাশদিদের নিচের হরকত যের হয় (যদিও তা হরফের উপরে হোক না কেন)
.
#আল্লাহর_নিরাপত্তায়
#মহান_রবের_আশ্রয়ে (৪ নং পর্ব)
আমাদের এই সিরিজ কমপক্ষে ২০ পর্ব হবে, ইনশাআল্লাহ্। পূর্বের তিন পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো।
.
#Tasbeeh

Wednesday, April 2, 2025

প্রশ্ন

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। 

আপনি নিম্নোক্ত তিনটি কাজের কোন একটি করুন।

১ - মাকে নিজের কাছে নিয়ে আসুন।
২ - স্ত্রী সহ নিজেই মায়ের কাছে চলে যান এবং যে কোন মূল্যে স্ত্রীর জন্য খাস পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
৩ - মায়ের জন্য বাড়ীতে ফুলটাইম বা পার্টটাইম খাদেমা/গৃহকর্মী রাখার ব্যাবস্থা করুন।

বাড়ীতে পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত না করে স্ত্রীকে সেখানে রেখে আসা জায়েজ হবেনা। এক্ষেত্রে মায়ের অসন্তুষ্টির চেয়ে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনুরূপভাবে আপনি স্ত্রীকে দূরে রাখলে নিজে যদি গুনাহে জড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে তাহলেও স্ত্রীকে দূরে রাখা জায়েজ হবেনা। তাই ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ নিন। মাকে ভালো রাখার ব্যাবস্থা করার পশাপাশি নিজের সংসার, সুখ, নিরাপত্তা ও দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়েও সতর্ক থাকুন। 

মনে রাখবেন, সাংসারিক বিষয়াবলীতে মা কিংবা স্ত্রী কারো অনুরোধই কখনো অন্ধভাবে মানা যাবেনা। বরং ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে যেটা শরীয়ত, সামাজিকতা, সাধারণ যুক্তিবোধ ও ভবিষ্যত ফলাফলের বিবেচনায় সকলের জন্য অধিক উপযুক্ত ও উপকারী মনে হবে সেটাই করবেন এবং বাকিদের সামনে আপনার পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন। তবে ক্ষতি ও অসহনীয় কষ্ট না হলে তখন নিজের চিন্তা ও উপলব্ধির উপরে মায়ের আবদারকে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করবেন। কখনো কখনো স্ত্রীর ক্ষেত্রেও এমনটা করবেন। আল্লাহ আপনাদেরকে সুখী করুন।



।।।
গ্রুপে সার্চ করে পাই নি। এপ্রুভ প্লিজ
স্পর্শকাতর প্রশ্ন:

চাকুরির সুবাধে বাড়ি থেকে দূরে থাকি। বাড়িতে মা অসুস্থ, চলা ফেরায় কষ্ট হয়। স্ত্রীকে নিয়ে আমি চাকুরি স্থলের কাছাকাছি থাকি। কিন্তু, মা সেটা পছন্দ করছেন না; সে চায় স্ত্রীকে তার কাছে রেখে যাই। স্ত্রী আমার সাথে থাকতে চায়, তাছাড়া বাড়িতে পর্দা রক্ষা করাটাও বেশ কঠিন আমার স্ত্রীর জন্য। স্ত্রী আমার সাথে থাকলে আমার জন্যও সুবিধা। 

কিন্তু, স্ত্রীকে মায়ের কাছে রাখছি না বলে তিনি আমার প্রতি ক্রোধান্বিত। আমি তাকে কষ্ট দিচ্ছি বলেও নানানভাবে বদ দোয়া দিতে থাকেন। আমি প্রতি মাসে প্রায় সময়ই বাড়িতে যাই। 

কিন্তু, তার কথা হল স্ত্রীকে যেন তার কাছে রেখে যাই, রান্না বান্না যেন করতে পারে। 

এমন পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত?



উত্তর দিয়েছেন 
মুফতি আফফান বিন শরফুদ্দিন (হাফি.)