Showing posts with label বাসর রাতে. Show all posts
Showing posts with label বাসর রাতে. Show all posts

Friday, June 25, 2021

পরিবার ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন টিপস সংকলন Various tips collection for marriage and family issues

 পরিবার ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন টিপস সংকলন Various tips collection for marriage and family issues

 

 দায়েমি (সার্বক্ষণিক) ফরজ
https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post.html

১. পাত্রী নির্বাচনের সঠিক মানদণ্ড
https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_15.html

 ২. পাত্র নির্বাচনের মানদণ্ড কী?

https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_80.html

 ৩. দাম্পত্য জীবনে মধুর সম্পর্ক এবং ভালবাসা ​বিনিময়ের অভাবনীয় মর্যাদা​

https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_68.html

 ৪. স্বামী-স্ত্রী মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও অন্যতম নিদর্শন। সুতরাং এ ব্যাপারে যত্নশীল হোন:

https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_9.html


 ৫. নবদম্পতির মাঝে মিল-মোহাব্বত সৃষ্টির ১০ উপায়


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_65.html


 যাদু-টোনা থেকে সুরক্ষায় সহিহ সুন্নাহ ভিত্তিক আমল


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_16.html



 ▌প্রশ্নোত্তরে 'আক্বীদাহ ও মানহাজ [১ম পর্ব]


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_17.html


 ৬. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের আবশ্যকতা এবং পদ্ধতি


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_86.html


 ৭. স্বামীর আনুগত্য করার আবশ্যকতা এবং তার অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার বিধান


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/blog-post_72.html


 ৮. প্রশ্ন: স্বামীর আনুগত্য আমরা কীভাবে করবো? কী কী কাজ করলে স্বামীর আনুগত্য করা হবে? Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series.html



 ৯. প্রশ্ন: বিয়ের পরে একটা মেয়ে কতটুকু স্বাধীনভাবে চলতে পারবে? Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_17.html


 ১০. স্বামীর অনুমতি ছাড়া রক্ত দান করার বিধান Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_95.html

 ১১. স্বামী-স্ত্রী: কে কোন পাশে হাঁটবে, বসবে বা ঘুমাবে? Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_3.html


 ১২. প্রশ্ন: স্বামী যদি স্ত্রীকে দ্বীনের জ্ঞার্নাজনে নিষেধ করে তাহলে কী করণীয়? Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_56.html


 ১৩. স্বামীর আনুগত্য এবং তার সীমা Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_91.html


 ১৪. প্রশ্ন: আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত স্বামীর আনুগত্য করা আবশ্যক কি? Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_61.html

 ১৫. স্ত্রীর জন্য কি স্বামীর অসম্মতিতে তার নিকটে না থেকে তার শশুর-শাশুড়ির খেদমতের উদ্দেশ্যে তাদের কাছে থাকা ঠিক হবে? Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_29.html


 ১৬. আজানের সময় আজানের জবাব আগে না কি স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া আগে? সহবাসের সময় আজানের জবাব দেয়া যাবে কি? Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_46.html


 ১৭. আমার স্বামীর অক্ষমতার দরুন আমি আমার দেবরের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাই। এতে কি আমার জন্য আমার স্বামী হারাম হয়ে গেছে? এখন আমার কী করণীয়? Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_78.html


 শালী-দুলাভাই, দেবর-ভাবী, বেয়াই-বেয়াইন ইত্যাদির মাঝে পারস্পারিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও পর্দা Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_89.html


 কী কী কারণে স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর নিকট খোলা তালাক চওয়া বৈধ? Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_32.html


 20. স্বামী-স্ত্রী কত দিন আলাদা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে? Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_97.html


 ১৮. স্বামীর ইবাদত-বন্দেগিতে অনীহা এবং খারাপ আচরণে স্ত্রী যখন চরম বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ....​ Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_33.html


 ১৯. যে স্ত্রীর স্বামী বিদেশে থাকে তার জন্য ১০টি দিকনির্দেশনা Marriage education series


https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_45.html

 ২১. বিবাহ বিচ্ছেদের কয়েকটি কারণ: বাঁচতে হলে জানতে হবে Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_22.html


 ২২. দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা বৃদ্ধির কয়েকটি সহজ উপায়: Marriage education series



https://allzinone.blogspot.com/2021/06/marriage-education-series_93.html

Thursday, June 24, 2021

হায়েযের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন? হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আলামত কি? হায়েয থেকে পবিত্রতা অর্জনের পর যদি হলুদাভ বা ময়লার মত স্রাব দেখা যায় তাহলে কী করণীয়? Marriage education series

 May be an image of flower and text that says 'হায়েযের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন? wattn বল ਦ জারন হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আলামত কি? চ হায়েয থেকে পবিত্রতা অর্জনের ਪਾব পর যদি হলুদাভ বা ময়লার মত স্রাব দেখা যায় তাহলে কী করণীয়? FB/Guidance2TheRightPath'

হায়েযের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন?
হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আলামত কি?
হায়েয থেকে পবিত্রতা অর্জনের পর যদি হলুদাভ বা ময়লার মত স্রাব দেখা যায় তাহলে কী করণীয়?
▬▬▬🔸♦🔸▬▬▬
প্রশ্ন: এক জায়গায় শুনেছি, হায়েযের নির্দিষ্ট সময় পার হলেই (৫,৭, ১০ দিন) সাদা স্রাব না বের হলেও (হলদে, বাদামি রঙ থাকলেও) নামাজ শুরু করে দিতে হবে। যেহেতু ওই নারীর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গিয়েছে। আবার আরেক জায়গায় শুনলাম, সাদা স্রাব না বের হলে কোনো ভাবেই নামাজ শুরু করা যাবে না। তা নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ২/৩ দিন বেশি হলেও-এমন কি ১৫ দিন পর্যন্তও হতে পারে। আসলে কোনটা সঠিক?
হায়েযের শেষ এর দিকে সাদা স্রাব বের হওয়ার পরে সাথে সাথেই হলদে স্রাব বের হলে তা কি হায়েয বলেই গণ্য হবে নাকি সাদা স্রাব বের হওয়ার কারণে তার সলাত শুরু করে দিতে হবে?
উত্তর:
♻ প্রথমে আমাদের জানা উচিৎ হায়েযের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন। এর সর্বোচ্চ মেয়াদ কি ১৫ দিন না কি অন্য কোনো কিছু?
হায়েযের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন সে বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। যেমন:
🌀 একদল আলেম বলেন, হায়েয বা ঋতুস্রাবের রক্তের রং, গন্ধ বা ধরণ-প্রকৃতি সুপরিচিত। এটি সাধারণ রক্ত থেকে আলাদা। হায়েযের মেয়াদ বৃদ্ধি হতে পারে বিভিন্ন কারণে। যেমন: জন্মনিরোধক ঔষধ সেবন।
অতএব, কোন মহিলার ঋতুস্রাব যদি তার প্রতি মাসের নিয়মের বাইরেও অব্যাহত থাকে তাহলে যতদিন তা চলতে থাকে ততদিন তা ঋতুস্রাব হিসেবেই গণ্য হবে যত দিন তা বন্ধ না হয়। কেননা, ঋতুস্রাবের বিষয়টি খুবই ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও কুরআন-সুন্নায় এর মেয়াদ নির্ধারণ সম্পর্কে কোন বক্তব্য আসে নি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
 
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّـهُ
 
“আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতুস্রাব) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন।” (সূরা বাকারা: ২২)
মোটকথা, যতদিন এই হায়েয অব্যাহত থাকবে ততদিন হায়েযের বিধান প্রযোজ্য হবে। আর হায়েজের রক্ত না থাকলে তখন তার বিধানও প্রযোজ্য হবে না।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন (মজমু ফতোয়া ১৯/২৩৭)। আল্লামা উসাইমীন রহ. এ মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
 
🌀 তবে জুমহূর তথা অধিকাংশ বিদ্বানের মত হল, হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫ দিন। ১৫ দিন হয়ে গেলে গোসল করে পবিত্র হতে হবে যদিও রক্তস্রাব চলতেই থাকে। ঐ অবস্থায় প্রত্যেক ফরয সালাতের জন্যে আলাদাভাবে ওযু করবে। আর পোশাক থেকে ইস্তিহাযার রক্তের চিহ্ন ধুয়ে ফেলবে। তখন পনের দিনের পর নির্গত রক্তকে ইস্তেহাযা (রক্তপ্রদর) এর রক্ত বলা হবে।
এই মতকে গ্রহণ করেছেন সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.।
১৫ দিন নির্দিষ্ট করার পক্ষে কুরআন-সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল না থাকলেও তারা মহিলাদের সাধারণ অবস্থা ও অভ্যাসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা বলেন, মহিলাদের ঋতুস্রাব ১৫ দিনের বেশি হয় না।
তবে ১৫ দিন নির্দিষ্ট করার পক্ষে দলিল না থাকায় ১ম অভিমতটিকে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. গ্রহণ করেছেন এবং শাইখ উসাইমীন রহ. এটিকে সমর্থন করেছেন। আর এটাই অধিক বিশুদ্ধ ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং কারো নিয়মিত ৫/৭/১০ দিন সময়-সীমার চেয়ে বেশি ১৫ দিন বা ততোধিক সময় ধরে যদি স্রাব অব্যাহত থাকে আর তা যদি অবিকল হায়েজের রক্তের অনুরূপ হয় তাহলে তা হায়েয হিসেবেই ধরতে হবে এবং সে সময় সালাত-সিয়াম থেকে বিরত থাকতে হবে।
♻ হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আলামত:
হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আলামত হল, স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা লজ্জা স্থান পরিপূর্ণভাবে শুষ্ক হয়ে যাওয়া অথবা বা সাদা স্রাব নির্গত হওয়া। এ দুটি আলামতের কোন একটি পাওয়া গেলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করবে এবং যথারীতি সালাম-সিয়াম শুরু করবে।
♻ হায়েয বা ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের পর যদি হলুদাভ বা ময়লার মত স্রাব দেখা যায়:
মহিলারা ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর সাধারণ দিনগুলোতে যদি বিবর্ণ হলুদাভ বা ময়লাযুক্ত পানির মত ধুসর রঙ্গের স্রাব দেখতে পায় তাহলে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা, উম্মে আত্বিয়া রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
كُنَّا لا نَعُدُّ الْكُدْرَةَ وَالصُّفْرَةَ بَعْدَ الطُّهْرِ شَيْئًا
"আমরা (হায়েয বা ঋতুস্রাব) থেকে পবিত্রতা অর্জনের পর ময়লাযুক্ত ধুসর রঙ্গের পানি ও বিবর্ণ হলুদাভ স্রাবকে কিছুই মনে করতাম না।" (অর্থাৎ এগুলোকে হায়েয হিসেবে গণ্য করতাম না।)
[সুনান আবু দাউদ, শাইখ আলবানী রহ. হাদিসটিকে সহীহ বলেন।]
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে:
كُنَّا لَا نَعُدُّ الْكُدْرَةَ وَالصُّفْرَةَ شَيْئًا
"আমরা ময়লাযুক্ত ধুসর রঙ্গের পানি ও বিবর্ণ হলুদাভ স্রাবকে কিছুই মনে করতাম না।" (সহীহ বুখারী হা/ ৩২৬)
সুতরাং কোন মহিলার এমনটি হলে, সে স্বাভাবিক নিয়মে নামায-রোযা অব্যাহত রাখবে। এটা পেশাবের মত নাপাকি হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে তা ধৌত করবে এবং প্রত্যেক ওয়াক্তে আলাদা ওযু করে সালাত আদায় করবে। আর রোযা অবস্থায় এমনটি দেখা গেলে স্বাভাবিক নিয়মে রোযা পূর্ণ করবে।
তবে হায়েযের সাথে যুক্ত অবস্থায় অর্থাৎ হায়েয শেষ হওয়ার শেষ দিকে এ ধরণের হলুদ বা ময়লার মত স্রাব নির্গত হলে তা হায়েয হিসেবেই গণ্য করতে হবে।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA
fb/AbdullaahilHadi

 

পাত্রী নির্বাচনের সঠিক মানদণ্ড Marriage education series

May be an image of text

 

পাত্রী নির্বাচনের সঠিক মানদণ্ড
▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬
আপনি কি কোন মেয়েকে বিয়ের কথা ভাবছেন? তাহলে জেনে নিন, পাত্রী নির্বাচনের সঠিক মানদণ্ড।
পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক মানদণ্ড হল দুটি। যথা: সৌন্দর্য এবং দীনদারি। অর্থাৎ কোন নারীকে বিয়ের পূর্বে সর্ব প্রথম তার সৌন্দর্য অত:পর দীনদারি দেখা উচিৎ।
 
সুতরাং যদি কোনও মেয়ের প্রতি মনে প্রবল আকর্ষণ অনুভব করেন তাহলে শরিয়ত সম্মত পন্থায় বিয়ের জন্য অগ্রসর হোন। তারপর যদি তার দ্বীনদারি ঠিক থাকে তাহলে বিয়ে করুন; অন্যথায় বর্জন করুন। অর্থাৎ তাকে গ্রহণ ও বর্জন যেন হয় দ্বীনদারিকে কেন্দ্র করে-যেমনটি বলেছেন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহ.।
তিনি বলেছেন:
 
إذا خطب رجل امرأة سأل عن جمالها أولا ، فإن حُمد سأل عن دينها ، فإن حمد تزوج، وإن لم يحمد يكون ردها لأجل الدين ، ولا يسأل أولا عن الدين ، فإن حُمد سأل عن الجمال ، فان لم يحمد ردَّها للجمال لا للدين
 
“কোন পুরুষ যদি কোনও নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাহলে সর্বপ্রথম তার সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। যদি এ ব্যাপারে তার প্রশংসা করা হয় তাহলে তার দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। দ্বীনের ক্ষেত্রে যদি প্রশংসিত হয় তাহলে বিয়ে করবে; অন্যথায় দীনের কারণে প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু এমনটি করা ঠিক নয় যে, প্রথমেই দীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। এ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় হলে তারপরে তার সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তারপর সৌন্দর্যের ব্যাপারে প্রশংসনীয় না হলে ফিরিয়ে দিবে। তাহলে এ প্রত্যাখ্যান হবে সৌন্দর্যের কারণে; দীনের কারণে নয়। ” (শরহু মুনতাহাল ইরাদাত-ইমাম ভূতি ২/৬২১)
 
❥❥ সৌন্দর্য:
● রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
 
‏ إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا ‏.‏
 
“তোমাদের কেউ যখন কোন নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু যেন দেখে নেয় যা তাকে বিবাহে উৎসাহিত করে।”
 
বর্ণনাকারী বলেন, “আমি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেবার পর তাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা-অন্তরে গোপন রেখেছিলাম। অতঃপর আমি তার মাঝে এমন কিছু দেখি যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে আকৃষ্ট করলো। অতঃপর আমি তাকে বিয়ে করি।" [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: বিবাহ, অনুচ্ছেদ-১৯, বিয়ের উদ্দেশে পাত্রী দেখা প্রসঙ্গ, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত-সনদ-হাসান]
 
● আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত,
 
ﻗِﻴﻞَ ﻟِﺮَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻱُّ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﺧَﻴْﺮٌ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺗَﺴُﺮُّﻩُ ﺇِﺫَﺍ ﻧَﻈَﺮَ ﻭَﺗُﻄِﻴﻌُﻪُ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﻣَﺮَ ﻭَﻻ ﺗُﺨَﺎﻟِﻔُﻪُ ﻓِﻲ ﻧَﻔْﺴِﻬَﺎ ﻭَﻣَﺎﻟِﻬَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻜْﺮَﻩُ
 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন স্ত্রী সর্বোত্তম?
তিনি বলেন: “(স্বামী) যে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে পুলকিত হয়, কোন নির্দেশ দিলে আনুগত্য করে এবং সে তার নিজস্ব ব্যাপারে বা তার অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে স্বামী যেটা অপছন্দ করে তার বিপরীত কিছু করে না।” (মুসনাদে আহমদ। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। উৎস: সিলসিলা সহিহা, হা/১৮৩৮)
 
উল্লেখ্য যে, সৌন্দর্য বলতে কেবল বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্য বুঝায় না বরং মন ও মননের সৌন্দর্য তথা বিশেষ গুণ-বৈশিষ্ট্য, জ্ঞান, মেধা, যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদিও এর অন্তর্ভুক্ত। যদিও মানুষ কারো গুনাগুণ বিচারের পূর্বে তার বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্য অবলোকন করে। 
 
বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয়টিও আপেক্ষিক। সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। একজনের কাছে কাউকে আকর্ষণীয় মনে হলেও অন্যের কাছে তা নাও হতে পারে। কারো কাছে ফর্সা ভালো লাগে তো কারো কাছে ভালো লাগে শ্যামলা।
 
সুতরাং বিয়ের পূর্বে এ দিকটি দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, মনের পরিতৃপ্তি ও প্রশান্তি অর্জন করা-যা চরিত্র হেফাজত ও চোখ অবনমিত রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং আপনি যদি এমন মহিলাকে বিয়ে করেন যার দিকে তাকালে আপনার মনে আকর্ষণ সৃষ্টি হয় বা ভালো লাগে তাহলে স্বভাবতই মনে প্রশান্তি অর্জিত হবে এবং পরনারী থেকে দৃষ্টি অবনমিত রাখতে সহায়ক হবে (তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি)।
এই সৌন্দর্য ও আকর্ষণবোধ ছাড়া দাম্পত্য জীবন বেশি দূর এগুনো সম্ভব নয়।
 
❥❥ দীনদারি:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনদারী মেয়েকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন:
● হাদিসে এসেছে:
 
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ تُنْكَحُ النِّسَاءُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ ‏"‏ ‏.‏
 
 
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নারীদেরকে (সাধারণত) চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। যথা: 
 
ক. তার ধন-সম্পদ।
খ. বংশমর্যাদা।
গ. রূপ-সৌন্দর্য।
ঘ. এবং দীনদারি বা ধার্মিকতা। 
 
তবে তুমি দীনদার (ধার্মিক) নারীকে বিয়ে করে সফল হয়ে যাও; অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হবে।” [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: বিবাহ, অনুচ্ছেদ-২ ধার্মিক মহিলা বিয়ে করার নির্দেশ, হা/২০৪৭-সনদ সহিহ]
আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ধার্মিকতা ও নীতি- নৈতিকতা হীন নারী একজন পুরুষের জন্য এবং তার পরিবার ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ফিতনা, অশান্তি এবং ধ্বংসের কারণ।
আল্লাহ তাআলা প্রতিটি পুরুষকে তার পছন্দের দীনদার নারীকে বিয়ে করার মাধ্যেম একটি সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন গড়ার তওফিক দান করুন। আমিন।
 
▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

৮০. একজন মহিলার জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া কতদূর সফর করা বৈধ? Marriage education series

 No photo description available.

একজন মহিলার জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া কতদূর সফর করা বৈধ?
----------------
প্রশ্ন: একজন মহিলার জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া কতদূর সফর করা জায়েজ? একটা হাদিসে বলা হয়েছে, “কোন মহিলার জন্য মাহরাম ছাড়া এক দিন-একরাতের সফর করা বৈধ নয়।” এখানে “এক দিন-এক রাত” দ্বারা কী উদ্দেশ্য?
উত্তর:
 
মহিলাদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ (যার সাথে কখনোও বিবাহ বৈধ নয়) ছাড়া একান্ত প্রয়োজন ব্যতিরেকে সফরের দূরত্ব অতিক্রম করা জায়েজ নেই। আর সফরের দূরত্ব হল, প্রায় ৮০ কি:মি: (যদিও এ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেননা, হাদিসে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসে নি। তবে অনেক আলেম এই মত পোষণ করেছেন।)
এক দিন-এক রাতের দূরত্ব হওয়া জরুরি নয়। কেননা মহিলাদের মাহরাম ছাড়া সফরে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিসগুলো বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
● ক. তিন দিন তিন রাত
● খ. তিন দিন
● গ. তিন রাত
● ঘ. এক দিন একরাত
● ঙ. অর্ধ দিন। হাদিসে এভাবে বিভিন্নভাবে এসেছে।
 
সুতরাং একান্ত জরুরি বা নিরুপায় না হলে মাহরাম ছাড়া কোন মহিলার জন্য সফর করা বৈধ নয় -সফর করতে সময় যত কম লাগুক বা বেশী লাগুক সেটা ধর্তব্য বিষয় নয়। কেননা, এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হওয়ায় সেটাই বুঝা যায়।
 
তবে যদি ফিতনা পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে সফরের দূরত্বের কম হলেও সফর করা যাবে না স্বামী বা মাহরাম পুরুষের সঙ্গ ছাড়া। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।
 
------------------
উত্তর:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স এন্ড গাইডেন্স, সৌদি আরব

 

৭৯. বাংলাদেশে নতুন 'বাল্য বিবাহ আইন' এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন (যা অনেকের অজানা) Marriage education series

 May be an image of text

বাংলাদেশে নতুন 'বাল্য বিবাহ আইন' এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন (যা অনেকের অজানা)
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
২০১৭ সালের ২৪শে নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনটিকে বিলুপ্ত করে “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭” অনুমোদিত হয়।
বাল্য বিবাহ আইন ২০১৭ এবং তার দুটি বৈশিষ্ট্য:
 
১) নতুন আইনটির বৈশিষ্ট্য হল পূর্বে বলবত থাকা ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ছেলেদের বিবাহের বয়স ছিল ২২ বছর এবং মেয়েদের বয়স ছিল ১৮ বছর। বর্তমান আইনে মেয়েদের বিবাহের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং ছেলেদের বিবাহের বয়স সর্বনিম্ন ২২ এর স্থলে ২১ বছর নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
 
২) বর্তমান বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল আইনটির ১৯ ধারায় বলা হয়েছে যে “এই আইনে অন্যান্য বিধানে যা কিছুই বলা থাকুক না কেন বিধি দ্বারা নির্ধারিত বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতামাতা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ ক্রমে বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীনে অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।
 
bdlaws.minlaw.Gov.bd
 
[বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ /২০১৭ সনের ৬ নং আইন)]
 
২য় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান বলেন, নতুন “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭” বাংলাদেশে বলবত হওয়ার ফলে ইসলামি আইনে বাল্যবিবাহ আইনের সাথে বর্তমান আইনের অসংগতি দূরীভূত হয়েছে।" [dailysangram]
 
অর্থাৎ বিশেষ ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ এর আগে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ এর আগে বিয়ে হওয়া অপরাধ নয়।
 
সুতরাং বিশেষ পরিস্থিতিতে কোন অভিভাবক কোন আইন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শক্রমে বাল্যবিবাহ আইনকে লঙ্ঘন না করেও ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ এর আগে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ এর আগে বিয়ে দিতে পারে। এ আইনটি আমাদের অনেকের নিকট অজানা।
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৭৮. মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করার বিধান Marriage education series

 

মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করার বিধান
▬▬▬❖✪❖▬▬▬
প্রশ্ন : মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম কি?পাত্রীকে কি মসজিদে উপস্থিত থাকতে হবে?
মসজিদে বিবাহের সুন্নতি পদ্ধতি জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর :
শরীয়ত বিরোধী গর্হিত কার্যক্রম সংঘটিত না হলে প্রয়োজনে মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়া জায়েজ রয়েছে। কিন্তু মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়া সুন্নত বা মুস্তাহাব’ এ কথা সঠিক নয়। যদিও অনেক আলেম তা বলেছেন। কিন্তু কোন সহীহ দলীল দ্বারা এটা প্রমাণিত নয়। কেউ যদি সব সময় নিয়ম করে বিয়ের আকদ মসজিদের মধ্যে করে তবে তা বিদআতে পরিণত হবে। আর যদি মসজিদে গান-বাজনা বা বেপর্দা নারী-পুরুষের সমাবেশ ঘটে তাহলে তা হবে শক্ত হারাম কাজ।
উল্লেখ্য যে, মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ জানিয়ে নিম্নোক্ত বর্ণিত হাদিসটি যঈফ। أعلنوا هذا النكاح واجعلوه في المساجد واضربوا عليه بالدفوف
তিরমিযী উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করার পর নিজেই বলেছেন যে, এটি যঈফ বা দুর্বল। ইবনে হাজার এবং আলবানী এটিকে যঈফ বলেছেন।
হাদিসে মসজিদে বেচা-কেনা করা নিষেধ কিন্তু বিয়ে বেচাকেনা নয়। তাই মৌলিকভাবে মসজিদে বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ হলেও এটিকে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলে নিয়মিতভাবে করা বিদআত। (আল্লামা বিন বায রহ. আল্লামা উসাইমীন রহ. প্রমুখ আলেমদের এর ফতোয়ার সারসংক্ষেপ)
বি:দ্র: মসজিদে আকদ করার ক্ষেত্রে পাত্রীকে মসজিদে অবস্থান করা জরুরি নয়। প্রয়োজনে থাকতে পারে যদি পরপুরুষদের থেকে আলাদাভাবে পর্দার অন্তরালে থাকে। আল্লাহু আলাম।
••••••••••••••••••••
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, ksa

৭৭. একাধিক বিয়ে করা Marriage education series

 

একাধিক বিয়ে করা
-------------
প্রশ্ন:
ক) পুরুষদের ৪টি বিয়ে করা তো জায়েয। কিন্তু তা কি সুন্নত?
খ) কোনো স্ত্রী যদি চায় তা, বিয়েরস্বামী পরে আর বিয়ে না করুক সে জন্য কি জোর করে বলতে পারবে বা তাকে বাধা দিতে পারবে?
গ) কিংবা বিয়ের কাবিনে কি উল্লেখ করা যাবে যে, প্রথম স্ত্রীর মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আরেক বিয়ে করতে পারবে না?
উত্তর:
 
🔹 ক. একাধিক বিয়ে করা সুন্নাত নয় বরং তা প্রয়োজনের স্বার্থে শর্ত স্বাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়েছে। কারণ দুনিয়ার সকল মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যা এক রকম নয়। তবে ইসলামে এর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা হল, ২ অথবা ৩ অথবা ৪। ইসলামের আগে এর কোন সীমা-সংখ্যা ছিল না।
 
তবে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম কঠিন শর্ত দিয়েছে। তা হল, সকল স্ত্রীর মাঝে সমতা রক্ষা করা। সমতা রক্ষা করতে না পারলে একটির অধিক বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ পুরুষদের জন্য আখিরাতে কঠিন খারাপ পরিণতির কথা বলা হয়েছে।
 
🔹 খ. বিয়ের সময় স্ত্রী যদি কাবিন নামায় ‘১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বামী ২য় বিয়ে করতে পারবে না’ বলে শর্ত জুড়ে দেয় আর স্বামী যদি তাতে সম্মতি দেয় তাহলে এই শর্ত পালন করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। কারণ, হাদীসের আলোকে মুসলিম তার শর্ত পালনে বাধ্য। ওয়াদা রক্ষা না করা মুনাফিকীর আলামত।
 
🔹গ. বিয়ের পূর্বে ‘২য় বিয়ে করা যাবে না’ মর্মে কোন শর্ত না থাকলে স্বামীকে তার প্রয়োজনে ২য় বিয়ে করতে বাধা দেয়া স্ত্রীর চরম অন্যায় এবং তাকে মহান আল্লাহ প্রদত্ব অধিকার পালনে হস্তক্ষেপের শামিল। এ ক্ষেত্রে সে বিপথে গিয়ে অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হলে উভয়েই গুনাহগার হবে। কারণ বিয়ের অন্যতম উদ্দশ্য হল, নিজেকে পবিত্র রাখা।
 
আল্লাহু আলাম।
➖➖➖➖➖
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (মাদানী)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, ksa

৭৬. ইসলাম চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়ে কি নারীদেরকে অপমানিত করেছে? Marriage education series

 May be an image of text that says 'ইসলাম চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়ে কি নারীদেরকে অপমানিত করেছে?'

ইসলাম চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়ে কি নারীদেরকে অপমানিত করেছে?
------------------
উত্তর:
ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থার নাম যা সকল যুগের জন্য সকল স্থানের জন্য প্রযোজ্য। বিভিন্ন সমাজের বিভিন্ন প্রকৃতির মানুষের সাথে ইসলাম সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিস্থিতির কারণে মানুষ ২য় বিবাহ করতে বাধ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তার অধিকার সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
তাই ইসলাম ২য় বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হয়েছে যে, সকল স্ত্রীর সাথে ন্যায়পরায়ণতা সুলভ আচরণ করতে হবে। কোন মহিলাকে এ বিয়েতে বাধ্য করা যাবে না এবং এ বিয়েতে ২য় স্ত্রী শর্তারোপ করতে পারে।
ইসলামে একাধিক বিয়ে করা আবশ্যক করা হয়নি, উত্তমও বলা হয়নি। বরং তা শুধু বৈধ বলা হয়েছে।
একজন ব্যক্তি চারটি বিয়ে করতে পারে তবে শর্ত হচ্ছে, তাকে শরীয়ত নির্ধারিত অলঙ্ঘনীয় শর্তাবলী অবশ্যই পূরণ করতে সক্ষম হতে হবে। সেগুলো হল, ন্যায়-পরায়নতা বজায় রাখা, প্রত্যেক স্ত্রীর জৈবিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হওয়া, ভরণ-পোষণ সহ জীবন-যাপনের উপকরণের ব্যবস্থা করা।
মোটকথা, শুধু প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই ইসলাম একাধিক বিবাহের অনুমতি দিয়েছে। আর তাও শর্ত সাপেক্ষে। সমাজের বিভিন্ন প্রকৃতির বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের চাহিদা এবং বাস্তব প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ইসলাম এ অনুমতি প্রদান করেছে।
সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হচ্ছে, যারা ইসলামের এ বিধানকে অনৈতিক এবং এতে নারীদের অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করে তারাই যখন নিজের স্ত্রী বাদ দিয়ে অন্য মহিলাকে ‘র্গাল ফ্রেন্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে তখন তার এটাকে অনৈতিক বলতে নারাজ! তারাই নারীদেরক পণ্যের মত পুরুষের উপভোগের বস্তুতে পরিণত করেছে। নারীর প্রতি এর থেকে চরম অপমান আর কী হতে পারে?
প্রকৃতপক্ষে এই আইনের মাধ্যমে ইসলাম তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে লাঞ্ছনা ও অপমানের হাত থেকে উদ্ধার করে বৈধ পন্থায় সম্মানের সাথে ঘরে স্থান দেয়ার ব্যবস্থা করেছে।
তাই পরিশেষে বলব, একাধিক বিবাহের বৈধতা দিয়ে ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত প্রয়োজন, প্রকৃতিগত চাহিদা এবং নানা সামাজিক সমস্যা সমাধানের পথকে উন্মুক্ত করেছে। নারীকে পরপুরুষের ভোগ্য বস্তু থেকে উদ্ধার করে তাকে মর্যাদা এবং সম্মানের আসনে আসীন করেছে।
তবে প্রয়োজন, ইসলামী আইনের ব্যাপারে মুসলমানদের গণসচেতনতা এবং সঠিকভাবে তা ব্যবহার করা। তাহলেই যে উদ্দেশ্যে ইসলাম এ আইনকে মানবতার কল্যাণে দান করেছে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন॥
-------------------------
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

 

৭৫. একাধিক বিয়ে সম্পর্কে এক মহিলা শাইখার চমৎকার আরবি বক্তৃতার অনুবাদ: Marriage education series

 May be an image of flower

একাধিক বিয়ে সম্পর্কে এক মহিলা শাইখার চমৎকার আরবি বক্তৃতার অনুবাদ
 
"পাশ্চাত্য যে বিষয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে এবং মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ নারী যেটা গ্রহণ করে নিয়েছে সেটি হল, ইসলাম কর্তৃক একজন পুরুষকে চারটি বিয়ের বৈধতা প্রদান।
ইসলাম বাস্তবতা বিবর্জিত কাল্পনিক কোনো জীবনব্যবস্থা নয়। সুতরাং একাধিক বিয়ের বিষয়টি একটি সমস্যার সমাধান যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তা হল, যেমন সমীক্ষা বলছে:
 
পৃথিবীতে মেয়ে শিশুর জন্মের হার ছেলেদের থেকে বেশি, জন্মের পরে মেয়ে শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ার কারণে তাদের তুলনায় ছেলে শিশুর মৃত্যুর হার বেশি, গাড়ি এক্সিডেন্টে যুবতীদের তুলনায় যুবকদের মৃত্যুর হার বেশি, যুদ্ধ-বিগ্রহে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের নিহত হওয়ার সংখ্যা বেশি-যেমনটি আপনারা দেখছেন।
 
তাছাড়া পুরুষদের তুলনায় মহিলারা দীর্ঘজীবী হয়। ফলাফল, নারীর সংখ্যাধিক্য। এটি একটি সমস্যা। সুতরাং সমাধান কি এবং কিভাবে হবে?
 
একাধিক বিয়ে হল, শারীরের রোগমুক্তি এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অস্ত্রপাচারের ন্যায়।
প্রিয় বোন, ওরা তোমাকে (স্ত্রী হিসেবে নয় বরং) বাস্তু চ্যুত গার্ল ফ্রেন্ড হিসেবে পেতে চায়। যেখানে না থাকবে আপনার কোনো অধিকার; না আপনার সন্তানদের অধিকার।
 
ইসলামের নিয়ামতের জন্য সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(চুম্বক অংশের অনুবাদ)
বক্তৃতার লিংক:
 

 
 
 ...
 
------------------
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৭৪. প্রশ্ন: কোনো পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে চাইলে তার জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া কি জরুরি? আর তাদের সবাইকে এক বাড়িতে রাখা কি জায়েজ? Marriage education series

 May be an image of text that says 'প্রশ্ন: কোন পুরুষ চার জন স্থীকে বিয়ে করতে চাইলে প্রত্যেক বউয়ের নিকট কি অনুমতি নেয়া জরুরি? আর সবাইকে এক বাড়িতে রাখা কি জায়েজ? আব্দল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী'

প্রশ্ন: কোনো পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে চাইলে তার জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া কি জরুরি? আর তাদের সবাইকে এক বাড়িতে রাখা কি জায়েজ?
-----------------
উত্তর:
একজন পুরুষ তার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ চারজন বিবাহ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা তাকে এই অধিকার প্রদান করেছেন (দেখুন, সূরা নিসা: ৩)।
ইসলাম এ জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়াকে আবশ্যক করে নি-যদিও আমাদের দেশের মানব রচিত আইনে পূর্বের স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। কিন্তু এ আইনের সাথে ইসলামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক নাই।
একজন পুরুষ একাধিক বিয়ে করলে সে তার সুবিধা অনুযায়ী তাদের থাকার সুব্যবস্থা করবে। একই বাড়িতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা ঘর থাকা জরুরি। তবে যদি প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক বাড়ির ব্যবস্থা করার সামর্থ্য থাকে তাহলে তা আরও ভালো।
কিন্তু একই ঘরে এক স্ত্রীর সাক্ষাতে আরেক স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্কিত বিনোদন মূলক কার্যক্রম করা হারাম।
----------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
fb id:AbdullaahilHadi
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৭৩. যে সকল মেয়েদের বিভিন্ন কারণে বিয়ে হচ্ছে না তাদের প্রতি... Marriage education series

 No photo description available.

যে সকল মেয়েদের বিভিন্ন কারণে বিয়ে হচ্ছে না তাদের প্রতি...
-----------------------
প্রশ্ন: সমাজে কিছু মহিলা আছে, যাদের বিয়ে হয় না বিভিন্ন কারণে। কারো হয়ত শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, কারো অর্থ-সম্পদ বা ভালো ঘরবাড়ি নেই। কাউকে হয়ত অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়ে গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরিতে চাকুরী করতে হচ্ছে। কেউ আবার যৌতুক দিতে পারে না। এমনও কিছু মেয়ে আছে, যাদের দেখাশোনা করার মত কেউ না থাকার কারণে সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে জীবনের সর্বস্ব বিলীন করে দিতে হয়েছে কিন্তু বিনিময়ে তারা কিছুই পায় নি। এ সব কারণে কোনো জীবন সঙ্গীও তাদের কপালে জোটে নি।
এদের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? আসলেই কি বিয়ে না হওয়ার পেছনে তারা দোষী বা এ কারণে তারা গুনাহগার হবে?
উত্তর:
কোন ব্যক্তির-চাই পুরুষ হোক অথবা নারী হোক- বিয়ের আগ্রহ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকার পরও যদি কোনো কারণে বিয়ে না হয় তাহলে সে জন্য সে গুনাহগার হবে না। কারণ সে তার সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করেছে। আর আল্লাহ তাআলা সাধ্যের অতিরিক্ত বান্দার উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না এবং যা তার ক্ষমতার মধ্যে নাই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)
তবে কোন মেয়ে যদি বিয়ের উপযুক্ত বয়সে লেখাপড়া, ক্যারিয়ার, চাকুরী বা নিজের পায়ে দাঁড়ানো ইত্যাদি অজুহাতে বিয়ে বিলম্ব করে কিন্তু পরবর্তীতে আর বিয়ে না হয় অথবা বিয়ের প্রতি অবহেলা বশত: তা থেকে দূরে থাকে তাহলে নি:সন্দেহে সে গুনাহগার হবে। কারণ এটি আল্লাহর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা প্রর্শনের শামিল। আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমীন।
যা হোক, প্রবল ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার পরও বিয়ে সংঘটিত না হলে এ ক্ষেত্রে করণীয় হবে, আল্লাহর ফয়সালার উপর ধৈর্য ধারণ করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নফল রোযা রাখা, নেকির কাজে সময় অতিবাহিত করা, ইসলামের সেবা, মানুষের সেবা, জ্ঞান চর্চা, আল্লাহর পথে দাওয়াত ইত্যাদি অসংখ্য কল্যাণকর পথ খোলা আছে সেগুলোতে সময় কাটানো।
মনে রাখতে হবে, বিয়ে জীবনের একটি অংশ। কিন্তু এটাই সব কিছু নয়। একটি পথ বন্ধ হলেও আল্লাহর পথে জীবন কাটানোর অসংখ্য পথ খোলা আছে-আল হামদুলিল্লাহ।
ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক দিগ্বিজয়ী আলেম ও মনিষীর নাম পাওয়া যায় যারা জীবনে বিয়ে করতে পারেন নি। কিন্তু ইসলাম ও মানবতার সেবায় তাদের কালজয়ী অবদান বিশ্বকে ঋণী করে রেখেছে।
দুনিয়ার জীবনে ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকার স্বত্বেও যদি কারো বিয়ে না হয় এবং এতে সে যদি সবর করে, হারাম থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর দ্বীনের উপর জীবন পরিচালনা করার মাধমে জান্নাতে প্রবেশ করে তাহলে সেখানে মহান আল্লাহ তাকে অফুরন্ত নিয়ামত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জান্নাতি যুবকের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করবেন ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং জীবনে যা কিছুই ঘটুক না কেন হাতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। বরং মনে করতে হবে, নিশ্চয় আল্লাহ যা করেন তাতেই বান্দার কল্যাণ রয়েছে। এমনও হতে পারে, আল্লাহ তাআলা তাকে বিয়ে থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে জীবনের আরও বড় কোনো ফেতনা ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন।
অথবা তাকে দুনিয়ার ছোট নিয়ামত থেকে বঞ্চিত রেখে আখিরাতে বিশাল নিয়ামত দ্বারা প্রতিদান দিবেন-যা তার জন্য দুনিয়ার চেয়ে অনেক অনেক বেশি মুল্যবান।
নিশ্চয় আল্লাহ পরম প্রজ্ঞাময়, অসীম জ্ঞানের অধিকারী এবং সর্বময় কর্ম বিধায়ক।
আল্লাহু আলাম।
--------------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

 

৭০. অভিমানে বিয়ে থেকে বিরত থাকা Marriage education series

 No photo description available.

অভিমানে বিয়ে থেকে বিরত থাকা
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬
প্রশ্ন: জনৈক ব্যক্তি কোনো এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো। কিন্তু কোনো কারণে তার সাথে বিয়ে না হওয়ায় সে দু:খ-অভিমানে জীবনে আর বিয়ে করে নি। এ ব্যাপার ইসলামের কী বলে?
উত্তর:
বিয়ের সামর্থ্য এবং চাহিদা থাকার পরও কেউ যদি কেবল রাগ বা অভিমান বশত: বিয়ে না করে সে গুনাহগার হবে। কারণ তখন ভিন্নপন্থায় জৈবিক চাহিদা পূরণের দিকে ধাবিত হওয়ার এবং বিভিন্ন ধরণের পাপকর্মে লিপ্ত হওয়ার পর্যাপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে।
অবৈধ প্রেম-প্রীতি করার পর তার প্রত্যাশিত মেয়ে/ছেলেকে বিয়ে করতে না পেরে রাগ-অভিমানে সারা জীবন বিয়ে থেকে বিরত থাকার পাপ দ্বিগুণ। একটি হল, অবৈধ প্রেমের পাপ। অন্যটি বিয়ের মত এত গুরুত্বপূর্ণ ইসলামের বিধানকে উপেক্ষা করার পাপ।
দুআ করি, মহান আল্লাহ যেন উক্ত ব্যক্তিকে সুবুদ্ধি দান করেন। আমীন।
এখন তার কর্তব্য হল, অতীত জীবনের পাপাচারের জন্য অনতিবিলম্বে তওবা করা। অত:পর অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করে নতুনভাবে জীবন-সংসার শুরু করে। এটাই তার উপর আবশ্যক-যদি সে বিয়েতে সামর্থ্য বান হয়ে থাকে।
আল্লাহ তাওফিক দানকারী।
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬
উত্তর প্রদান:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৬৯. ছেলে বা মেয়েকে কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করা কি বৈধ? Marriage education series

 May be an image of text that says 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "বিধবাকে তার মতামত ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারীকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না তারা বললেন তার অনুমতি কেমন হবে? তিনি বললেনঃ তার চুপ থাকা।" [সহিহ বুখারি (তাওহীদ) হা/৬৯৭০, অধ্যায়: ৯০/ কুটচাল অবলম্বন] FB page: Guidance2TheRightPath'

ছেলে বা মেয়েকে কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করা কি বৈধ?
▬▬▬●◈●▬▬▬
প্রশ্ন: বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই একটা পছন্দ-অপছন্দ থাকে এবং অনেক সময় পছন্দ না হলে বিয়ের পর হয়ত ফিতনা হতে পারে। তাহলে বাবা মা কি ছেলে বা মেয়ে কে নির্দিষ্ট কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করতে পারে?
উত্তর:
 
ইসলামের দৃষ্টিতে পিতা-মাতার জন্য তাদের ছেলে বা মেয়েকে এমন ব্যক্তির সাথে বিয়েতে বাধ্য করা জায়েজ নাই যাকে সে পছন্দ করে না বা যার সাথে তার বিয়েতে আগ্রহ নেইকারণ বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর পারষ্পারিক আকর্ষণ ও আগ্রহ বোধ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা যদি না থাকে তাহলে এই পবিত্র বন্ধন দ্রুতই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের পূর্বে বরক ও কনে একে অপরকে দেখে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
 
➤ জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
 
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَقَدِرَ أَنْ يَرَى مِنْهَا بَعْضَ مَا يَدْعُوهُ إِلَيْ نكاحها فَلْيَفْعَلْ
 
“তোমাদের কেউ যখন কোন মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা করে তখন যতদূর সম্ভব তাকে দেখে নিয়ে এ মর্মে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত যে, মেয়েটির মধ্যে এমন কিছু আছে যা তাকে বিয়ে করার প্রতি আকৃষ্ট করে।” (আহমদ ও আবু দাউদ)
 
➤ অন্য হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন:
 
انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ‏
 
"তাকে দেখে নাও, তোমাদের মধ্যে এটা ভালবাসার সৃষ্টি করবে।" 
[তিরমিযী, অনুচ্ছেদ: প্রস্তাবিত পাত্রীকে দেখা, শাইখ আলবানী হাদিসটিকে সহিহ সহিহ বলেছেন]
 
এ মর্মে আরও একাধিক হাদিস রয়েছে।
বিয়ের পূর্বে দেখাদেখির বিষয়ে ইসলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এ কারণে যে, বর-কনে যেন একে অপরকে দেখে তাদের নিজস্ব পছন্দ ও অপছন্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু যদি কাউকে তার অপছন্দের ব্যক্তির সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হয় তাহলে সেখানে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা হল যা তাদের দাম্পত্য জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে-এ সম্ভাবনাই বেশি।
 
➤ এ ছাড়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেছেন:
 
لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا كَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ أَنْ تَسْكُتَ
 
"বিধবাকে তার মতামত ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারীকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। তারা বললেন, তার অনুমতি কেমন হবে? তিনি বললেনঃ তার চুপচাপ থাকা।" 
[সহিহ বুখারি (তাওহীদ) হাদিস নম্বরঃ [6970] অধ্যায়: ৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل) পাবলিশারঃ তাওহীদ]
 
অর্থাৎ কুমারী মেয়ের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর সে যদি চুপ থাকে তাহলে তা তার সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। যেমন বাংলা প্রবাদে বলা হয়, নীরবতা সম্মতির লক্ষণ।
 
এ সব হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, বিয়ের ক্ষেত্রে বর ও কনের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো জন্য আল্লাহ প্রদত্ত তাদের এ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নাই। সুতরাং তাদের সম্মতি ছাড়া জোর পূর্বক বিয়েতে বাধ্য করা আল্লাহর নাফরমানির শামিল।
 
✪ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন:
 
"وليس للأبوين إلزام الولد بنكاح من لا يريد ، فإن امتنع لا يكون عاقاً ، كأكل ما لا يريد"
"الاختيارات" (ص 344)
 
"বাবা-মার জন্য তাদের সন্তানকে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহে বাধ্য করার সুযোগ নাই যাকে সে বিয়ে করতে চায় না। অত:এব সে যদি এ ক্ষেত্রে বাবা-মার নির্দেশ না মানে তাহলে সে 'অবাধ্য' হিসেবে গণ্য হবে না- বিষয়টি অনিচ্ছা স্বত্বেও খাওয়ার মত।" (উৎস: আল ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা নং ৩৪৪)
 
সুতরাং ছেলে হোক অথবা মেয়ে হোক কাউকেই তার ইচ্ছার বাইরে কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করার সুযোগ নেই। কেউ যদি তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে অথবা মেয়েকে এমন ব্যক্তির সাথে বিয়েতে বাধ্য করে তাহলে তাদের অধিকার রয়েছে বিয়ে রাখা অথবা ভঙ্গ করারআর সন্তান যদি এ ক্ষেত্রে বাবা-মার নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তাতে তার গুনাহ হবে না বরং বাবা-মা তাদের অনধিকার চর্চার কারণে আল্লাহর নিকট গুনাহগার হবে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
fb id:AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৬৮. মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করার বিধান Marriage education series

 

মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করার বিধান
▬▬▬❖✪❖▬▬▬
প্রশ্ন : মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম কি?পাত্রীকে কি মসজিদে উপস্থিত থাকতে হবে?
মসজিদে বিবাহের সুন্নতি পদ্ধতি জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর : 
 
শরীয়ত বিরোধী গর্হিত কার্যক্রম সংঘটিত না হলে প্রয়োজনে মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়া জায়েজ রয়েছে। কিন্তু মসজিদে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়া সুন্নত বা মুস্তাহাব’ এ কথা সঠিক নয়। যদিও অনেক আলেম তা বলেছেন। কিন্তু কোন সহীহ দলীল দ্বারা এটা প্রমাণিত নয়। কেউ যদি সব সময় নিয়ম করে বিয়ের আকদ মসজিদের মধ্যে করে তবে তা বিদআতে পরিণত হবে। আর যদি মসজিদে গান-বাজনা বা বেপর্দা নারী-পুরুষের সমাবেশ ঘটে তাহলে তা হবে শক্ত হারাম কাজ।
 
উল্লেখ্য যে, মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ জানিয়ে নিম্নোক্ত বর্ণিত হাদিসটি যঈফ। أعلنوا هذا النكاح واجعلوه في المساجد واضربوا عليه بالدفوف
তিরমিযী উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করার পর নিজেই বলেছেন যে, এটি যঈফ বা দুর্বল। ইবনে হাজার এবং আলবানী এটিকে যঈফ বলেছেন।
হাদিসে মসজিদে বেচা-কেনা করা নিষেধ কিন্তু বিয়ে বেচাকেনা নয়। তাই মৌলিকভাবে মসজিদে বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ হলেও এটিকে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলে নিয়মিতভাবে করা বিদআত। (আল্লামা বিন বায রহ. আল্লামা উসাইমীন রহ. প্রমুখ আলেমদের এর ফতোয়ার সারসংক্ষেপ)
 
বি:দ্র: মসজিদে আকদ করার ক্ষেত্রে পাত্রীকে মসজিদে অবস্থান করা জরুরি নয়। প্রয়োজনে থাকতে পারে যদি পরপুরুষদের থেকে আলাদাভাবে পর্দার অন্তরালে থাকে। আল্লাহু আলাম।
••••••••••••••••••••
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, ksa

৬৭. বিয়ের এঙ্গেজমেন্ট এবং ভিডিওর মাধ্যমে পাত্রী দর্শন Marriage education series

 May be an image of text that says 'Guidance he Right ath সঠিক we পথের দিশা Questions Answer for females n hatsapp group by Shaikh/ Abdullahil Jadi bin Abdul উত্তর প্রদানে 一 আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল প্রশ্ন:- পাত্র বিদেশে থাকায় যদি পাত্রীকে আঙটি পরিয়ে বিয়ে ঠিক করে রাখে; সেক্ষেত্রে পাত্রী কি ছেলেকে ভিডিও তে মুখ খোলা রেখে প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবে?'

বিয়ের এঙ্গেজমেন্ট এবং ভিডিওর মাধ্যমে পাত্রী দর্শন
▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰
প্রশ্ন: পাত্র বিদেশে থাকায় যদি পাত্রীকে আংটি পরিয়ে বিয়ে ঠিক করে রাখে। সেক্ষেত্রে পাত্রী কি পাত্রকে ভিডিওতে মুখ খোলা রেখে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলতে পারবে? পাত্রীর যদি নিয়ত থাকে যে, ছেলে যেহেতু পাত্রীকে সামনাসামনি দেখে নি তাই বিয়ের আগে দেখfনোর জন্যে শুধু মুখ দেখানো কি জায়েজ কথা বলার জন্যে ?
উত্তর:
🔸 ১ম কথা হল, কনেকে আংটি পরানো বা এ্যাঙ্গেজমেন্ট ইসলামী সংস্কৃতি নয়। বরং তা অমুসলিমদের থেকে অনেক মুসলিম গ্রহণ করেছে। তাই এ প্রথা থেকে মুসলিমদের বের হয়ে আসার উচিৎ।
আর আংটি দেয়া মানে বিয়ে নয়। আকদ তথা ইজাব-কবুল ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না। এর আগ পর্যন্ত তাদের পরস্পরের মধ্যে পর্দার বিধান পরিপূর্ণ বলবত থাকবে।
 
🔸 ২য় কথা হল, বিয়ের পূর্বে পাত্র-পাত্রী পরস্পরে দেখাদেখি করার ব্যাপারে ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর তা সামনা সামনি হওয়াই উত্তম। তবে দূরত্বের কারণে ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমেও দেখাদেখি করা জায়েয আছে। যদিও এতে প্রকৃত রূপ বা অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয় না। তাই এ বিষয়ে সাবধান হওয়া কর্তব্য।
 
🔸 ৩য় কথা হল, প্রবাসী পাত্র যদি পাত্রীকে ভিডিও মারফত দেখতে চায় তাহলে মেয়ের নিকট মাহরাম পুরুষ তথা বাবা, ভাই, দাদা ইত্যাদি ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এভাবে পাত্রী মুখমণ্ডল খোলা রেখে পাত্রের সাথে বিয়ে সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারে।
 
তবে দেখাদেখির পর পাত্র পাত্রীকে পছন্দ হলে যখন তখন তারা দেখাদেখি বা অপ্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবে না। কারণ যে উদ্দেশ্য কথা বলা বা দেখার অনুমতি ছিল, তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
 
তবে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোদুল্যমান থাকে তাহলে মেয়ের অভিভাকের উপস্থিতিতে একাধিক বার দেখাদেখি করা যাবে বা বিবাহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা যাবে।
 
কিন্তু আংটি পরিয়ে দেয়ার পর নিষ্প্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাত বা কথাবার্তা বলা বৈধ হবে না।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
fb/AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

 

৬৬. প্রশ্ন: আমি জানতে চাই কাবিননামা এবং দেনমোহর কি এক? যদি এক না হয় তাহলে পার্থক্য কি? Marriage education series

 No photo description available.

দেনমোহর ও কাবিননামা
➖➖➖➖➖➖➖➖
প্রশ্ন: আমি জানতে চাই কাবিননামা এবং দেনমোহর কি এক? যদি এক না হয় তাহলে পার্থক্য কি?
উত্তর: দেনমোহর এবং কাবিননামা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। নিম্নে এ দুটি জিনিসের পরিচয় ও পার্থক্য প্রদান করা হল:
🔸 দেনমোহর কী?
মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর হল বিয়ের অন্যতম শর্ত। এই শর্ত অনুযায়ী স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে বিয়ের সময় কিছু অর্থ বা সম্পত্তি পায় বা পাওয়ার অধিকার লাভ করে। দেনমোহর বিয়ের সময়ই ধার্য বা ঠিক করা হয়। এটি স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার।
আল্লাহ কুরআনে বলেন:
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
“আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশী মনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।” (সূরা নিসা: ৪)
🔸 কাবিননামা কী?
কাবিননামা বলতে বিবাহ সম্পাদনের লিখিত চুক্তি বোঝায়। একে নিকাহনামা বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবাহ সম্পাদনের জন্য বা বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ‘কাবিননামা’ অপরিহার্য নয়। কাবিননামা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক মনোনীত কাজী সরকার নির্ধারিত ছকে কাবিননামা সম্পাদন করে থাকেন। স্ত্রীর প্রাপ্য দেনমোহর আদায়, স্ত্রীর ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের পিতৃত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে নিবন্ধিত কাবিননামা একটি আইনি দলিল। (বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ই-তথ্যকোষ)
--------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৬৫. বিয়েতে কাজি (ম্যারেজ রেজিস্ট্রার) এর উপস্থিতি কি জরুরি? Marriage education series

 No photo description available.

বিয়েতে কাজি (ম্যারেজ রেজিস্ট্রার) এর উপস্থিতি কি জরুরি?
▬▬▬◄❖►▬▬▬
প্রশ্ন: আমি এক জায়াগায় পড়েছিলাম যে, “বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে কাজি উপস্থিত থাকা জরুরি নয়। তার কাজটা অন্য কেউ করলেও চলে।” এ কথাটা কি সঠিক?
উত্তর:
বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কাজি তথা ম্যারেজ রেজিস্ট্রার এর উপস্থিতি জরুরি নয়-এ কথা ঠিক। 
 
বরং বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি, দেনমোহর নির্ধারণ ও দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) এর মাধ্যমে আকদ সম্পন্ন হলেই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। 
 
ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে পড়ানোর যোগ্যতা সম্পন্ন যে কোনও মুসলিম তা করতে পারে।
 
 
তবে বর্তমান যুগে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল রোধে কাজির মাধ্যমে সরকারীভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর প্রদান:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব
fb id: AbdullaahilHadi

 

৬৪. ছেলেটিকে তার বাবা-মার পক্ষ থেকে বিয়ে বিলম্ব করতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে অথচ... Marriage education series

 No photo description available.

ছেলেটিকে তার বাবা-মার পক্ষ থেকে বিয়ে বিলম্ব করতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে অথচ...
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
প্রশ্ন: আমার এক দীনি বন্ধুর বিয়ে করা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু তার ফ্যামিলি তাকে বিভিন্ন কথা বলে আরও অপেক্ষা করতে বলে। এখন তার করণীয় কি?
উত্তর:
কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি যদি বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে (দৈহিক ও আর্থিক) এবং বিয়ে না করলে অবৈধ যৌনাচার বা হারাম কর্মে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তার বাবা-মা, পরিবার, লেখাপড়া, ক্যারিয়ার গঠন, চাকরি ইত্যাদি ওজুহাতে বিয়ে বিলম্ব করা জায়েজ নাই। বরং হারাম থেকে বাঁচতে এবং চরিত্রকে সংরক্ষণ করতে অনতিবিলম্বে তার জন্য বিয়ে করা ফরজ।
 
পক্ষান্তরে যদি দৈহিক সামর্থ্য থাকে কিন্তু আর্থিক অবস্থা এত খারাপ হয় যে, এ মূহুর্তে স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করতে অক্ষম তাহলে তার জন্য করণীয় হল, রোজা রাখা। কেননা, রোজার মাধ্যমে মানুষের জৈবিক চাহিদা অবদমিত থাকে।
 
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
 
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ؛ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
 
“হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখতে এবং লজ্জা স্থানকে সংযত করতে সব চেয়ে বেশি সহায়ক। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম (রোজা) পালন করে। কেননা তা প্রবৃত্তিকে দমন করে।” [বুখারী ১৯০৫, ৫০৬৫ ও মুসলিম ১৪০০].
 
উল্লেখ্য যে, ইসলামে কোন পুরুষের জন্য বিয়ের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার সম্মতি নেয়াকে আবশ্যক করা হয় নি। 
 
সুতরাং বাবা-মা যদি তার বিয়ে দিতে রাজি হয় তাহলে তো ভালো কিন্তু যদি তারা বিয়ে দিতে রাজি না হয় তাহলে নিজের ঈমান, আখলাক ও ইজ্জত হেফাজতের স্বার্থে সে নিজে নিজে কোন মেয়েকে তার বাবা বা অভিভাবকের সম্মতি ক্রমে বিয়ে করে ঘর-সংসার শুরু করতে পারে। 
 
এতে বাবা-মা যদি তার উপর রাগ করে বা বদ দু্আ করে তাহলে তাতে সন্তান গুনাহগার হবে না এবং উক্ত বদদুআ আল্লাহর নিকট কার্যকর হবে না। কারণ সে আল্লাহর বিধান মেনে বিয়ে করেছে।
 
বরং এ ক্ষেত্রে পিতা-মাতা যদি বাধা দেয়, রাগ, গালাগালি বা বদদুআ করে তাহলে তারা গুনাহগার হবে। কারণ তারা এ ক্ষেত্রে অন্যায় করেছে; সন্তান নয়।
 
তবে পিতা-মাতাকে রাজি-খুশি করে বিয়ে করা উত্তম তাতে কোন সন্দেহ নাই।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
 
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
FB ID: AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

৬৩. ক্রসিং বিয়ে: কখন বৈধ কখন অবৈধ Marriage education series

 No photo description available.

ক্রসিং বিয়ে: কখন বৈধ কখন অবৈধ
▬▬▬❣💚❣▬▬▬
প্রশ্ন: এক দীনি ভায়ের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। অন্য আরেক দীনি ভায়ের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তারা দুই ছেলে মেয়ের সাথে দুই ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিতে চায়। এভাবে কি বিয়ে দেয়া যাবে? শরিয়তে কি এমন ক্রসিং বিয়ে নিষিদ্ধ?
উত্তর:
নিকাহে শিগার বা ক্রসিং বিয়ে (যাকে অদল-বদল বিয়েও বলা হয়) এর তিনটি পদ্ধতি আছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হারাম, আরেকটি বিরোধপূর্ণ হলেও সঠিক মতানুযায়ী হারাম এবং আরেকটি হালাল।
নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
➰ ১ম পদ্ধতি-হারাম:
যদি কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলে যে, আমি আমার ছেলেকে তোমার মেয়ের সাথে বিয়ে দিব। তবে শর্ত হল, তোমার ছেলেকে আমার মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে কোনো মোহর থাকবে না।
অথবা এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে প্রস্তাব দিলো, তুমি আমার সাথে তোমার মেয়েকে অথবা বোনকে বিয়ে দাও এবং তার পরিবর্তে আমি আমার মেয়েকে অথবা বোনকে তোমার সাথে বিয়ে দিবো। আর এতে কোন মোহর থাকবে না।
অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় থাকবে। যথা:
▪ এক. বিয়েতে এই শর্ত থাকবে যে, 'একে অপরের ছেলে/মেয়ের বিয়ে দিবে বা অদল-বদল বিয়ে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে বিয়ে হবে না।
▪ দুই. উপরোক্ত শর্তানুযায়ী বিয়েকেই মোহরের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। আলাদা কোনো আর্থিক মোহর নির্ধারণ করা হবে না।
এটি নিষিদ্ধ শিগার বা ক্রসিং বিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এটি হারাম।
এ মর্মে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। 
 
💠 তন্মধ্যে একটি হল:
 
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهى عَنِ الشِّغَارِ الشِّغَارُ أَنْ يُزَوِّجَ الرَّجُلُ ابْنَتَهُ عَلَى أَنْ يُزَوِّجَهُ الآخَرُ ابْنَتَهُ، لَيْسَ بَيْنَهُمَا صَدَاقٌ
 
ইবনে ‘উমার (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিগার নিষিদ্ধ করেছেন।
‘শিগার’ হলোঃ "কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য এক ব্যক্তির পুত্রের সাথে বিয়ে দিবে এবং তার কন্যা নিজের পুত্রের সাথে বিয়ে দিবে এবং এক্ষেত্রে কোনো মোহর থাকবে না।" (বুখারী পর্ব ৬৭/২৭ হাঃ ৫১১২, মুসলিম ১৬/৬ হাঃ ১৪১৫)
 
💠 আরেকটি হাদিস হল:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الشِّغَارِ وَالشِّغَارُ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ زَوِّجْنِي ابْنَتَكَ أَوْ أُخْتَكَ عَلَى أَنْ أُزَوِّجَكَ ابْنَتِي أَوْ أُخْتِي وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا صَدَاقٌ
 
ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিগার বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন।
বর্ণনাকারী বলেন, শিগার বিবাহ এই যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে প্রস্তাব দিলো, তুমি আমার সাথে তোমার মেয়েকে অথবা বোনকে বিয়ে দাও এবং তার পরিবর্তে আমি আমার মেয়েকে অথবা বোনকে তোমার সাথে বিয়ে দিবো, আর এতে কোন মাহর থাকে না। [সহীহুল বুখারী ৫১১২, ৬৯২০, মুসলিম ১৪১৫]
 
➰ ২য় পদ্ধতি- অগ্রাধিকার যোগ্য মতে হারাম:
উপরে বর্ণিত হুবহু একই পদ্ধতি। তবে পার্থক্য হল, এখানে আর্থিক মোহর নির্ধারণ করা হবে (কম বেশি যাই হোক)।
অর্থাৎ এখানে 'একে অপরের ছেলে/মেয়ের বিয়ে বা আদল-বদল বিয়ের' শর্ত ঠিক থাকবে। কিন্তু পাশাপাশি মোহরও নির্ধারণ করা হবে।
এ বিয়ের ব্যাপারে দ্বিমত থাকলেও সঠিক কথা হল, এটিও নিষিদ্ধ শিগার বা ক্রসিং বিয়ের অন্তর্ভুক্ত। এটি হারাম। কেননা, এখানে বদল বিয়ের শর্তারোপ করা হয়েছে। সুতরাং তা ‘শিগার’ বিয়ে হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এ পক্ষে মত দিয়েছেন আল্লামা বিন বায এবং সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (লাজনাহ দায়েমা)। 
 
➰ ৩য় পদ্ধতি- বৈধ/হালাল:
উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী একে অপরের মেয়ে বা বোনের বিবাহ দিবে। কিন্তু এখানে উপরোক্ত দুটি জিনিস থাকবে না। যথা:
▪ এক. একে অপরের মেয়ে বা বোনের বিয়ের শর্ত থাকবে না। অর্থাৎ এক বিয়ের সাথে অপর বিয়ে নির্ভরশীল হবে না।
▪ দুই. উভয় পক্ষের ছেলে/মেয়ের বিয়ে যথারীতি মোহর থাকবে।
 
এই বিয়ে হালাল। এটি নিষিদ্ধ শিগার বা ক্রসিং বিয়ের অন্তর্গত নয়।
 
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত বিয়ে যদি ৩য় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে তা বৈধ; অন্যথায় বৈধ নয়। অর্থাৎ উক্ত বিয়েতে অদল-বদল বিয়ের শর্তারোপ থাকবে না এবং শরিয়ত সম্মত পদ্ধতিতে মোহর নির্ধারণ করা হবে। তাহলে তা বৈধ হবে।
আল্লাহু সবচেয়ে ভালো জানেন।
▬▬▬❣💚❣▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
fb/AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব